০৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এনবিআর বিলুপ্ত অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে গাজীপুরে কর অঞ্চলে কলমবিরতি

এনবিআর বিলুপ্ত করে জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিল ও টেকসই রাজস্ব সংস্কারের দাবিতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে কর অঞ্চল- গাজীপুরের সকল সার্কেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কলমবিরতি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার গাজীপুর কর কমিশনারের কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ কলম বিরতি পালন করা হয়।

জানা গেছে, অংশীজনদের মতামত গ্রহণ ও আলোচনা ছাড়াই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। তাই মধ্যরাতে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল ও নতুন করে প্রণয়নের দাবিতে সারাদেশে একযোগে কলম বিরতি পালন করছেন এনবিআরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

কর্মবিরতি পালনকালে তারা জানান, রাষ্ট্র ও জনগনের স্বার্থে রাজস্ব ব্যবস্থার একটি যুগোপযোগী ও টেকসই সংস্কার সময়ের দাবি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে কর্মরত সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। এমতাবস্থায় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সাথে সংহতি রেখে কলম বিরতি পালন করেন কর অঞ্চল-গাজীপুরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

তারা আরো জানান, এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের মত এই কর অঞ্চলের সকলে মনে করেন এই অধ্যাদেশে সরকার কর্তৃক গঠিত এনবিআর সংস্কার পরামর্শক কমিটির সুপারিশ অবজ্ঞা এবং অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে তাই অবিলম্বে এই অধ্যাদেশ বাতিল চান তারা। রাজস্ব নীতি ও আহরণ ব্যবস্থাপনায় শীর্ষপদে মাঠ পর্যায় থেকে উঠে আসা কর্মকর্তাদের প্রাধিকার দেওয়া উচিত।

আয়কর ও শুল্ক ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলছেন, পৃথিবীর সব দেশের নিজস্ব রাজস্ব আদায়কারী সংস্থা রয়েছে। অথচ কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই এনবিআর বিলুপ্ত করতে অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে অংশীজন বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। একটি বিশেষ ক্যাডার নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে একতরফাভাবে খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করেছে। এ ক্ষেত্রে কাস্টমস ও আয়কর ক্যাডারের মতামত তো দূরের কথা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক শ্বেতপত্র কমিটি বা এনবিআর সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ আমলে নেওয়া হয়নি। খসড়া অধ্যাদেশে নানা রকমের অসংগতি আছে। এসব ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত না করে এবং সমীক্ষা ছাড়া এনবিআর বিলুপ্ত করলে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হবে। এতে দেশের অর্থনীতি ধসে পড়তে পারে।

এসময় তারা সম্মানিত করদাতা ও সেবাপ্রার্থীগণের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

কর্মবিরতি পালন শেষে তারা জানান, আগামী শনিবার (১৭ মে) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত একইভাবে কলম বিরতি চলবে। পূর্বের মতোই আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা, রপ্তানি কার্যক্রম ও জাতীয় বাজেট প্রনয়ণ কার্যক্রম এই কর্মসূচির আওতা বহির্ভূত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ মে) মধ্যরাতে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগ করার বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১৭ এপ্রিল উপদেষ্টা পরিষদে খসড়া অনুমোদনের ২৫ দিন পর এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। পরে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার এই অধ্যাদেশ কার্যকর করার তারিখ ঘোষণা করবে।

এদিকে অধ্যাদেশের খসড়াতেই আপত্তি জানিয়ে এটি বাতিলের দাবি তোলেন আয়কর ও শুল্ক ক্যাডারের সদস্যদের সমিতি। ক্যাডার সার্ভিসের বাইরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই দাবির পক্ষে এক জোট হন। আন্দোলন এগিয়ে নিতে ওই দিন আত্মপ্রকাশ ঘটে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ প্ল্যাটফর্মের। বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়, বিসিএস আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা, নন-ক্যাডার কর্মকর্তা, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সমন্বয়ে কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করবে।

 

ডিএস.

 

ট্যাগ :

৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির

এনবিআর বিলুপ্ত অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে গাজীপুরে কর অঞ্চলে কলমবিরতি

প্রকাশিত : ০৫:২৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

এনবিআর বিলুপ্ত করে জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিল ও টেকসই রাজস্ব সংস্কারের দাবিতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে কর অঞ্চল- গাজীপুরের সকল সার্কেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কলমবিরতি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার গাজীপুর কর কমিশনারের কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ কলম বিরতি পালন করা হয়।

জানা গেছে, অংশীজনদের মতামত গ্রহণ ও আলোচনা ছাড়াই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। তাই মধ্যরাতে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল ও নতুন করে প্রণয়নের দাবিতে সারাদেশে একযোগে কলম বিরতি পালন করছেন এনবিআরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

কর্মবিরতি পালনকালে তারা জানান, রাষ্ট্র ও জনগনের স্বার্থে রাজস্ব ব্যবস্থার একটি যুগোপযোগী ও টেকসই সংস্কার সময়ের দাবি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে কর্মরত সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। এমতাবস্থায় এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সাথে সংহতি রেখে কলম বিরতি পালন করেন কর অঞ্চল-গাজীপুরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

তারা আরো জানান, এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের মত এই কর অঞ্চলের সকলে মনে করেন এই অধ্যাদেশে সরকার কর্তৃক গঠিত এনবিআর সংস্কার পরামর্শক কমিটির সুপারিশ অবজ্ঞা এবং অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে তাই অবিলম্বে এই অধ্যাদেশ বাতিল চান তারা। রাজস্ব নীতি ও আহরণ ব্যবস্থাপনায় শীর্ষপদে মাঠ পর্যায় থেকে উঠে আসা কর্মকর্তাদের প্রাধিকার দেওয়া উচিত।

আয়কর ও শুল্ক ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলছেন, পৃথিবীর সব দেশের নিজস্ব রাজস্ব আদায়কারী সংস্থা রয়েছে। অথচ কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই এনবিআর বিলুপ্ত করতে অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে অংশীজন বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। একটি বিশেষ ক্যাডার নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে একতরফাভাবে খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করেছে। এ ক্ষেত্রে কাস্টমস ও আয়কর ক্যাডারের মতামত তো দূরের কথা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক শ্বেতপত্র কমিটি বা এনবিআর সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ আমলে নেওয়া হয়নি। খসড়া অধ্যাদেশে নানা রকমের অসংগতি আছে। এসব ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত না করে এবং সমীক্ষা ছাড়া এনবিআর বিলুপ্ত করলে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হবে। এতে দেশের অর্থনীতি ধসে পড়তে পারে।

এসময় তারা সম্মানিত করদাতা ও সেবাপ্রার্থীগণের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

কর্মবিরতি পালন শেষে তারা জানান, আগামী শনিবার (১৭ মে) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত একইভাবে কলম বিরতি চলবে। পূর্বের মতোই আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা, রপ্তানি কার্যক্রম ও জাতীয় বাজেট প্রনয়ণ কার্যক্রম এই কর্মসূচির আওতা বহির্ভূত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ মে) মধ্যরাতে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগ করার বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১৭ এপ্রিল উপদেষ্টা পরিষদে খসড়া অনুমোদনের ২৫ দিন পর এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। পরে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার এই অধ্যাদেশ কার্যকর করার তারিখ ঘোষণা করবে।

এদিকে অধ্যাদেশের খসড়াতেই আপত্তি জানিয়ে এটি বাতিলের দাবি তোলেন আয়কর ও শুল্ক ক্যাডারের সদস্যদের সমিতি। ক্যাডার সার্ভিসের বাইরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই দাবির পক্ষে এক জোট হন। আন্দোলন এগিয়ে নিতে ওই দিন আত্মপ্রকাশ ঘটে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ প্ল্যাটফর্মের। বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়, বিসিএস আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা, নন-ক্যাডার কর্মকর্তা, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সমন্বয়ে কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করবে।

 

ডিএস.