০৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪

অভিনেতাকে মারধরের পর অভিনেত্রীর কুপ্রস্তাবের অভিযোগ

কয়েকদিন আগেই ছোট পর্দার নির্মাতা ইয়ামিন এলানের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে অভিনয় শিল্পী সংঘে অভিযোগ জানান অভিনেতা মাসুম রেজওয়ান। যেখানে তিনি দাবি করেন, গত মাসের ১৭-১৮ তারিখে আমি ইয়ামিন এলানের একটি নাটকের শুটিং করি, যেটিতে আমার সহশিল্পী ছিলেন সামিয়া অথৈ। শুটিং শেষ করলেও সেটির পেমেন্ট পাইনি আমি। পরিচালকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলে তিনি পরে দেবেন বলে আমাকে জানান।

এরপর ঈদের দিন তার সঙ্গে আমার দেখা হয়। সেসময় চা খেতে খেতে তিনি আমাকে জানালেন যে, সামিয়া অথৈ নাকি তার ওপর ক্রাশ খেয়েছেন, তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি শুধু শুনেছি এই বিষয়ে আমি কোনো রিয়েকশন দিইনি। কারণ, তার নামে অনেক অভিনেত্রীরই নানান অভিযোগ শুনেছি আমি, সব নায়িকাদেরই নাকি তিনি ‘প্রস্তাব’ দেন।

আমি যখন সামিয়াকে জানালাম বিষয়টি, তখন সে পরিচালকের কথাগুলোকে বানোয়াট বলে। তখন তাকে আমি এটাও জানাই যে, পরিচালক আগে দুটি বিয়ে করেছিলেন, তার সন্তানও রয়েছে তবুও তিনি নিজেকে সব নায়িকার কাছে সিঙ্গেল দাবি করেন। তখন সামিয়া আমাকে এই পরিচালকের সঙ্গে আর কথা বলতে না করেন। এই বিষয়গুলো জানাজানি হওয়ার পরপরই ইয়ামিন এলান আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমাকে দেখা করতে বলে কিন্তু আমি দেখা করিনি।

এরপর গত শুক্রবার আমার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে সামিয়ার সঙ্গে দেখা করি মোহাম্মদপুর জাপান গার্ডেন সিটির সামনে। সামিয়ার গাড়ির ভেতরে বসে আমরা দুজন কথা বলছিলাম, এ সময় সেই পরিচালক গাড়িতে অনেক সন্ত্রাসী ছেলে-পেলে নিয়ে এসে আমাকে মারধর শুরু করে। আমার গলা, বুকে ও হাতে প্রচণ্ড আঘাত পাই। আমার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে, মানিব্যাগ নিয়ে যায়। আমাকে টেনে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাই।

এদিকে মাসুমের এই অভিযোগের পর অভিনেতার বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। গত ২৯ জুন মধ্যরাতে মাসুম রেজওয়ানের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

জিডিতে অভিনেত্রী দাবি করেছেন, একসঙ্গে কাজের সুবাদে মাসুমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর মাসুম তাকে প্রায়ই বিরক্ত করতেন। এরমধ্যে শনিবার (২৯ জুন) রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের টোকিও স্কয়ারের সামনে তাকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন মাসুম।

অথৈ’র এই অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন মাসুম। তিনি বলেন, ‘অথৈ আমার খুব ভালো বন্ধু। ওর পরিবারের সঙ্গেও আমার পরিচয় রয়েছে। ঈদের মধ্যে ও অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, আমিই ওকে হাসপাতালে নিয়েছিলাম।’

মাসুমের দাবি, পরিচালক হোসনি ইয়ামিনের ‘যোগসাজশে ও প্ররোচনায়’ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন সামিয়া অথৈ। সেই রাতে ঘটনাস্থলে পরিচালক ইয়ামিনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ সামনে আনছেন এই তরুণ অভিনেতা।

সামিয়া অথৈ সাধারণ ডায়েরি করার পর একই দিন (২৯ জুন) বিকেলে পরিচালক ইয়ামিনের বিরুদ্ধে অভিনয় শিল্পী সংঘে অভিযোগ দেন অভিনেতা মাসুম। অভিযোগে মাসুম দাবি করেছেন, সেই রাতে তার সঙ্গে টোকিও স্কয়ারের সামনে দেখা করতে আসেন সামিয়া অথৈ। এর মধ্যে পরিচালক ইয়ামিন অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা করেন। পরিচালক ও তার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। হত্যার হুমকি দেন।

মাসুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে পরিচালক ইয়ামিন এলান বলেন, মাসুম আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে এটা সত্য নয়। মাসুম অথৈ-এর মোবাইল চুরি করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। টোকিও স্কয়ারের সামনে ঘটনার সময় স্থানীয় ছেলেরা তাকে মারধর করে। পরে বাধ্য হয়ে সামিয়ার মোবাইল ফেরত দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার শেষের দিকে আমি গিয়েছিলাম সেখানে। তার নামেই অনেক অভিযোগ রয়েছে যেগুলো সময় হলে প্রমাণসহ সামনে আনব।

অভিনেতা-অভিনেত্রী ও নির্মাতার এই দ্বন্দ্ব নিয়ে সংঘের সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান বলেন, আমাদের কাছে দুই পক্ষের অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। সেটার সত্যতা কতটুকু তা জানার চেষ্টা আমরা করছি। দুই-চারদিনের মধ্যে আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করব।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ওমানে শিয়া মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত ৯, দায়স্বীকার আইএসের

অভিনেতাকে মারধরের পর অভিনেত্রীর কুপ্রস্তাবের অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৩:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০২৪

কয়েকদিন আগেই ছোট পর্দার নির্মাতা ইয়ামিন এলানের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে অভিনয় শিল্পী সংঘে অভিযোগ জানান অভিনেতা মাসুম রেজওয়ান। যেখানে তিনি দাবি করেন, গত মাসের ১৭-১৮ তারিখে আমি ইয়ামিন এলানের একটি নাটকের শুটিং করি, যেটিতে আমার সহশিল্পী ছিলেন সামিয়া অথৈ। শুটিং শেষ করলেও সেটির পেমেন্ট পাইনি আমি। পরিচালকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলে তিনি পরে দেবেন বলে আমাকে জানান।

এরপর ঈদের দিন তার সঙ্গে আমার দেখা হয়। সেসময় চা খেতে খেতে তিনি আমাকে জানালেন যে, সামিয়া অথৈ নাকি তার ওপর ক্রাশ খেয়েছেন, তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি শুধু শুনেছি এই বিষয়ে আমি কোনো রিয়েকশন দিইনি। কারণ, তার নামে অনেক অভিনেত্রীরই নানান অভিযোগ শুনেছি আমি, সব নায়িকাদেরই নাকি তিনি ‘প্রস্তাব’ দেন।

আমি যখন সামিয়াকে জানালাম বিষয়টি, তখন সে পরিচালকের কথাগুলোকে বানোয়াট বলে। তখন তাকে আমি এটাও জানাই যে, পরিচালক আগে দুটি বিয়ে করেছিলেন, তার সন্তানও রয়েছে তবুও তিনি নিজেকে সব নায়িকার কাছে সিঙ্গেল দাবি করেন। তখন সামিয়া আমাকে এই পরিচালকের সঙ্গে আর কথা বলতে না করেন। এই বিষয়গুলো জানাজানি হওয়ার পরপরই ইয়ামিন এলান আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমাকে দেখা করতে বলে কিন্তু আমি দেখা করিনি।

এরপর গত শুক্রবার আমার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে সামিয়ার সঙ্গে দেখা করি মোহাম্মদপুর জাপান গার্ডেন সিটির সামনে। সামিয়ার গাড়ির ভেতরে বসে আমরা দুজন কথা বলছিলাম, এ সময় সেই পরিচালক গাড়িতে অনেক সন্ত্রাসী ছেলে-পেলে নিয়ে এসে আমাকে মারধর শুরু করে। আমার গলা, বুকে ও হাতে প্রচণ্ড আঘাত পাই। আমার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলে, মানিব্যাগ নিয়ে যায়। আমাকে টেনে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাই।

এদিকে মাসুমের এই অভিযোগের পর অভিনেতার বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। গত ২৯ জুন মধ্যরাতে মাসুম রেজওয়ানের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

জিডিতে অভিনেত্রী দাবি করেছেন, একসঙ্গে কাজের সুবাদে মাসুমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর মাসুম তাকে প্রায়ই বিরক্ত করতেন। এরমধ্যে শনিবার (২৯ জুন) রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের টোকিও স্কয়ারের সামনে তাকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন মাসুম।

অথৈ’র এই অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন মাসুম। তিনি বলেন, ‘অথৈ আমার খুব ভালো বন্ধু। ওর পরিবারের সঙ্গেও আমার পরিচয় রয়েছে। ঈদের মধ্যে ও অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, আমিই ওকে হাসপাতালে নিয়েছিলাম।’

মাসুমের দাবি, পরিচালক হোসনি ইয়ামিনের ‘যোগসাজশে ও প্ররোচনায়’ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন সামিয়া অথৈ। সেই রাতে ঘটনাস্থলে পরিচালক ইয়ামিনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ সামনে আনছেন এই তরুণ অভিনেতা।

সামিয়া অথৈ সাধারণ ডায়েরি করার পর একই দিন (২৯ জুন) বিকেলে পরিচালক ইয়ামিনের বিরুদ্ধে অভিনয় শিল্পী সংঘে অভিযোগ দেন অভিনেতা মাসুম। অভিযোগে মাসুম দাবি করেছেন, সেই রাতে তার সঙ্গে টোকিও স্কয়ারের সামনে দেখা করতে আসেন সামিয়া অথৈ। এর মধ্যে পরিচালক ইয়ামিন অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর হামলা করেন। পরিচালক ও তার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। হত্যার হুমকি দেন।

মাসুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে পরিচালক ইয়ামিন এলান বলেন, মাসুম আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে এটা সত্য নয়। মাসুম অথৈ-এর মোবাইল চুরি করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। টোকিও স্কয়ারের সামনে ঘটনার সময় স্থানীয় ছেলেরা তাকে মারধর করে। পরে বাধ্য হয়ে সামিয়ার মোবাইল ফেরত দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার শেষের দিকে আমি গিয়েছিলাম সেখানে। তার নামেই অনেক অভিযোগ রয়েছে যেগুলো সময় হলে প্রমাণসহ সামনে আনব।

অভিনেতা-অভিনেত্রী ও নির্মাতার এই দ্বন্দ্ব নিয়ে সংঘের সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান বলেন, আমাদের কাছে দুই পক্ষের অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে। সেটার সত্যতা কতটুকু তা জানার চেষ্টা আমরা করছি। দুই-চারদিনের মধ্যে আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করব।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে