০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুরে মাদকের ছড়াছড়ি, হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

ছবি- সংগৃহীত

পুলিশী অভিযানের পরেও থামছে না মাদক ব্যবসা।বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় রাতের আধারে অলিগলিতে বিক্রয় করছে সরর্বনাশা মাদক।আবার মোবাইর ফোনের মাধ্যমে বিক্রয় করা হচ্ছে মাদক।রংপুর জেলা ও নগরীতে অনেক এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি।মাদক ব্যবসা এখন জমজমাট।ভারত থেকে চোরাই পথে আসা মাদক হিলি থেকে মিঠাপুকুরের শুকরের হাট হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শহরে।বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভারত সীমান্ত থেকে মাদক দ্রব্য আনা নেয়ার নিরাপদ রুট হিসাবে তিস্তার চরাঞ্চলকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

মাদকে ভাসছে রংপুর নগরীসহ জেলা।সহজলভ্য হওয়ার মাদকাসক্ততে জড়িয়ে পড়ছেন এক শ্রেনীর শিক্ষক, শিক্ষার্থী,সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ উঠতি রয়সের ছেলে,মেয়েসহ নারীরা।মাদকের নীল দংশনে জর্জরিতহচ্ছে তাদের জীবন। মাদকাসক্তরা তাদের পরিবারের অশান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।প্রতিদিন মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

পুলিশ,র‌্যাব,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন আইনশৃংঙ্খাবাহিনীর অভিযানের র্পও বাসাবাড়ি,আবাসিক হোটেল,পান দোকান,বাস টার্মিনাল ট্রেনে বিক্রয় করা হচ্ছে এ মাদক।তবে পুলিশ বলছেন মাদক ব্যবসা ও সেবনকারীর সংখ্যা কমে গেছে।

গত বছরের চেয়ে চলতি বছর মাদকের বেচা-কেনা বাড়ছে এমন তথ্য প্ওায়া গেছে।গত বছরে পুলিশী তৎপরতা থাকার ফলে মাদক বেচাকেনা অনেক অংশে কম ছিল এমন মতামত দি”েছন বিশেষঙ্গরা।এর ফলে কিশোর অপরাধ বেড়েই চলছে।

রংপুর নগরীসহ জেলায় কিশোর অপরাধ অনেক অংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।নগরীর মোড়ে মোড়ে অল্প বয়সের শিশু ও কিশোর বিভিন্œ অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।তথ্য অনুযায়ী ছিনতাই,চুরি,ডাকাতিসহ ধর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে পুলিশী কার্যক্রম শিথীল থাকার ফলে রংপুর জেলা ও মহানগরীতে মাদকের বিভিন্ন পয়েন্টে বেচাকেনা হচ্ছে।

গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্ট-রংপুর জেলার পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ী,খালাসপীর,চত্বরাবাজার,শানেরহাট,মাদারগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে।জেলার মিঠাপুকুরের গড়ের মাথা,বৈরাগীগঞ্জ,পীরগাছা,গঙ্গাচড়ায় সব চেয়ে বেশি মাদক ব্যবসা হয়ে থাকে।বদরগঞ্জ,তারাগঞ্জ,পাগলাপীর,মহানগীর হারাগাছ,রেলগেট,মর্ডাণ মোড়, মেডিক্যাল মোড়,শ্যামাসুন্দরী খালের দুই পাশে^,ঘাঘট,আলমনগর কলনীসহ অনেক অংশে মাদক বেচাবিক্রয় হচ্ছে।

তবে বেশ কিছু দিন ধরে র‌্যাব,পুলিশের অভিযান করছেন।এর ফলে অনেক মাদক ব্যবসায়ী গা-ঢাকা দিয়ে আছে।এর পর্ওে পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা।

আর মাদক বিক্রেতারা এখন তাদের কৌশল পাল্টেছে বলে মন্তব্য করলেন- রংপুর মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন।তিনি বলেন কাপড়,ফলের ভ্যান নিয়ে চলাচলের সময় বিভিন্ন এলাকার মোড়ে মাদকসেবীদের জটলা চোখে পড়ে,বাতাসে ভেসে আসে গাঁজার গন্ধ।কোথায় যে মাদক বিক্রয় হয় আর কোথায় হয় না, তা বলাই দুঃসাধ্য।

হাউস নামে শহরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সহকারী কাউন্সেলরকে এম ফরিদ জানালেন,ক্রেতাদের আর বিক্রেতাদের কাছে যেতে হচ্ছে না।মোবাইল ফোনে নিজের অবস্থানের কথা বলে দিলেই বিক্রেতা বা তার লোক মাদক পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কাছেই জানা গেল এখন ইয়াবা বড়ি চলছে সবচেয়ে বেশি।ছোট পরিবহন ও সেবনেও সুবিধা।হেরোইন আর ফেনসিডিলের চেয়ে দামেও কম।রংপুরে প্রতি বড়ি ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।ফেনসিডিলের এক বোতল(ডাল বলা হয়) ৮৫০থেকে ১৫শটাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে।তাঁদের নিরাময় কেন্দ্রে যারা আসছে,তাদের মধ্যে অধিকাংশই বয়সে তরুণ।

স্থানীয়রা বলছেন হাত বাড়ালেই মিলছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফেন্সিডিল,গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য।নগরীর খামারপাড়া,কলেজ পাড়া,আলমনগর, মডার্ন মোড,পার্ক মোড়,সাতমাথা,চকবাজার,জলকর,হুনুমানতলা,রেলস্টেশন, হাজীরহাট,ধাপ,মেডিকেল কলেজ মোড়,দর্শনা মোড়,বুড়িরহাট,চওড়ারহাট ও জমচওড়া, হারাগাছ, সিগারেট কোম্পানী,গঙ্গাচড়া উপজেলার লাইফের মোড়,চৌদ্দ মাথা,মহিপুর,চেংমারী, দক্ষিন নবনীদাস,ভুটকা,ভাইভাই মোড়,এলাকাগুলোতে মাদকদ্রব্য।তবে এ ব্যবসাতে জড়িয়ে পড়েছেন নারীরাও।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বরে রংপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ রংপুর নগরীতে নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করার সময় দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,রংপুরের কোতোয়ালী থানাধীন কেরানী পাড়া এলাকার এলাকার সামাদ মিয়ার মেয়ে শাহানাজ পারভিন (২৮) ও তারাগঞ্জ উপজেলার মধুরামপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে স্মৃতি বেগম (২৫)।এসময় তাদের কাছে ৬শত পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।মাদকে আসক্ত হয়ে ছিনতাই, মাদক বিক্রি ও বহন, যৌনতার জালে ফেলে প্রতারণা,নকল টাকা বহনসহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে নারীরাও।

স্থানীয়রা বলেন-পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে যাদের গ্রেফতার করা হয়,তাদের অধিকাংশই উঠতি বয়সের যুবক।

রংপুরের অসংখ্য তরুণ অভিযোগ করে,“পুলিশের এক শ্রেণীর অসাধু সদস্যদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে।এদিকে র‌্যাবের একটি সূত্র অভিযোগ করে,পুলিশ ও কাস্টমস এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্যদের গোচরেই এসব মাদকদ্রব্য রংপুরে প্রবেশ করছে।নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন পুলিশ সদস্য বলেন,উপর মহলের চাপ জনবল সংকট ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকায় পুলিশ তেমন ভাবে কিছুই করতে পারছে না।

চলতি বছরে ১৪ জানুয়ারী র‌্যাবের অভিযানে মুক্তিপণের দাবিতে দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে খাদিজা বেগম (৩৭) নামে এক নারীকে গ্রেফতার হয়।এর আগে প্রেম-প্রতারণার অভিনব ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী কানিজ ফাতিমা আনিসা(৩৬) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ ও ওমর ফারুক বলেন, বলেন, মাদক আমাদের সমাজে রন্ধে রন্ধে প্রবেশ করেছে।রংপুর এর বাহিরে নয়। এখানে অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী আছে। এদের উভয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন না করলে।

তারা বলেন রংপুর শহর বিশেষ করে তুরুণ সমাজ সহ সবস্তরের তার সমাজিক অধঃপতন নেমে আসবে।মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। আগামী প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। তথ্য-উপাত্ত বলছে সারাদেশের মতো রংপুরেও মাদকের আগ্রাসন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যদি এই আগ্রসন এখনই থামানো না যায়,তবে অগ্রগতির মূল রাতে থেকে ছিটকে পড়বে রংপুর।আমরা চাই মাদকমুক্ত হোক সারাদেশ।মাদকমুক্ত হোক রংপুর।

রংপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্লব কুমার মোদক জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের দায়েরকৃত গত ৬ মাসে অভিযান ৬শ৮০টি করা হয়েছে।এর মধ্যে মাদক মামলা সংখ্যা ২০৭টি।এ সময আসামী গ্রেফতার ২১৭জন।গত দুই বছরে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্তৃক রংপুরে প্রায় ৬ হাজার ৯শ ৮৯ টি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: মজিদ আলী জানান মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান।রংপুরে মাদক ব্যবসা ও সেবনকারীদের স্থান নেই।যেখানে এ মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের প্ওায়া যাবে সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হবে ছাড় নেই।এর মধ্যে অনেক মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিএস.

ট্যাগ :

৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির

রংপুরে মাদকের ছড়াছড়ি, হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

প্রকাশিত : ০৫:২০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

পুলিশী অভিযানের পরেও থামছে না মাদক ব্যবসা।বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় রাতের আধারে অলিগলিতে বিক্রয় করছে সরর্বনাশা মাদক।আবার মোবাইর ফোনের মাধ্যমে বিক্রয় করা হচ্ছে মাদক।রংপুর জেলা ও নগরীতে অনেক এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি।মাদক ব্যবসা এখন জমজমাট।ভারত থেকে চোরাই পথে আসা মাদক হিলি থেকে মিঠাপুকুরের শুকরের হাট হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শহরে।বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভারত সীমান্ত থেকে মাদক দ্রব্য আনা নেয়ার নিরাপদ রুট হিসাবে তিস্তার চরাঞ্চলকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

মাদকে ভাসছে রংপুর নগরীসহ জেলা।সহজলভ্য হওয়ার মাদকাসক্ততে জড়িয়ে পড়ছেন এক শ্রেনীর শিক্ষক, শিক্ষার্থী,সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ উঠতি রয়সের ছেলে,মেয়েসহ নারীরা।মাদকের নীল দংশনে জর্জরিতহচ্ছে তাদের জীবন। মাদকাসক্তরা তাদের পরিবারের অশান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।প্রতিদিন মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

পুলিশ,র‌্যাব,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন আইনশৃংঙ্খাবাহিনীর অভিযানের র্পও বাসাবাড়ি,আবাসিক হোটেল,পান দোকান,বাস টার্মিনাল ট্রেনে বিক্রয় করা হচ্ছে এ মাদক।তবে পুলিশ বলছেন মাদক ব্যবসা ও সেবনকারীর সংখ্যা কমে গেছে।

গত বছরের চেয়ে চলতি বছর মাদকের বেচা-কেনা বাড়ছে এমন তথ্য প্ওায়া গেছে।গত বছরে পুলিশী তৎপরতা থাকার ফলে মাদক বেচাকেনা অনেক অংশে কম ছিল এমন মতামত দি”েছন বিশেষঙ্গরা।এর ফলে কিশোর অপরাধ বেড়েই চলছে।

রংপুর নগরীসহ জেলায় কিশোর অপরাধ অনেক অংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।নগরীর মোড়ে মোড়ে অল্প বয়সের শিশু ও কিশোর বিভিন্œ অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।তথ্য অনুযায়ী ছিনতাই,চুরি,ডাকাতিসহ ধর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে পুলিশী কার্যক্রম শিথীল থাকার ফলে রংপুর জেলা ও মহানগরীতে মাদকের বিভিন্ন পয়েন্টে বেচাকেনা হচ্ছে।

গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্ট-রংপুর জেলার পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ী,খালাসপীর,চত্বরাবাজার,শানেরহাট,মাদারগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে।জেলার মিঠাপুকুরের গড়ের মাথা,বৈরাগীগঞ্জ,পীরগাছা,গঙ্গাচড়ায় সব চেয়ে বেশি মাদক ব্যবসা হয়ে থাকে।বদরগঞ্জ,তারাগঞ্জ,পাগলাপীর,মহানগীর হারাগাছ,রেলগেট,মর্ডাণ মোড়, মেডিক্যাল মোড়,শ্যামাসুন্দরী খালের দুই পাশে^,ঘাঘট,আলমনগর কলনীসহ অনেক অংশে মাদক বেচাবিক্রয় হচ্ছে।

তবে বেশ কিছু দিন ধরে র‌্যাব,পুলিশের অভিযান করছেন।এর ফলে অনেক মাদক ব্যবসায়ী গা-ঢাকা দিয়ে আছে।এর পর্ওে পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা।

আর মাদক বিক্রেতারা এখন তাদের কৌশল পাল্টেছে বলে মন্তব্য করলেন- রংপুর মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন।তিনি বলেন কাপড়,ফলের ভ্যান নিয়ে চলাচলের সময় বিভিন্ন এলাকার মোড়ে মাদকসেবীদের জটলা চোখে পড়ে,বাতাসে ভেসে আসে গাঁজার গন্ধ।কোথায় যে মাদক বিক্রয় হয় আর কোথায় হয় না, তা বলাই দুঃসাধ্য।

হাউস নামে শহরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সহকারী কাউন্সেলরকে এম ফরিদ জানালেন,ক্রেতাদের আর বিক্রেতাদের কাছে যেতে হচ্ছে না।মোবাইল ফোনে নিজের অবস্থানের কথা বলে দিলেই বিক্রেতা বা তার লোক মাদক পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কাছেই জানা গেল এখন ইয়াবা বড়ি চলছে সবচেয়ে বেশি।ছোট পরিবহন ও সেবনেও সুবিধা।হেরোইন আর ফেনসিডিলের চেয়ে দামেও কম।রংপুরে প্রতি বড়ি ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।ফেনসিডিলের এক বোতল(ডাল বলা হয়) ৮৫০থেকে ১৫শটাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে।তাঁদের নিরাময় কেন্দ্রে যারা আসছে,তাদের মধ্যে অধিকাংশই বয়সে তরুণ।

স্থানীয়রা বলছেন হাত বাড়ালেই মিলছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফেন্সিডিল,গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য।নগরীর খামারপাড়া,কলেজ পাড়া,আলমনগর, মডার্ন মোড,পার্ক মোড়,সাতমাথা,চকবাজার,জলকর,হুনুমানতলা,রেলস্টেশন, হাজীরহাট,ধাপ,মেডিকেল কলেজ মোড়,দর্শনা মোড়,বুড়িরহাট,চওড়ারহাট ও জমচওড়া, হারাগাছ, সিগারেট কোম্পানী,গঙ্গাচড়া উপজেলার লাইফের মোড়,চৌদ্দ মাথা,মহিপুর,চেংমারী, দক্ষিন নবনীদাস,ভুটকা,ভাইভাই মোড়,এলাকাগুলোতে মাদকদ্রব্য।তবে এ ব্যবসাতে জড়িয়ে পড়েছেন নারীরাও।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বরে রংপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ রংপুর নগরীতে নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করার সময় দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,রংপুরের কোতোয়ালী থানাধীন কেরানী পাড়া এলাকার এলাকার সামাদ মিয়ার মেয়ে শাহানাজ পারভিন (২৮) ও তারাগঞ্জ উপজেলার মধুরামপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে স্মৃতি বেগম (২৫)।এসময় তাদের কাছে ৬শত পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।মাদকে আসক্ত হয়ে ছিনতাই, মাদক বিক্রি ও বহন, যৌনতার জালে ফেলে প্রতারণা,নকল টাকা বহনসহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে নারীরাও।

স্থানীয়রা বলেন-পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে যাদের গ্রেফতার করা হয়,তাদের অধিকাংশই উঠতি বয়সের যুবক।

রংপুরের অসংখ্য তরুণ অভিযোগ করে,“পুলিশের এক শ্রেণীর অসাধু সদস্যদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে।এদিকে র‌্যাবের একটি সূত্র অভিযোগ করে,পুলিশ ও কাস্টমস এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও সদস্যদের গোচরেই এসব মাদকদ্রব্য রংপুরে প্রবেশ করছে।নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন পুলিশ সদস্য বলেন,উপর মহলের চাপ জনবল সংকট ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকায় পুলিশ তেমন ভাবে কিছুই করতে পারছে না।

চলতি বছরে ১৪ জানুয়ারী র‌্যাবের অভিযানে মুক্তিপণের দাবিতে দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগে খাদিজা বেগম (৩৭) নামে এক নারীকে গ্রেফতার হয়।এর আগে প্রেম-প্রতারণার অভিনব ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী কানিজ ফাতিমা আনিসা(৩৬) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ ও ওমর ফারুক বলেন, বলেন, মাদক আমাদের সমাজে রন্ধে রন্ধে প্রবেশ করেছে।রংপুর এর বাহিরে নয়। এখানে অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী আছে। এদের উভয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন না করলে।

তারা বলেন রংপুর শহর বিশেষ করে তুরুণ সমাজ সহ সবস্তরের তার সমাজিক অধঃপতন নেমে আসবে।মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। আগামী প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। তথ্য-উপাত্ত বলছে সারাদেশের মতো রংপুরেও মাদকের আগ্রাসন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যদি এই আগ্রসন এখনই থামানো না যায়,তবে অগ্রগতির মূল রাতে থেকে ছিটকে পড়বে রংপুর।আমরা চাই মাদকমুক্ত হোক সারাদেশ।মাদকমুক্ত হোক রংপুর।

রংপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্লব কুমার মোদক জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের দায়েরকৃত গত ৬ মাসে অভিযান ৬শ৮০টি করা হয়েছে।এর মধ্যে মাদক মামলা সংখ্যা ২০৭টি।এ সময আসামী গ্রেফতার ২১৭জন।গত দুই বছরে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কর্তৃক রংপুরে প্রায় ৬ হাজার ৯শ ৮৯ টি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: মজিদ আলী জানান মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান।রংপুরে মাদক ব্যবসা ও সেবনকারীদের স্থান নেই।যেখানে এ মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের প্ওায়া যাবে সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হবে ছাড় নেই।এর মধ্যে অনেক মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডিএস.