সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বরগুনা, কুমিল্লা ও সাতক্ষীরায় তিনজন নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাত ও শনিবার ভোরে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থলগুলো থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
বরগুনা:
বরগুনার পাথরঘাটায় র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কাজল নামে এক জলদস্যু নিহত হয়েছে। শনিবার ভোরে পাথরঘাটার সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মাঝেরচর এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
তবে কাজলের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, বলেশ্বর নদীর সুন্দরবন সংলগ্ন মাঝেরচর এলাকায় জলদস্যুদের অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালায় র্যাব-৮। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে জলদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা। আত্মরক্ষার্থে র্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়।
দুই পক্ষের গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে জলদস্যুরা পিছু হঁটলে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে জলদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য কাজলের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে র্যাব।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মোঃ খবীর বলেন, নিহত জলদস্যু কাজলের মরদেহ পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করবে র্যাব।
কুমিল্লা:
কুমিল্লা নগরীর কাপ্তানবাজার সংলগ্ন গোমতী বেড়িবাঁধ এলাকায় র্যাব ও বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২৭ মামলার আসামি শহীদুল ইসলাম ওরফে সবু মিয়া (৪০) নামে শীর্ষ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সবু মিয়া জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার একবালিয়া গ্রামের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে।
এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, শুক্রবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাব ও বিজিবির পৃথক টহল টিম নগরীর কাপ্তানবাজার সংলগ্ন গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় র্যাব ও বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় মাদক ব্যবসায়ীরা। আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে শহীদুল আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিল্লা র্যাব-১১, সিপিসি-২ কোম্পানি কমান্ডার মেজর আতাউর রহমান জানান, সবু একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের ২০টিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৭টি মামলা রয়েছে।
এদিকে, সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের হোতা রেজাউল নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার নুরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শ্যুটারগান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রেজাউল শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের বাদঘাটা গ্রামের মাজেদ মাঝির ছেলে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, রেজাউল শ্যামনগর থানা চত্বর থেকে পুলিশের মোটরসাইকেল চুরি মামলা ও উপজেলা সদরের আব্দুল্লাহেল বাকী অপহরণ মামলার প্রধান আসামি। এ দুই মামলাসহ তার বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় নয়টি মামলা রয়েছে। গত তিন মাস রেজাউল আত্মগোপনে ছিলো।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ঢাকার মিরপুর থেকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তাকে গ্রেফতার করে শ্যামনগর থানায় সোপর্দ করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার রাতে তাকে নিয়ে শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর এলাকায় চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারে যায় পুলিশ।
তিনি আরো বলেন, এ সময় রেজাউলের বাহিনী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে রেজাউল নিহত হয়। এ সময় তার দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শ্যুটারগান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।




















