চট্টগ্রাম ওয়াসার ২২ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন শহরব্যাপী নিম্ন আয়ের এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, পানির মান পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ ইত্যাদি বিষয়ক একটি কর্মশালায়। লোকপাত বিষয়ক এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে আজ ১৬ ও ১৭ মে কক্সবাজারের হোটেল সিগালে। তবে কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণকালীন সময় সরকারি অফিস কার্যক্রমে সম্ভাব্য বিঘ্ন নিয়েও তৈরি হয়েছে সমালোচনার ঝড়।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, কর্মশালায় অংশ নিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক কাজী শহিদুল ইসলাম, ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তার, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, উপসচিব মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আল মেহেদী শওকত আজম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম, আব্দুর রউফ, আজিজুর রহমান, সিস্টেম এনালিস্ট লুৎফি জাহান, উপ-প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা নাজমুন নাহরাইন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইফতেখার উল্লাহ মামুন, মো. সাহাব উদ্দিন, মো. মনিরুল ইসলাম, রিচার্ড নেলছন পিনারু, জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী নূরজাহান শীলা, সহকারী সচিব মোহাম্মদ বাবুল আলম, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল, রাজস্ব কর্মকর্তা এরফানুল করিম সাজ্জাদ, মো. হোসাইন আলী ও বাজেট অফিসার মু. পারভেজ,।এ এস এম আতিয়ার রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী, ভান্ডার বিভাগ এবং রক্তিম দেব, সিনিয়র অডিট অফিসার।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কর্মশালার দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১৭ মে শনিবার। এটি সরকারিভাবে অফিস চলমান রাখার দিন হলেও প্রায় সব কর্মকর্তাই ওইদিন কক্সবাজারে অবস্থান করবেন। ওয়াসার অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে এর ফলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেকেই বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নাগরিক সেবা ব্যাহত করতে পারে।
ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, কর্মশালা এটাও তো অফিসিয়াল কাজ। যে কোনো অফিসে কর্মশালা অফিসিয়াল সময়ে করে। কক্সবাজারে হচ্ছে্, ওখানে মন্ত্রণালয় থেকেও লোকজন আসে। এটা বিদেশি ফান্ডে হচ্ছে, বিদেশীরাও থাকবে। ওখানে নিন্মআয়ের মানুষের পানি সরবরাহ নিয়ে নীতিমালা হবে। যারা আয়োজন করতেছে তারা কক্সবাজারকে সিলেক্ট করেছে। এটাকে আনন্দ ভ্রমণ বলা ঠিক হবে না।
অফিস খোলার দিনে সবাই কক্সবাজার থাকলে সেবা মিলবে কি করে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শনিবার ছুটি হিসাবে সময় করা হয়েছিল। এখন যেহেতু শনিবার অফিস খোলার দিনে পড়ে গেছে। একটু পজেটিভলি দেখতে হবে।
সূত্র জানায়, কর্মশালার প্রথম দিনে (১৬ মে) কার্যক্রম রয়েছে বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এরপর রয়েছে পরিচিতি ও আপ্যায়নের সময়। দ্বিতীয় দিন (১৭ মে) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আলোচনা নির্ধারিত, যার মধ্যে আধা ঘণ্টা বিরতির ব্যবস্থাও রয়েছে। অর্থাৎ পুরো কর্মশালায় আলোচনা সময় মাত্র ৭.৫ ঘণ্টা হলেও তিন দিনের জন্য হোটেল বুকিং দেয়া হয়েছে এবং পুরো সফরকে ঘিরে রয়েছে আমোদভ্রমণের আয়োজন।
এছাড়া, ১৫ মে বিকাল সাড়ে ৩টায় ২০ জন কর্মকর্তা হাইস মাইক্রোবাসযোগে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বাকি দুইজন কর্মকর্তা বিমানে যাত্রা করবেন। বিমান যাত্রা করবেন ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক কাজী শহিদুল ইসলাম।
ওয়াসা সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কর্মশালার বিষয়বস্তু গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি স্থানীয়ভাবে আয়োজন করলেও চলত। কিন্তু কক্সবাজারে আয়োজন এবং প্রায় পুরো দপ্তর ফাঁকা রেখে যাওয়া নিয়ে খোদ ওয়াসার অভ্যন্তরেও অনেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।
নগরবাসীর জীবনযাপনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর একটি পানি সরবরাহ। আর এই সেবাখাতে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের এমন “লম্বা কর্মশালা সফর” এবং এর নামে একপ্রকার ভ্রমণ আয়োজন কতটা যৌক্তিক—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
এনজিও প্রোগ্রামে বিষয়ের সাথে সচিবালয় এবং হিসাব বিভাগের লোকজনের কোন সম্পর্ক নাই। তার পরেও মিলেমিশে আনন্দ ভ্রমণে অংশগ্রহণ।
ডিএস./




















