আমের রাজধানী খ্যাত নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় গাছে গাছে এখন আমের মুকুল। মৌ-মৌ গন্ধে সুভাস ছড়াচ্ছে পুরো জনপদ। বিস্তীর্ণ আমবাগানে হলুদাভ মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছের ডালপালা। ভালো ফলনের আশায় এখন বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষিরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি ও আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের আমগাছে এসেছে আশানুরূপ মুকুল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাপাহার উপজেলার আমচাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এবার আল্লাহর রহমতে গাছে গাছে ভালো মুকুল এসেছে। গত বছরের তুলনায় মুকুল কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। আমরা নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে ও পরিচর্যা করছি। আবহাওয়া ঠিক থাকলে ভালো ফলন পাবো বলে আশা করছি।”
আরেক আমচাষি আব্দুর রউফ জানান, “মুকুলের সময়টা খুবই স্পর্শকাতর। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি বা পোকার আক্রমণ হলে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী বালাই দমনে কাজ করছি। ভালো ফলন হলে আমাদের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবো।”
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমের ওপর নির্ভরশীল এ অঞ্চলের হাজারো পরিবার। মৌসুম ভালো হলে শুধু চাষিরাই নন, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হন। তাই মুকুল আসার এই সময়টিকে ঘিরে থাকে বাড়তি প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বলেন, “এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলের অবস্থা সন্তোষজনক। উপজেলায় ব্যাপক পরিসরে আম চাষ হয় এবং এ খাতটি স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এবছর উপজেলায় প্রায় ৯হাজার ২শত ৮০ একর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মুকুল ঝরা রোধ ও পাউডারি মিলডিউসহ বিভিন্ন রোগবালাই দমনে সচেতন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে এবছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।”
মুকুলের সুবাসে এখন প্রাণ ফিরে পেয়েছে আমের রাজধানী সাপাহার। চাষিদের প্রত্যাশা প্রকৃতি সহায় থাকলে কয়েক মাস পরেই বাজারে উঠবে সুস্বাদু ও রসালো সাপাহারের আম, আর তাতে হাসি ফুটবে হাজারো কৃষক পরিবারের মুখে।
ডিএস/






















