০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

গজারিয়ায় ফিলিং স্টেশন, খাদ্যগুদাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি কামরুজ্জামান রতন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম না করা এবং নির্ধারিত মূল্যের বাইরে তেল বিক্রি থেকে বিরত থাকতে ফিলিং স্টেশন মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান রতন।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন কয়েকটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি জেএমআই ফিলিং স্টেশন, শাহ শের আলী সিএনজি ফিলিং স্টেশন, শিকদার ফিলিং স্টেশন ও মুন সিএনজি পাম্প পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে এমপি রতন পাম্প মালিক ও পরিবহন চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জ্বালানি তেল বিক্রির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি পাম্প মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনোভাবেই অসাধু উপায়ে তেল মজুত করা বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক মূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিছু গুজব ও ভুল তথ্যের কারণে অনেক সময় কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে তেল মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। এ জন্য নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

এরপর সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন উপজেলার রসুলপুর এলাকায় অবস্থিত সরকারি খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন। তিনি রসুলপুর বাজার সংলগ্ন খাদ্যগুদামে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুদামের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন সেডে সংরক্ষিত খাদ্যশস্যের অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এমপি রতন বলেন, খাদ্যগুদামকে কেন্দ্র করে মাঝে মাঝে নানা ধরনের নেতিবাচক তথ্য শোনা যায়। এসব বিষয় যাচাই করতেই তিনি সরাসরি পরিদর্শনে এসেছেন। তিনি জানান, গজারিয়া খাদ্যগুদামে মোট পাঁচটি সেড রয়েছে, যার মধ্যে চারটিতে বর্তমানে খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষিত আছে। গুদামের সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং পরিদর্শনে কোনো ধরনের অনিয়ম চোখে পড়েনি।

পরবর্তীতে তিনি গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসা সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে রোগীদের সেবার মান আরও উন্নত করার নির্দেশনা দেন।

এ সময় গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, মুন্সীগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লিটন কুমার প্রামাণিক, গজারিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাজোয়ার রহমান, রসুলপুর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস./

ট্যাগ :

গজারিয়ায় ফিলিং স্টেশন, খাদ্যগুদাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি কামরুজ্জামান রতন

গজারিয়ায় ফিলিং স্টেশন, খাদ্যগুদাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি কামরুজ্জামান রতন

প্রকাশিত : ০৫:৫০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় জ্বালানি তেল বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম না করা এবং নির্ধারিত মূল্যের বাইরে তেল বিক্রি থেকে বিরত থাকতে ফিলিং স্টেশন মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান রতন।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন কয়েকটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি জেএমআই ফিলিং স্টেশন, শাহ শের আলী সিএনজি ফিলিং স্টেশন, শিকদার ফিলিং স্টেশন ও মুন সিএনজি পাম্প পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে এমপি রতন পাম্প মালিক ও পরিবহন চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জ্বালানি তেল বিক্রির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি পাম্প মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনোভাবেই অসাধু উপায়ে তেল মজুত করা বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক মূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিছু গুজব ও ভুল তথ্যের কারণে অনেক সময় কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে তেল মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। এ জন্য নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

এরপর সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন উপজেলার রসুলপুর এলাকায় অবস্থিত সরকারি খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন। তিনি রসুলপুর বাজার সংলগ্ন খাদ্যগুদামে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুদামের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন সেডে সংরক্ষিত খাদ্যশস্যের অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এমপি রতন বলেন, খাদ্যগুদামকে কেন্দ্র করে মাঝে মাঝে নানা ধরনের নেতিবাচক তথ্য শোনা যায়। এসব বিষয় যাচাই করতেই তিনি সরাসরি পরিদর্শনে এসেছেন। তিনি জানান, গজারিয়া খাদ্যগুদামে মোট পাঁচটি সেড রয়েছে, যার মধ্যে চারটিতে বর্তমানে খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষিত আছে। গুদামের সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং পরিদর্শনে কোনো ধরনের অনিয়ম চোখে পড়েনি।

পরবর্তীতে তিনি গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসা সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে রোগীদের সেবার মান আরও উন্নত করার নির্দেশনা দেন।

এ সময় গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, মুন্সীগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লিটন কুমার প্রামাণিক, গজারিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাজোয়ার রহমান, রসুলপুর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস./