রাজশাহী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার রাত আড়াইটার দিকে মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বোয়ালিয়া থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
নগরীর সাগরপাড়া বটতলা এলাকায় বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম।
গত ১৭ জুলাই নগরীর সাগরপাড়া বটতলায় বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নির্বাচনী পথসভায় পর পর তিনটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হয়।
সেই মামলাতেই বিএনপি নেতা মন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার।
এদিকে মন্টুর পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, পুলিশ মন্টুকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে সে ব্যাপারে তারা জানেন না।
বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল জানান, পুলিশ গভীর রাতে নগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকার বাসা থেকে মন্টুকে ধরে নিয়ে গেছে। বিএনপি নেতা মন্টু সিটি নির্বাচনে দলীয় মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানান বুলবুল।
অন্যদিকে পরিবারের লোকেরা আরো জানিয়েছেন, পুলিশ বিএনপি নেতা মন্টুর লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটিও নিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ১৭ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর সাগরপাড়া বটতলা মোড়ে বুলবুলের নির্বাচনী পথসভা চলছিল। তাতে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রূহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহীন শওকত, জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু ও সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু প্রমুখ।
এ সময় মুখোশ পরা ছয়জন দুর্বৃত্ত তিনটি মোটরসাইকেলে এসে সভাস্থলে পরপর তিনটি ককটেল ছুঁড়ে টিকাপাড়া সড়ক হয়ে পূর্বদিকে চলে যান। ককটেলগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান, বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশনের রাজশাহী প্রতিনিধি পরিতোষ চৌধুরী আদিত্য এবং স্থানীয় স্বপন কর্মকার আহত হন। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন তারা।
এ ঘটনায় আরো ১০-১২ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করছে বিএনপি। এ ঘটনায় পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বিএনপি।




















