১২:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সীতাকুণ্ডে ঘরে ঘরে জ্বরের রোগী, বেড়েছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার তীব্রতা

সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে ভীড় করছেন জ্বরে আক্রান্ত শত শত মানুষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এক-একটি পরিবারে একাধিক সদস্য একসঙ্গে আক্রান্ত হচ্ছেন জ্বর ও শরীর ব্যাথায়।

গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান গেইট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। অনেকের কোলে শিশু। বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে টিকেট কাটার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন তারা। লাইনে থাকা বেশীর ভাগ রোগী জ্বরে আক্রান্ত।

জ্বরের তীব্রতা বাড়লেও সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মশক নিধনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মাঝে লোক দেখানো ফগিং করলেও তা খুবই সীমিত এবং এলাকা নির্দিষ্ট। বহু এলাকায় বছরের পর বছর কোনো ধরনের স্প্রে কার্যক্রম চালানো হয়নি।

পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাসলিমা আক্তার বলেন, দিনের বেলাতেও মশার কামড়ে টেকা যায় না। রাতে তো ঘুমাতেই পারি না। বাচ্চাদের জন্য খুব চিন্তায় আছি। অথচ প্রশাসনের তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ১৪ বছর বয়সী ফাতেমার পিতা মহিউদ্দিন জানান, টানা ৪/৫ দিন ১০৪/১০৬ ডিগ্রী তাপমাত্রায় জ্বরে ভুগছে আমার মেয়ে। অ্যান্টিবায়োটিকের পর জ্বর কিছুটা কমলেও শরীরের ব্যাথা ও দুর্বলতা থেকে যায়। শুধু ফাতেমা নয়, এরকম অসুস্থ হয়ে পড়েছে বহু মানুষ।

বিআইটিআইডি হাসপাতালেও প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছেন। অনেকে জানাচ্ছেন, ঔষুধ সত্ত্বেও জ্বর ও ব্যাথা সহজে ছাড়ছে না। ডেঙ্গু পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও তাদের উপসর্গ চিকুনগুনিয়ার মতো।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাপ হোসেন জানান, জ্বর আক্রান্ত হয়েছেন এমন কিছু রোগী তাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন জয়েন্টে মাত্রাতিরিক্ত ব্যাথা, ফুলে গেছে। জ্বর কমলেও তাদের ফোলা এবং ব্যাথা কমানো যাচ্ছে না। এ ধরনের রোগীকে তারা চিকনগুনিয়া হিসেবে ধরে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

ধারণা করছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে মৌসুমি জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা সীতাকুণ্ডের ঘরে ঘরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভীড় করছেন আক্রান্ত রোগীরা। তবে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর অধিকাংশই জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীর ব্যাথায় আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া শহরের পাশাপাশি জ্বরের তীব্রতা গ্রামেও। অনেকের তীব্র জ্বর, শরীর ব্যাথা, দুর্বলতা। এ পরিস্থিতিতে মশা নিধন ও চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে।

এদিকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বেডে অসংখ্য রোগী ভর্তি। সবাই তিন থেকে ৬ দিন পর্যন্ত জ্বরে আক্রান্ত। তারা ঔষুধ কিনে খেলেও জ্বর ও শরীরের ব্যাথা-বেদনা সহজে ছাড়ছে না। এর মধ্যে পরীক্ষায় কারও কারও ডেঙ্গু পজিটিভ হলেও বাকিরা লক্ষণ দেখে অনুমাননির্ভর ঔষুধ খাচ্ছেন চিকনগুনিয়া কিংবা ভাইরাস জ্বর ভেবে। রোগীরা জানিয়েছেন জ্বর যখন আসে তখন তা ১০৬ ডিগ্রীতে গিয়ে পৌঁছায়। তার সঙ্গে শরীরে অবর্ণনীয় ব্যাথা-বেদনা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি অধ্যাপক মোঃ মামুনুর রসিদ বলেন, আমরা হাসপাতালে আলাদা আলাদা চিকিৎসা টিম গঠন করেছি। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, কোভিড এবং নরমাল জ্বর। এবার এমন কিছু রোগী তাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যাদের জ্বর আছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জয়েন্টে মাত্রাতিরিক্ত ব্যাথা ফুলে গেছে। জ্বর কমলেও তাদের ফোলা এবং ব্যাথা কমানো যাচ্ছে না। এ ধরনের রোগীকে তারা চিকনগুনিয়া হিসেবে ধরে চিকিৎসা দিচ্ছেন। ডেঙ্গু নেগেটিভ হলেও চিকুনগুনিয়া লক্ষণ থাকা রোগীদেরকে সাসপেক্টেড চিকুনগুনিয়া রোগী হিসেবে ধরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহরের পাশাপাশি জ্বরের প্রকোপ গ্রামেও। অনেকের তীব্র জ্বর, শরীর ব্যাথা, দুর্বলতা। এ পরিস্থিতিতে মশা নিধন ও চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে।

ডিএস./

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

সীতাকুণ্ডে ঘরে ঘরে জ্বরের রোগী, বেড়েছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার তীব্রতা

প্রকাশিত : ০১:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে ভীড় করছেন জ্বরে আক্রান্ত শত শত মানুষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এক-একটি পরিবারে একাধিক সদস্য একসঙ্গে আক্রান্ত হচ্ছেন জ্বর ও শরীর ব্যাথায়।

গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান গেইট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। অনেকের কোলে শিশু। বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে টিকেট কাটার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন তারা। লাইনে থাকা বেশীর ভাগ রোগী জ্বরে আক্রান্ত।

জ্বরের তীব্রতা বাড়লেও সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মশক নিধনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মাঝে লোক দেখানো ফগিং করলেও তা খুবই সীমিত এবং এলাকা নির্দিষ্ট। বহু এলাকায় বছরের পর বছর কোনো ধরনের স্প্রে কার্যক্রম চালানো হয়নি।

পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাসলিমা আক্তার বলেন, দিনের বেলাতেও মশার কামড়ে টেকা যায় না। রাতে তো ঘুমাতেই পারি না। বাচ্চাদের জন্য খুব চিন্তায় আছি। অথচ প্রশাসনের তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ১৪ বছর বয়সী ফাতেমার পিতা মহিউদ্দিন জানান, টানা ৪/৫ দিন ১০৪/১০৬ ডিগ্রী তাপমাত্রায় জ্বরে ভুগছে আমার মেয়ে। অ্যান্টিবায়োটিকের পর জ্বর কিছুটা কমলেও শরীরের ব্যাথা ও দুর্বলতা থেকে যায়। শুধু ফাতেমা নয়, এরকম অসুস্থ হয়ে পড়েছে বহু মানুষ।

বিআইটিআইডি হাসপাতালেও প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছেন। অনেকে জানাচ্ছেন, ঔষুধ সত্ত্বেও জ্বর ও ব্যাথা সহজে ছাড়ছে না। ডেঙ্গু পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও তাদের উপসর্গ চিকুনগুনিয়ার মতো।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাপ হোসেন জানান, জ্বর আক্রান্ত হয়েছেন এমন কিছু রোগী তাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন জয়েন্টে মাত্রাতিরিক্ত ব্যাথা, ফুলে গেছে। জ্বর কমলেও তাদের ফোলা এবং ব্যাথা কমানো যাচ্ছে না। এ ধরনের রোগীকে তারা চিকনগুনিয়া হিসেবে ধরে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

ধারণা করছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে মৌসুমি জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা সীতাকুণ্ডের ঘরে ঘরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভীড় করছেন আক্রান্ত রোগীরা। তবে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর অধিকাংশই জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীর ব্যাথায় আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া শহরের পাশাপাশি জ্বরের তীব্রতা গ্রামেও। অনেকের তীব্র জ্বর, শরীর ব্যাথা, দুর্বলতা। এ পরিস্থিতিতে মশা নিধন ও চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে।

এদিকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বেডে অসংখ্য রোগী ভর্তি। সবাই তিন থেকে ৬ দিন পর্যন্ত জ্বরে আক্রান্ত। তারা ঔষুধ কিনে খেলেও জ্বর ও শরীরের ব্যাথা-বেদনা সহজে ছাড়ছে না। এর মধ্যে পরীক্ষায় কারও কারও ডেঙ্গু পজিটিভ হলেও বাকিরা লক্ষণ দেখে অনুমাননির্ভর ঔষুধ খাচ্ছেন চিকনগুনিয়া কিংবা ভাইরাস জ্বর ভেবে। রোগীরা জানিয়েছেন জ্বর যখন আসে তখন তা ১০৬ ডিগ্রীতে গিয়ে পৌঁছায়। তার সঙ্গে শরীরে অবর্ণনীয় ব্যাথা-বেদনা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি অধ্যাপক মোঃ মামুনুর রসিদ বলেন, আমরা হাসপাতালে আলাদা আলাদা চিকিৎসা টিম গঠন করেছি। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, কোভিড এবং নরমাল জ্বর। এবার এমন কিছু রোগী তাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যাদের জ্বর আছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জয়েন্টে মাত্রাতিরিক্ত ব্যাথা ফুলে গেছে। জ্বর কমলেও তাদের ফোলা এবং ব্যাথা কমানো যাচ্ছে না। এ ধরনের রোগীকে তারা চিকনগুনিয়া হিসেবে ধরে চিকিৎসা দিচ্ছেন। ডেঙ্গু নেগেটিভ হলেও চিকুনগুনিয়া লক্ষণ থাকা রোগীদেরকে সাসপেক্টেড চিকুনগুনিয়া রোগী হিসেবে ধরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহরের পাশাপাশি জ্বরের প্রকোপ গ্রামেও। অনেকের তীব্র জ্বর, শরীর ব্যাথা, দুর্বলতা। এ পরিস্থিতিতে মশা নিধন ও চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরী হয়ে পড়েছে।

ডিএস./