ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জনসাধারনের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন সম্বলিত লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্ভোধন করা হয়েছে। বুধবার (৭ মে ) ২০২৫ ইং সকাল ১০টায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার আনন্দ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে এই জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন সম্বলিত লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।জনসচেতনতামূলক এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন।
উদ্বোধনকালে তিনি বলেন দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় শোল, গজার ও টাকি মাছের পোনা ক্রয়-বিক্রয় রোধে এবং নিষিদ্ধ পিরানহা, আফ্রিকান মাগুর, জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজকে আনন্দ বাজার থেকে প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে যা পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিটি উপজেলায় জোড়ালোভাবে কার্যকর করা হবে। তিনি আরও বলেন, চায়না দুয়ারি বা রিং জাল, কারেন্ট জাল, বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ নিধন বন্ধ করতে হবে। আমরা মানুষজনের সাথে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের ব্যাপারেও কথা বলছি। মানুষ সচেতন হলেই এ কার্যক্রমের সফলতা আসবে এবং তা আলোর মুখ দেখবে। এতে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ছায়েদুর রহমান, তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ, তরী’র সদস্য খালেদা মুন্নী, সোহেল রানা ভূঁইয়া, হৃদয় কামাল, রোটারিয়ান আশিকুর রহমান, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আরিফ নুরুল আমিন, বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোত্তাকিন।
এসময় বক্তারা নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাওড়, পুকুর-জলাশয় রক্ষায় গুরুত্বারোপ করেন। এসময় মোঃ আবদুল হেকিম, মাসুদ রানা, মেহেদী মৃধা, মোঃ আলামিন, মোঃ মোবারক মিয়া, সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের ক্ষেত্র সহকারী মোঃ হামিদুল হক, অফিস সহায়ক মোঃ হাকিম মিয়া প্রমুখ।
এ কর্মসূচীতে সহযোগিতায় ছিলেন, নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ’তরী বাংলাদেশ’। সংগঠনটির আহবায়ক শামীম আহমেদ বলেন,বর্ষার শুরুতেই সারাদেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা উচিৎ এ সময়ে অসচেতনতার কারণে জেলেরা অবাধে শোল, গজার ও টাকি মাছের পোনা ধরছে এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে বেচা-কেনা হচ্ছে। আমরা মূলত জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছি।
সকলে সোচ্চার ও সচেতন থাকলে নদীমাতৃক বাংলাদেশে দেশীয় মাছের অভাব থাকবে না।উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ছায়েদুর রহমান বলেন,ক্রেতা-বিক্রেতাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করছি যা আমাদের চলমান কাজের অংশ। দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় জনসচেতনতার বিকল্প নেই। সবাই সচেতন হলে আমাদের খাল-বিল,নদ-নদীতে যেমন দেশীয় মাছ বৃদ্ধি পাবে পাশাপাশি আমরা দেশীয় মাছে আমাদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরন করতে পারবো। তিনি বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ডিএস./




















