চট্টগ্রাম হাটহাজারী উপজেলার লাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিশ্ব মা দিবস পালন উপলক্ষে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে। সম্প্রতি নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনার কমিটি উদ্যোগে এডহক কমিটি সভাপতি লায়ন সালাউদ্দীন আলী’র সভাপতিত্বে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মা দিবস ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, ৩১৫ বি ৪ মাননীয় জেলা গভর্নর লায়ন কহিনুর কামাল এম.জে.এফ। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি ভাইস চ্যান্সেলর মোঃ নাজিম উদ্দীন, হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সম্মানীত অধ্যক্ষ মোঃ গিয়াস উদ্দিন, এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য-মোঃ এনায়েত উল্লাহ চৌধুরী, পেশকার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ আলম, ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক ম্যানেজার জাহাগির আলম, দৈনিক আজাদী সিনিয়র কর্মকতা মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, শফিউল আলম বাবুল, আব্দুর রহমান, আব্দুল হালিম, মাস্টার এটিএম হারুন উর রশিদ, প্রান্তন প্রধান শিক্ষক মাস্টার সফিকুল ইসলাম, প্যানেল চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দীন, ফাতেমা আক্তার, প্যানেল চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন মেম্বার, ডা. মুহাম্মদ আজম, মুহাম্মদ আইয়ুব, প্রান্তন ছাত্র জাহেদুল আলম রুমেল, মুহাম্মদ শাহ্জাহান, মুহাম্মদ মাসুদ, মোহাম্মদ খোকন, হুজ্জাতুল ইসলাম, রবিউল আলম বুলবুল, নজরুল ইসলাম, মুহাম্মদ বাচ্চু, মুহাম্মদ ইমরান, ডাক্তার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন জিকু সহ প্রমুখ।
মা দিবস ও অভিভাবক সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বাবু সত্যজিৎ বড়ুয়া। শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন, মোহাম্মদ নুরুল আবছার এবং অভিভাবকদের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন মোহাম্মদ হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন কহিনুর কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের সুন্দর, সুনির্মল ও উজ্জ্বল সোনালী ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ করতে হলে মা ও অভিভাবক সমাবেশের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
ঐতিহ্যবাহী নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয় তার আগের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে, অভিভাবকদের প্রতি মাসে অন্তত একবার হলেও বিদ্যালয়ে এসে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খোঁজ-খবর নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, আপনারা যদি বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কাছে সন্তানের লেখাপড়ার ব্যাপারে জানতে চান তাহলে আপনার সন্তানরাও লেখাপড়ায় বেশি মনোযোগী হবে। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবকদের আরো সচেতন হতে হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মা যদি তাদের সন্তানের উপর সচেতন হন তবে ওই সন্তানের অবশ্যই ভালো রেজাল্ট হবে। সেইসাথে মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে এসে সন্তানের খোঁজ-খবর নিলে তারা লেখাপড়ায় ফাঁকি দিতে পারবে না। প্রতিটি শিক্ষার্থীর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে দূর্বল তাকে অতিরিক্ত পাঠদানের মাধ্যমে অনুশিলন করতে হবে। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম ও মান বৃদ্ধি পাবে। এজন্য শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বয়ে ৩ মাস অন্তর অন্তর এ ধরণের অভিভাবক সমাবেশ করতে হবে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে লায়ন সালাউদ্দীন আলী বলেন, আমি অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ার পর থেকে চেষ্টা করেছি বিদ্যালয়ের উন্নয়নকল্পে কাজ করতে এই জন্য সমাজের ভিক্তবান লোক এবং প্রান্তন ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে আসতে হবে। তিনি তার বক্তব্য আরো বলেন, গত দুই থেকে তিন বছর আগে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় নতুন ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ছে কারণ বিগত সময়ে যারা অত্র স্কুলের দায়িত্বে ছিল তাদের গাফিলতির কারণে এমনটি হয়েছে। কারণ তারা বিদ্যালয়টি নির্মাণ করার সময় সঠিকভাবে তদারকি করেনি। তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, আমি যতদিন অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি থাকবো, ততদিন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের একটি টাকাও অন্যের পকেটে ঢুকাতে দিবো না। এমন কি গত পনের বছর যাবত যারা এই বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তারা যেই টাকা দূর্নীতি করেছে সেই টাকা গুলি অতিশীঘ্র ফিরিয়ে আনা হবে, এই জন্য আপনাদের সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, তাহলে আমি এই বিদ্যালয়ের আগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনব ইনশাল্লাহ। সালাউদ্দীন আলী আরো বলেন, শিক্ষিত মা এক সুরভিত ফুল, প্রতিটি ঘর হবে এক একটি স্কুল এই স্লোগানটিকে অন্তরে ধারণ করতে হবে। আর শিশুদের মোবাইল সহ সব ধরনের ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে হবে। এসময় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৫জন শিক্ষার্থীদের মা’দের বেস্ট মা অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও এ আয়োজনে রাখা হয় বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে অংশ-গ্রহণকারী অভিভাবক/মা ‘দের জন্য চক্ষু ও স্বাস্থ্যের ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প।
ডিএস./





















