০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বৈছাআ রংপুর ও নাটোর জেলা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) রংপুর ও নাটোর জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত দুই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই )প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সংবাদ জানাগেছে।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত দুই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ নভেম্বর ইমরান আহমেদকে আহ্বায়ক এবং ডা. আশফাক আহমেদ জামিলকে সদস্য সচিব করে ১৫৫ সদস্যের রংপুর জেলা কমিটি গঠন করা হয়। একইদিনে ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতিকে আহ্বায়ক ও রহমত আলীকে সদস্য সচিব করে ১১২ সদস্যবিশিষ্ট রংপুর মহানগর কমিটিও গঠিত হয়।

তবে কমিটি গঠনের পর থেকেই রংপুর জেলা ও মহানগর শাখার একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখল এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে আসে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিটির ভেতর থেকেই কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করেন।

গত ১৮ মে এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর জেলা ও মহানগর শাখার শীর্ষ চার নেতার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ১৬ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেন। একই দিন আরও অর্ধশতাধিক কর্মী সংগঠন থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এর আগে, ৮ মার্চ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে রংপুর মহানগর কমিটির মুখপাত্রকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে বালু মহালে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি ভিডিও-অডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যদিও পরবর্তীতে তাকে পুনরায় সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কমিটি স্থগিতের পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে রংপুর জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ লেখেন,আমার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় বর্তমান কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করছি। যারা এই যাত্রায় পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমাদের সংগ্রাম, উদ্যোগ ও অর্জন রংপুরের ছাত্র-জনতার রাজনীতিতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও লেখেন,“চাকরি, পড়াশোনা ও সংগঠন একসঙ্গে চালানো চ্যালেঞ্জিং হলেও তা আন্তরিকতার সঙ্গেই করেছি। আগামীতেও মানুষের পাশে থাকার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মুহম্মদ রাজিমুজ্জামান হৃদয় বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর জেলা কমিটি স্থগিত করা হয়েছে কেন্দ্র থেকে। হয়তো সংগঠনের প্রয়োজনে রংপুরের জেলা ইউনিটকে নতুন করে কেন্দ্র থেকে সাজানো হবে। আশা থাকবে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে নতুন আশার আলো যারা জ্বালাবে যেসব বিপ্লবীরা স্থান পাবে।

 

ডিএস./

ট্যাগ :

গজারিয়ায় ফিলিং স্টেশন, খাদ্যগুদাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি কামরুজ্জামান রতন

বৈছাআ রংপুর ও নাটোর জেলা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত

প্রকাশিত : ০৩:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) রংপুর ও নাটোর জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত দুই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই )প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সংবাদ জানাগেছে।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত দুই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ নভেম্বর ইমরান আহমেদকে আহ্বায়ক এবং ডা. আশফাক আহমেদ জামিলকে সদস্য সচিব করে ১৫৫ সদস্যের রংপুর জেলা কমিটি গঠন করা হয়। একইদিনে ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতিকে আহ্বায়ক ও রহমত আলীকে সদস্য সচিব করে ১১২ সদস্যবিশিষ্ট রংপুর মহানগর কমিটিও গঠিত হয়।

তবে কমিটি গঠনের পর থেকেই রংপুর জেলা ও মহানগর শাখার একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমি দখল এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে আসে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিটির ভেতর থেকেই কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করেন।

গত ১৮ মে এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর জেলা ও মহানগর শাখার শীর্ষ চার নেতার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ১৬ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেন। একই দিন আরও অর্ধশতাধিক কর্মী সংগঠন থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

এর আগে, ৮ মার্চ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে রংপুর মহানগর কমিটির মুখপাত্রকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে বালু মহালে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি ভিডিও-অডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যদিও পরবর্তীতে তাকে পুনরায় সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কমিটি স্থগিতের পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে রংপুর জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ লেখেন,আমার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় বর্তমান কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করছি। যারা এই যাত্রায় পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমাদের সংগ্রাম, উদ্যোগ ও অর্জন রংপুরের ছাত্র-জনতার রাজনীতিতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও লেখেন,“চাকরি, পড়াশোনা ও সংগঠন একসঙ্গে চালানো চ্যালেঞ্জিং হলেও তা আন্তরিকতার সঙ্গেই করেছি। আগামীতেও মানুষের পাশে থাকার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মুহম্মদ রাজিমুজ্জামান হৃদয় বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর জেলা কমিটি স্থগিত করা হয়েছে কেন্দ্র থেকে। হয়তো সংগঠনের প্রয়োজনে রংপুরের জেলা ইউনিটকে নতুন করে কেন্দ্র থেকে সাজানো হবে। আশা থাকবে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে নতুন আশার আলো যারা জ্বালাবে যেসব বিপ্লবীরা স্থান পাবে।

 

ডিএস./