দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বেশকিছু হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নে বিজয়ী-পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনায় দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার রাতে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের ও দুজন গ্রেফতার হয়েছে। রবিবার(২৬মে) দু’পক্ষই ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে কলতাপাড়া ও গাজীপুর বাজারে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সমাবেশে উভয় পক্ষই আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানায়।
গত ২১মে গৌরীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি ফলাফলে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হন আনারস প্রতীকের সোমনাথ সাহা। নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব ছিলেন দোয়াত-কলম প্রতীকের মোফাজ্জল হোসেন খান।
স্থানীয়রা জানান, ডৌহাখলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুম নির্বাচনে দোয়াত-কলম প্রতীকের পক্ষে কাজ করেন। ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল হক সরকার নির্বাচনে কাজ করেন আনারস প্রতীকের পক্ষে।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের পরের দিন ২২মে বিকালে সাড়ে ৫টার দিকে আনারস প্রতীকের লোকজন উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান কাইয়ুমের ওপর হামলা ও গুলি করার পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে।
এ ঘটনায় এমএ কাইয়ুম বাদী হয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক সহ নাম উল্লেখ ৬ জন ও অজ্ঞাত ২০/২২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
এর আগে ২২ মে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে দোয়াত-কলম প্রতীকের লোকজন ডৌহাখলা ইউনিয়নের নন্দীগ্রামে আনারস প্রতীকের কর্মী নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে হামলা করে তার পরিবারের সদস্যদের আহত করে। এ ঘটনায় নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে ডৌহাখলা ইউপি চেয়ারম্যান এমএ কাইয়ুমসহ নাম উল্লেখ ১০জন ও অজ্ঞাত ৪০/৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
এমএ কাইয়ুমের ওপর হামলার প্রতিবাদে রোববার বেলা ১১টায় ডৌহাখলা ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে কলতাপাড়া বাজারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ওইদিন বেলা ১২ টার দিকে শহীদুল হকের কর্মীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। ওই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে হামলা করায় ইউপি চেয়ারম্যান কাইয়ুমকে গ্রেফতারের দাবি জানায় তারা।
ইউপি চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম বলেন, সন্ত্রাসীদের কারণে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এখন ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আমার ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
শহীদুল হক সরকার বলেন, আনারসের নির্বাচন করায় কাইয়ুমের লোকজন আমাদের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা করে তাদের আহত করেছে। তাকে গ্রেফতারেরর দাবি জানাচ্ছি। আর আমি তার সাথে নির্বাচন করায় ষড়যন্ত্র করে আমাকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় উপজেলার কলতাপাড়া, গাজীপুর বাজারে দোকানপাট, গোবিন্দপুর বাজারে কামাল তালুকদারসহ পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বেশকিছু দোকানপাটে হামলাকরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এছাড়া পালান্দর গ্রামের পরাজিত প্রার্থীর সমর্থক আবুচান(৭০) এর উপর হামলা এবং রিক্সাচালক শহিদ মিয়ার বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট করা হয়।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দুপক্ষই মামলা করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান কাইয়ুমের দায়েরকৃত মামলার আসামি তমাল খান পাঠান ও রিপন শেখ এই দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। দুই মামালার অন্যান্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।





















