আন্তর্জাতিক ফুটবল স্টেডিয়াম হিসেবে তৈরির জন্য ১২ শর্তে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে ‘লিজ’ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এ অবস্থায় এ স্টেডিয়ামকে ঘিরে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) অধীনে বছরে অন্তত ৩২টি ইভেন্টের খেলা আয়োজন এবং ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ইভেন্টের লিগ নিয়ে উদ্বেগ ছিল চট্টগ্রামের ক্রীড়া সংগঠকেরা। এ নিয়ে আন্দোলনে নামে চট্টগ্রামের ক্রীড়াবিদ, সংগঠক, ক্রীড়ামোদী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ।
এরই মধ্যে এএফসির দুটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে। আর তাতে এক রকম জটিল আকার ধারণ করে পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে এগিয়ে আসেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মনজুর আলম মনজু। তিনি কথা বলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সাথে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রাতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ সভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন এবং মনজুর আলম মনজু আলোচনায় বসেন
চট্টগ্রামে ক্রীড়া সংগঠকদের সাথে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এবং চট্টগ্রামের ক্রীড়া সংগঠকরা এই আলোচনায় অংশ নেন। সভায় বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয় আপাতত এএফসির দুটি টুর্ণামেন্ট এবং হংকংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের এশিয়া কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচটি আয়োজন করতে চান তারা। বাংলাদেশ এবং হংকংয়ের মধ্যকার ম্যাচে খেলবেন বহুল আলোচিত হামজা চৌধুরী। যা চট্টগ্রামের মানুষের জন্য বড় একটা পাওয়া হবে। এই টুর্নামেন্টগুলো আয়োজনের জন্য স্টেডিয়ামে ব্যাপক সংস্কার করা হবে। যা স্টেডিয়ামের জন্য বড় একটা পাওয়া হবে। বাফুফে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের ক্ষতি করে তারা এই মাঠ নেবেন না। তাই এক রকম ২৫ বছরের বরাদ্দের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও বাফুফে সভাপতি আগেই জানিয়েছেন তিনি চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। গতকাল ১১ মে সভায় যেন বাফুফে সভাপতির সে কথারই প্রতিধ্বনি করলেন বাফুফে কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম দেশের একমাত্র জেলা যেখানে অনেকগুলো ইভেন্টের নিয়মিত লিগ এবং টুর্নামেন্ট হয়। যা দেশের অন্যকোনো জেলায় হয় না। সে গুরুত্বটা অনুধাবন করাতে পেরেছেন চট্টগ্রামের সংগঠকরা বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
গতকাল ১১ মে সভায় একটা সুন্দর সমাধান হয়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। যেটি বাফুফে এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা দুপক্ষের জন্যই কল্যাণকর হবে। বাফুফে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যেহেতু বিষয়টি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাথে সম্পৃক্ত সেহেতু তারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এই অভিভাবক প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে আলোচনা শেষে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে বাফুফে ২৫ বছরের বরাদ্দের পথে আর হাটবে না। তাদের এখন প্রধান লক্ষ্য সামনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট গুলো সফলতার সাথে আয়োজন করা।
আলোচনায় চট্টগ্রামের ক্রীড়া সংগঠকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিজেকেএসের সাবেক সহ সভাপতি এডভোকেট শাহীন আফতাবুর রেজা চৌধুরী, হাফিজুর রহমান, সৈয়দ আবুল বশর, সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম শহীদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন জাহাঙ্গীর, সিজেকেএস কাউন্সিলর আলি হাসান রাজু, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুব আলম। এছাড়া বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তরুণ রাজনীতিবিদ ইস্রাফিল খসরু।
ডিএস./




















