চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র হিসেবে আজ রবিবার শপথ নিচ্ছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
ডা. শাহাদাত হোসেনের শপথ গ্রহণ উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকেও অনেক নেতাকর্মী ঢাকা উপস্থিত হয়েছেন। অনেকে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছেন। অন্তত পাঁচ হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় উপস্থিত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালের সামনে চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের ভিড় পড়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে দলীয় কার্যালয়ের সামনে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, রবিবার সকালে শপথ গ্রহণ অনুষ্টান হবে। এরপর চসিক মেয়র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন। সেখানে মাজার জিয়ারত, শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। দুপুর ২ টার সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা নেতাকর্মীদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলের, ঢাকায় একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মেয়রকে বরণ করে নিতে দলীয় লোকজন এসেছেন। কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। সবার মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।
আজ শপথ অনুষ্টান শেষ করে আগামীকাল চট্টগ্রামে ফিরবেন ডা. শাহাদাত হোসেন। মঙ্গলবার তিনি চসিকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। ডা. শাহাদাতের একান্ত সচিব মারুফুল হক চৌধুরী বলেন, শপথ গ্রহণ শেষে চসিক মেয়র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন। সেখানে মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি। ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম ফিরে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন চসিকের নতুন মেয়র।
গত ৮ অক্টোবর রাতে ডা. শাহাদাত হোসেনকে চসিক মেয়র ঘোষণা দিয়েছে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রশাসন শাখা। এরপরই তার শপথের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মধ্যে গত সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, ৩ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে শপথ অনুষ্ঠান হবে।
এর আগে ১ অক্টোবর ডা. শাহাদাত হোসেনকে চসিক মেয়র হিসেবে ঘোষণা দেয় চট্টগ্রামের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল বাতিল চেয়ে দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় দেওয়া হয়।
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের ১ অক্টোবরের আদেশে চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা বাতিল করে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারির গেজেটে উল্লেখ করা নির্বাচনের ফলাফলের ১ নম্বর কলামের ১ নম্বর ক্রমিকের বিপরীতে ২ নম্বর কলামে ‘মো. রেজাউল করিম চৌধুরী’র পরিবর্তে ‘শাহাদাত হোসেন’ এবং ৩ নম্বর কলামে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের’ পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হলো।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মামলা করেছিলেন ডা. শাহাদাত। তার অভিযোগ, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনের ফলাফলে ইসি কর্মকর্তারা ‘কারচুপি’ করেছিলেন। তিনটি ভোটকেন্দ্রে তার শূন্য ভোট দেখানো হলেও তিনদিন পর ২৮টি কেন্দ্রে তার শূন্য ভোট দেখানো হয়-যা অবিশ্বাস্য ও অকল্পনীয়।
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার আন্দোলন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সব সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলরদের অপসারণ করে প্রশাসক বসানো হয়েছিল। এখন সারাদেশের মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম সিটিতেই একজন মেয়র দায়িত্বে থাকবেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস




















