০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪

এসআই মিজানের দুরদর্শি নেতৃত্বে ক্লুলেস চুরি মামলার রহস্য উদঘাটনে গ্রেপ্তার: ২

সাম্প্রতিক সময়ে রামপুরা থানাধীন বনশ্রীস্থ এ ব্লক এন-এস রোডের বাড়ী নং-১/৩ এর তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া (ভিকটিম) বাদীর মামা সুকুমার সরকার উক্ত বাসা থেকে সকালে হাঁটার জন্য ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে লক না করেই বের হয়ে যায়।

পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা চোরেরা বর্ণিত ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে চারটি এন্ড্রয়েড ফোন,যাহার মধ্যে দুইটি আইফোন একটি স্মার্ট টিভি ও একটি এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপসহ একটি ওয়ালেটের মধ্যে থাকা ৩০০০/নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

উক্ত ঘটনায় রামপুরা থানায় একটি চুরির মামলা রুজু হয়। মামলা রুজু হওয়ার পরপর রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মসিউর রহমান এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা বনশ্রীর ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান এর সুযোগ্য নেতৃত্বে ফাঁড়ির চৌকস এক দল উক্ত ঘটনার তদন্তে নামে।

ঘটনাস্থল বাসা থেকে চোরদের আসার পথে (বনশ্রী থেকে মিরপুর নির্ঝর এলাকা পর্যন্ত) পিছনের প্রায় শতাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ভিডিও এনালাইসিস করলে দেখা যায়,৩ জন ব্যক্তি মিরপুর নির্ঝর এলাকা হইতে একটি সিনএনজি যোগে রামপুরা ব্রিজ সংলগ্ন হাতিরঝিলে এসে নামে এবং পরবর্তীতে রামপুরা ব্রীজ হয়ে পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থল বাসায় দুইজন প্রবেশ করে উল্লেখিত মালামাল চুরি করে সকাল ৬ঃ৭ ঘটিকায় বের হয়ে যায় এবং তৃতীয় একজন ব্যক্তি বাইরে থেকে ঘটনাটা মনিটর করতে থাকে।

শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনাকালে রামপুরা ব্রীজসহ তিনটি পৃথক জায়গায় আসামীদের কথোপকথন পাওয়া গেলে, উক্ত কথোপকথনের সূত্র ধরে সবগুলো মোবাইল কোম্পানি অপারেটরের লেক সেল এনালাইসিস করে প্রায় ৭০০০ (সাতহাজার) নাম্বার থেকে ফিল্টার ও শর্টআউট করে ৩টি মোবাইল নাম্বার সাসপেক্ট হিসেবে সনাক্ত করে নাম্বারগুলোর সিডিআর এবং এনআইডি যাচাই-বাছাই করলে সিসিটিভি ফুটেজ ক্যামেরার ভিডিওতে চুরির ঘটনার জড়িত ব্যক্তিদের সাথে হুবুহু মিলে যায়৷

তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামীদের অবস্থান জেনে রামপুরা থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া থানা এলাকা হইতে চুরির ঘটনায় জড়িত ১ জন আসামীকে আটক করে এবং ধৃত আসামীর সনাক্ত মোতাবেক তাদের চোরচক্রের অপর একজন সক্রিয় সহযোগী চোরকে আটক করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের পুলিশ রিমান্ডে পাইয়া, রামপুরা থানা পুলিশ পুনঃ আসামীদেরসহ কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ঘটনায় চুরি যাওয়া আইফোন-২টি আইফোন ও একটি ল্যাপটপ ও স্মার্ট টিভি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়৷

এই বিষয়ে রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আসামীরা একটা সংঘবদ্ধ পেশাদার চোরচক্র।রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ভাবে চুরি করা তাদের মুল পেশা ।

যারা ঢাকা শহরসহ দেশের সকল বড় শহরগুলোতে বাসা বাড়ীতে সুযোগ বুঝে তালা/গ্রীল কেটে এবং বিভিন্ন কৌশলে চুরি করে বেরায়।

তিনি আরো বলেন,কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া থানাধীন মধ্যম সেনেরঘোনা (কোনাখালী) গ্রামের প্রায় ৮০% যুবক পুরুষ চুরির পেশায় জড়িত এবং বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য চুরির মামলা রয়েছে।চুরিই যাদের একমাত্র পেশা। যারা বংশ পরম্পরায় চুরির পেশায় নিয়োজিত হয়ে দেশব্যাপী চুরি করে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে চোরাই মালামাল সমূহ সংগ্রহ পূর্বক ১টি গ্রুপ বিক্রি করে থাকে। আলোচ্য চুরির ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মনছুর ও হেলাল আপন দুইভাই। অপরদিকে এই চোরচক্রের গ্রেফতারকৃত সক্রিয় সহযোগী মানিক চোর ও আলোচ্য চুরির ঘটনায় জড়িত মজিদ চোর আপন দুই ভাই৷ এই চক্রের সাথে আরো কারা কারা আছেন সেটাও আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি বলে জানান তিনি।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ।

বিজনেস বাংলাদেশ/DS

ট্যাগ :

এসআই মিজানের দুরদর্শি নেতৃত্বে ক্লুলেস চুরি মামলার রহস্য উদঘাটনে গ্রেপ্তার: ২

প্রকাশিত : ০১:১৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪

সাম্প্রতিক সময়ে রামপুরা থানাধীন বনশ্রীস্থ এ ব্লক এন-এস রোডের বাড়ী নং-১/৩ এর তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া (ভিকটিম) বাদীর মামা সুকুমার সরকার উক্ত বাসা থেকে সকালে হাঁটার জন্য ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে লক না করেই বের হয়ে যায়।

পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা চোরেরা বর্ণিত ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে চারটি এন্ড্রয়েড ফোন,যাহার মধ্যে দুইটি আইফোন একটি স্মার্ট টিভি ও একটি এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপসহ একটি ওয়ালেটের মধ্যে থাকা ৩০০০/নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

উক্ত ঘটনায় রামপুরা থানায় একটি চুরির মামলা রুজু হয়। মামলা রুজু হওয়ার পরপর রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মসিউর রহমান এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা বনশ্রীর ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান এর সুযোগ্য নেতৃত্বে ফাঁড়ির চৌকস এক দল উক্ত ঘটনার তদন্তে নামে।

ঘটনাস্থল বাসা থেকে চোরদের আসার পথে (বনশ্রী থেকে মিরপুর নির্ঝর এলাকা পর্যন্ত) পিছনের প্রায় শতাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ভিডিও এনালাইসিস করলে দেখা যায়,৩ জন ব্যক্তি মিরপুর নির্ঝর এলাকা হইতে একটি সিনএনজি যোগে রামপুরা ব্রিজ সংলগ্ন হাতিরঝিলে এসে নামে এবং পরবর্তীতে রামপুরা ব্রীজ হয়ে পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থল বাসায় দুইজন প্রবেশ করে উল্লেখিত মালামাল চুরি করে সকাল ৬ঃ৭ ঘটিকায় বের হয়ে যায় এবং তৃতীয় একজন ব্যক্তি বাইরে থেকে ঘটনাটা মনিটর করতে থাকে।

শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনাকালে রামপুরা ব্রীজসহ তিনটি পৃথক জায়গায় আসামীদের কথোপকথন পাওয়া গেলে, উক্ত কথোপকথনের সূত্র ধরে সবগুলো মোবাইল কোম্পানি অপারেটরের লেক সেল এনালাইসিস করে প্রায় ৭০০০ (সাতহাজার) নাম্বার থেকে ফিল্টার ও শর্টআউট করে ৩টি মোবাইল নাম্বার সাসপেক্ট হিসেবে সনাক্ত করে নাম্বারগুলোর সিডিআর এবং এনআইডি যাচাই-বাছাই করলে সিসিটিভি ফুটেজ ক্যামেরার ভিডিওতে চুরির ঘটনার জড়িত ব্যক্তিদের সাথে হুবুহু মিলে যায়৷

তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামীদের অবস্থান জেনে রামপুরা থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া থানা এলাকা হইতে চুরির ঘটনায় জড়িত ১ জন আসামীকে আটক করে এবং ধৃত আসামীর সনাক্ত মোতাবেক তাদের চোরচক্রের অপর একজন সক্রিয় সহযোগী চোরকে আটক করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের পুলিশ রিমান্ডে পাইয়া, রামপুরা থানা পুলিশ পুনঃ আসামীদেরসহ কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ঘটনায় চুরি যাওয়া আইফোন-২টি আইফোন ও একটি ল্যাপটপ ও স্মার্ট টিভি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়৷

এই বিষয়ে রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আসামীরা একটা সংঘবদ্ধ পেশাদার চোরচক্র।রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ভাবে চুরি করা তাদের মুল পেশা ।

যারা ঢাকা শহরসহ দেশের সকল বড় শহরগুলোতে বাসা বাড়ীতে সুযোগ বুঝে তালা/গ্রীল কেটে এবং বিভিন্ন কৌশলে চুরি করে বেরায়।

তিনি আরো বলেন,কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া থানাধীন মধ্যম সেনেরঘোনা (কোনাখালী) গ্রামের প্রায় ৮০% যুবক পুরুষ চুরির পেশায় জড়িত এবং বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য চুরির মামলা রয়েছে।চুরিই যাদের একমাত্র পেশা। যারা বংশ পরম্পরায় চুরির পেশায় নিয়োজিত হয়ে দেশব্যাপী চুরি করে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে চোরাই মালামাল সমূহ সংগ্রহ পূর্বক ১টি গ্রুপ বিক্রি করে থাকে। আলোচ্য চুরির ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মনছুর ও হেলাল আপন দুইভাই। অপরদিকে এই চোরচক্রের গ্রেফতারকৃত সক্রিয় সহযোগী মানিক চোর ও আলোচ্য চুরির ঘটনায় জড়িত মজিদ চোর আপন দুই ভাই৷ এই চক্রের সাথে আরো কারা কারা আছেন সেটাও আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি বলে জানান তিনি।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ।

বিজনেস বাংলাদেশ/DS