গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়েছে আমনের বীজতলা হুমকির মুখে পড়েছে দুমকির আমন আবাদ। দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকায় অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়েছে। বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আমন আবাদে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দুমকিতে ৬ হাজার ৬শত ৭০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জমিতে বীজ বপনের উদ্দেশ্যে ৬২০ হেক্টর জমিতে করা হয়েছিল বীজতলা। ইতোমধ্যে জমি তৈরির প্রস্তুতিও নিয়েছেন অনেক কৃষক। বীজ পচে যাওয়ায় কৃষকদের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। এতে আগামী মৌসুমে লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে। স্থানীয় আমন চাষিরা বলছেন, বৃষ্টিতে তেমন ক্ষতি হতো না যদি পানি দ্রুত নেমে যেত। অধিকাংশ স্লুইসগেট নষ্ট থাকায় পানি ওঠানামা করতে পারেনি, যার কারণে দীর্ঘদিন জলমগ্ন থাকায় বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলার শ্রীরামপুর, রাজাখালী, চরবয়েড়া, সন্তোষদী, দক্ষিণ মুরাদিয়া, জলিশা, জামলা, সাতানী, লেবুখালী, কার্তিকপাশা, বাঁশবুনিয়া, আলগী, হাজীরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়। টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় আমনের অধিকাংশ বীজতলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কৃষক ইউছুফ শরীফ, মতি হাওলাদার, চরবয়েড়া এলাকার কৃষক মজিবর গাজী,শামীম মৃধা, মিজান খলিফাসহ আরও অনেকেই জানান, তারা জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় সেই বীজ পানিতে পচে গিয়েছে ।
মুরাদিয়ার সন্তোষদি এলাকার কৃষক মোজাম্মেল মৃধা জানান, পানি নেমে গেলেও বীজগুলো মাটির সাথে শুয়ে পড়েছে।গতকাল থেকে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় সব বীজতলাই নষ্ট হওয়া আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজাখালী এলাকার কৃষক লাল গাজী জানান, এবছরের মত কোন সময়েই বীজ এত নষ্ট হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির কারণে পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে বীজতলা।বর্তমানে পানি নেমে গেলেও বীজগুলো মাটির সাথে শুয়ে পড়েছে।কাল থেকে আবারো বৃষ্টি হওয়ায় বীজতলা তলিয়ে গেছে পর্যাপ্ত রোদ না ওঠলে এ বীজ রোপন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
উপজেলার কোথাও পর্যাপ্ত বীজ না থাকায় অধিকাংশ কৃষকের জমি অনাবাদি থাকার আশংকা রয়েছে।
নতুন করে বীজতলা তৈরির সময়ও নেই। সে ক্ষেত্রে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চাষিরা লোকসানের মুখে পড়বেন বলে দুশ্চিন্তায় দিনযাপন করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন জানান, ভারী বর্ষণে দুমকির নিম্নাঞ্চলসহ অধিকাংশ এলাকাই ডুবে বীজতলা নষ্ট হয়েছে ।কৃষকেরা ইতিমধ্যে দু’দফা বীজতলায় বীজ বুনেছিলেন। সরেজমিন পরিদর্শণ করে বীজ সংকট দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করে রোপনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ উপজেলার কৃষকরা প্রধানত আমনের ওপর নির্ভরশীল। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকের পাশে থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস























