০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪

‘তুফান’ নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ, জবাব দিল আলফা আই

ঈদে আসছে রায়হান রাফী পরিচালিক নতুন সিনেমা ‘তুফান’। ইতোমধ্যে এর গান, টাইটেল ট্র্যাক দর্শককে মুগ্ধ করেছে। আসন্ন ঈদে মুক্তির মিছিলে এগিয়ে রয়েছে চিত্রনায়ক শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘তুফান’। সদ্য সিনেমাটি আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে।

সিনেমাটি পরিচালনা করছেন রায়হান রাফী, প্রযোজনা করেছে আলফা আই স্টুডিওজ লিমিটেড। সঙ্গে আছে চরকি ও ভারতের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ। তুফান বাংলাদেশের সিনেমা হলেও শুটিং হয়েছে ভারতে।

বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ভারতীয় শিল্পীরাও। সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক-নেতিবাচক দুই মত উঠে এসেছে। এবার তুফানের অর্থায়ন ও নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের প্রযোজকেরা।

সিনেপ্লেক্সে দেশের সিনেমা, হলের মানোন্নয়ন, ঈদের সিনেমাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে গত মঙ্গলবার বিএফডিসিতে কথা বলেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯ সংগঠনের নেতারা। সেখানেই তুফান সিনেমার নির্মাণপ্রক্রিয়া ও অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রযোজকেরা। প্রযোজক আরশাদ আদনান বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি তুফানের বাজেট ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা। এখন যদি প্রশ্ন করা হয় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা সেখানে কীভাবে নেয়া হয়েছে? তারা কি এনবিআরের ছাড়পত্র নিয়েছেন?

আরশাদ আদনান আরও বলেন, ৬০ লাখ বা ৮০ লাখ টাকা এনবিআরকে দেখিয়ে ওখানে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার সিনেমা বানাল। বিদেশে কাজ করার একটি নিয়মনীতি তো আছে। দেখানো হয়েছে শাকিব খান ও চঞ্চল চৌধুরীর পেমেন্ট বাংলাদেশে পরিশোধ হয়েছে। তিন শিফট কাজ করে কি ৬০ লাখ টাকা দিয়ে পুরো সিনেমাটা বানানো আদৌ সম্ভব?

অন্যদিকে ১৯ সংগঠনের আহ্বায়ক প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘আমাদের দেশের সিনেমার কথা বলে শুটিংসহ যাবতীয় কাজ হচ্ছে সেখানে (ভারতে)। শুধু আমাদের দু-একজন শিল্পী কাজ করছে। একটি ফুল প্যাকেজ সেখানে বানিয়ে আমাদের দেশে মুক্তি দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি বিলীন হয়ে যাবে।

এসব অভিযোগ নিয়ে এবার কথা বলেছেন তুফান সিনেমার প্রযোজক আলফা আইয়ের কর্ণধার শাহরিয়ার শাকিল। একটি সংবাদমাধ্যমে শাহরিয়ার শাকিল বলেন, ‘প্রথমেই সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই তুফান যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নয়। তুফান বাংলাদেশের সিনেমা। যার প্রযোজক আলফা আই স্টুডিওজ লিমিটেড। এর ডিজিটাল পার্টনার চরকি আর ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার এসভিএফ। বাংলাদেশে যত নিয়মকানুন তা মেনেই নির্মিত হয়েছে তুফান। তথ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর, সেন্সর বোর্ডের সব নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছে বলেই আমরা সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছি।’

আরশাদ আদনানের অভিযোগের প্রসঙ্গে শাকিল বলেন, ‘এর আগেও এই সিনেমা নিয়ে নানাভাবে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা সেগুলো আমলে নিইনি। এখন যে প্রশ্নগুলো উঠছে এটা একেবারেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারও মনে যদি প্রশ্ন থাকে, তাহলে তথ্য মন্ত্রণালয় ও এনবিআর থেকে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারে। আমার মনে হয়, তাদের কাছে ইনফরমেশনের ঘাটতি আছে। আমাদের কাছে তারা জানতে চাইতে পারত। কিন্তু এভাবে সিনেমা আটকানোর চেষ্টা কিংবা না জেনে এমন বক্তব্য দেয়া উচিত নয়।’

নব্বইয়ের দশকের ঢাকার এক গ্যাংস্টার নিয়ে তৈরি হয়েছে তুফানের চিত্রনাট্য। শাকিব খানের সঙ্গে আছেন ঢাকার নাবিলা ও কলকাতার মিমি চক্রবর্তী। বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে চঞ্চল চৌধুরীকে। ‘তুফান’-এ শাকিব খান ও চঞ্চল ছাড়াও অভিনয় করছেন মিমি চক্রবর্তী, নাবিলা, মিশা সওদাগর প্রমুখ। সম্প্রতি সিনেমাটির গান ‘লাগে উরাধুরা’ মুক্তি পায়। এরপর থেকে দুই বাংলার নতুন করে আলোচিত আসন্ন সিনেমাটি। ঢালিউড সুপার স্টার শাকিব খান ও পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী পৌনে ৩ মিনিটের এ গানে নেচে-গেয়ে মাতিয়েছেন। গানটিতে আরো দেখা যায় সংগীত পরিচালক প্রীতম হাসান ও শেষ দৃশ্যে স্বয়ং পরিচালক রায়হান রাফিকে।

বিজনেস বাংলাদেশ/BH

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

‘তুফান’ নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ, জবাব দিল আলফা আই

প্রকাশিত : ০৫:১৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪

ঈদে আসছে রায়হান রাফী পরিচালিক নতুন সিনেমা ‘তুফান’। ইতোমধ্যে এর গান, টাইটেল ট্র্যাক দর্শককে মুগ্ধ করেছে। আসন্ন ঈদে মুক্তির মিছিলে এগিয়ে রয়েছে চিত্রনায়ক শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘তুফান’। সদ্য সিনেমাটি আনকাট ছাড়পত্র পেয়েছে।

সিনেমাটি পরিচালনা করছেন রায়হান রাফী, প্রযোজনা করেছে আলফা আই স্টুডিওজ লিমিটেড। সঙ্গে আছে চরকি ও ভারতের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ। তুফান বাংলাদেশের সিনেমা হলেও শুটিং হয়েছে ভারতে।

বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ভারতীয় শিল্পীরাও। সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক-নেতিবাচক দুই মত উঠে এসেছে। এবার তুফানের অর্থায়ন ও নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের প্রযোজকেরা।

সিনেপ্লেক্সে দেশের সিনেমা, হলের মানোন্নয়ন, ঈদের সিনেমাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে গত মঙ্গলবার বিএফডিসিতে কথা বলেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯ সংগঠনের নেতারা। সেখানেই তুফান সিনেমার নির্মাণপ্রক্রিয়া ও অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রযোজকেরা। প্রযোজক আরশাদ আদনান বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি তুফানের বাজেট ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা। এখন যদি প্রশ্ন করা হয় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা সেখানে কীভাবে নেয়া হয়েছে? তারা কি এনবিআরের ছাড়পত্র নিয়েছেন?

আরশাদ আদনান আরও বলেন, ৬০ লাখ বা ৮০ লাখ টাকা এনবিআরকে দেখিয়ে ওখানে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার সিনেমা বানাল। বিদেশে কাজ করার একটি নিয়মনীতি তো আছে। দেখানো হয়েছে শাকিব খান ও চঞ্চল চৌধুরীর পেমেন্ট বাংলাদেশে পরিশোধ হয়েছে। তিন শিফট কাজ করে কি ৬০ লাখ টাকা দিয়ে পুরো সিনেমাটা বানানো আদৌ সম্ভব?

অন্যদিকে ১৯ সংগঠনের আহ্বায়ক প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘আমাদের দেশের সিনেমার কথা বলে শুটিংসহ যাবতীয় কাজ হচ্ছে সেখানে (ভারতে)। শুধু আমাদের দু-একজন শিল্পী কাজ করছে। একটি ফুল প্যাকেজ সেখানে বানিয়ে আমাদের দেশে মুক্তি দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি বিলীন হয়ে যাবে।

এসব অভিযোগ নিয়ে এবার কথা বলেছেন তুফান সিনেমার প্রযোজক আলফা আইয়ের কর্ণধার শাহরিয়ার শাকিল। একটি সংবাদমাধ্যমে শাহরিয়ার শাকিল বলেন, ‘প্রথমেই সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই তুফান যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নয়। তুফান বাংলাদেশের সিনেমা। যার প্রযোজক আলফা আই স্টুডিওজ লিমিটেড। এর ডিজিটাল পার্টনার চরকি আর ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার এসভিএফ। বাংলাদেশে যত নিয়মকানুন তা মেনেই নির্মিত হয়েছে তুফান। তথ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর, সেন্সর বোর্ডের সব নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছে বলেই আমরা সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছি।’

আরশাদ আদনানের অভিযোগের প্রসঙ্গে শাকিল বলেন, ‘এর আগেও এই সিনেমা নিয়ে নানাভাবে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা সেগুলো আমলে নিইনি। এখন যে প্রশ্নগুলো উঠছে এটা একেবারেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারও মনে যদি প্রশ্ন থাকে, তাহলে তথ্য মন্ত্রণালয় ও এনবিআর থেকে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারে। আমার মনে হয়, তাদের কাছে ইনফরমেশনের ঘাটতি আছে। আমাদের কাছে তারা জানতে চাইতে পারত। কিন্তু এভাবে সিনেমা আটকানোর চেষ্টা কিংবা না জেনে এমন বক্তব্য দেয়া উচিত নয়।’

নব্বইয়ের দশকের ঢাকার এক গ্যাংস্টার নিয়ে তৈরি হয়েছে তুফানের চিত্রনাট্য। শাকিব খানের সঙ্গে আছেন ঢাকার নাবিলা ও কলকাতার মিমি চক্রবর্তী। বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে চঞ্চল চৌধুরীকে। ‘তুফান’-এ শাকিব খান ও চঞ্চল ছাড়াও অভিনয় করছেন মিমি চক্রবর্তী, নাবিলা, মিশা সওদাগর প্রমুখ। সম্প্রতি সিনেমাটির গান ‘লাগে উরাধুরা’ মুক্তি পায়। এরপর থেকে দুই বাংলার নতুন করে আলোচিত আসন্ন সিনেমাটি। ঢালিউড সুপার স্টার শাকিব খান ও পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী পৌনে ৩ মিনিটের এ গানে নেচে-গেয়ে মাতিয়েছেন। গানটিতে আরো দেখা যায় সংগীত পরিচালক প্রীতম হাসান ও শেষ দৃশ্যে স্বয়ং পরিচালক রায়হান রাফিকে।

বিজনেস বাংলাদেশ/BH