০৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

কুষ্টিয়ার দায়রা জজ মো: এনায়েত কবির সরকার এর আদালত জেলার মিরপুর উপজেলার সাহাবুল ইসলাম মন্ডল হত্যা মামলায় ৪জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড রায় ঘোষনা করেছেন। সোমবার দুপুরে দায়রা জজ আদালতে আসামীদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করা হয়। সাজা প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, মিটন পশ্চিমপাড়ার মহিন প্রামানিকের ছেলে আসাদুল প্রামানিক ওরফে কালু, মাঝিরহাট খাঁপাড়া বর্তমানে মিটন পশ্চিমপাড়ার মসলেম মোল্লার ছেলে আবু তাহের, একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে হাবিল হোসেন ও ওমর আলীর ছেলে মিলন। যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয় । এ সময় আদালতে ৪ জনের মধ্যে ৩জন আসামী উপস্থিত ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে সাহাবুল ইসলাম মন্ডল বাজার করার জন্য একশত টাকা নিয়ে মিরপুর উপজেলার গিয়াস মোড়ে যান। সেখান থেকে বাজার করে ছেলে সাব্বিরকে একই তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ব্যাগসহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এরপর থেকে সাহাবুলের কোনো খোঁজ না পেয়ে মোবাইলে ফোন দেয়, ফোন বাজলেও রিসিভ করেনি।

পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর.২০১৯ তারিখ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় জনৈক মোছা: সায়রা খাতুনের মাধ্যমে জানতে পারেন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার সময় এলাকার স্থানীয় লোকজন বুরাপাড়া প্রাইমারী স্কুলের পিছনে নওদা আজমপুর মাঠপাড়ার জনৈক বিশারত মন্ডল এর ধৈঞ্চা ক্ষেতের উত্তর আইলের উপর এজাহারকারীর স্বামী ডিসিজড সাহাবুল ইসলাম মন্ডল এর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে সংবাদ দিলে এজাহারকারীর ছেলে সাব্বির ইসলাম তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিসিজড সাহাবুল ইসলাম মন্ডল এর মৃতদেহ সনাক্ত করেন। পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করতঃ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, কুষ্টিয়ায় প্রেরণ করেন। অত:পর এজাহারকারী মিরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীগণে এর বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। মিরপুর থানা নিহত সাহাবুলের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২৫, তারিখ ২১/১০/২০১৯, জি আর মামলা নং ২৭৩/২০১৯।

পরে মামলার তদন্তভার মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম জাবীদ হাসান এর উপর অর্পন করা হয়। সাীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। বাদীনির এজাহারে উল্লিখিত সন্দিগ্ধ আসামী মো: আহম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে; পরবর্তীতে মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী মো: আসাদুল প্রামানিক @ কালুকে গ্রেপ্তার করেন; ধৃত আসামী মো: আসাদুল প্রামানিক @ কালু এজাহার বর্ণিত ডিসিজড সাহাবুল ইসলাম মন্ডলকে হত্যা করেছেন মর্মে স্বীকার করায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মো: আসাদুল প্রামানিক @ কালু এর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী মো: আবু তাহের, মো: হাবিল হোসেন ও মো: মিলন-কে গ্রেপ্তার করেন। তদন্ত শেষে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, আসামী আসাদুল প্রামানিক @ কালু, মো: আবু তাহের, মো: হাবিল হোসেন ও মো: মিলন গ্রাম্য দলাদলির কারণে প্রতিপক্ষকে ফাসানোর জন্য ডিসিজড সাহাবুল ইসলামকে হত্যা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী (১) মো: আসাদুল প্রামানিক @ কালু, (২) মো: আবু তাহের, (৩) মো: হাবিল হোসেন ও (৪) মো: মিলন এর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রাপ্ত হয়ে মিরপুর থানার অভিযোগপত্র নং-৩২৩, তারিখ-৩১.১.২০১৯ আদালতে দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালতে ১৭ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য প্রমানে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ৪জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড রায় প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনা করেন বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার সিরাজুল ইসলাম, আসামী পক্ষে ছিলেন বিজ্ঞ আইনজীবী মো: এনামুল হক ।

 

ডিএস./

ট্যাগ :

গজারিয়ায় ফিলিং স্টেশন, খাদ্যগুদাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি কামরুজ্জামান রতন

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

প্রকাশিত : ০৪:০১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ার দায়রা জজ মো: এনায়েত কবির সরকার এর আদালত জেলার মিরপুর উপজেলার সাহাবুল ইসলাম মন্ডল হত্যা মামলায় ৪জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড রায় ঘোষনা করেছেন। সোমবার দুপুরে দায়রা জজ আদালতে আসামীদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করা হয়। সাজা প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, মিটন পশ্চিমপাড়ার মহিন প্রামানিকের ছেলে আসাদুল প্রামানিক ওরফে কালু, মাঝিরহাট খাঁপাড়া বর্তমানে মিটন পশ্চিমপাড়ার মসলেম মোল্লার ছেলে আবু তাহের, একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে হাবিল হোসেন ও ওমর আলীর ছেলে মিলন। যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয় । এ সময় আদালতে ৪ জনের মধ্যে ৩জন আসামী উপস্থিত ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে সাহাবুল ইসলাম মন্ডল বাজার করার জন্য একশত টাকা নিয়ে মিরপুর উপজেলার গিয়াস মোড়ে যান। সেখান থেকে বাজার করে ছেলে সাব্বিরকে একই তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ব্যাগসহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এরপর থেকে সাহাবুলের কোনো খোঁজ না পেয়ে মোবাইলে ফোন দেয়, ফোন বাজলেও রিসিভ করেনি।

পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর.২০১৯ তারিখ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় জনৈক মোছা: সায়রা খাতুনের মাধ্যমে জানতে পারেন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার সময় এলাকার স্থানীয় লোকজন বুরাপাড়া প্রাইমারী স্কুলের পিছনে নওদা আজমপুর মাঠপাড়ার জনৈক বিশারত মন্ডল এর ধৈঞ্চা ক্ষেতের উত্তর আইলের উপর এজাহারকারীর স্বামী ডিসিজড সাহাবুল ইসলাম মন্ডল এর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে সংবাদ দিলে এজাহারকারীর ছেলে সাব্বির ইসলাম তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিসিজড সাহাবুল ইসলাম মন্ডল এর মৃতদেহ সনাক্ত করেন। পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করতঃ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, কুষ্টিয়ায় প্রেরণ করেন। অত:পর এজাহারকারী মিরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীগণে এর বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। মিরপুর থানা নিহত সাহাবুলের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২৫, তারিখ ২১/১০/২০১৯, জি আর মামলা নং ২৭৩/২০১৯।

পরে মামলার তদন্তভার মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম জাবীদ হাসান এর উপর অর্পন করা হয়। সাীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। বাদীনির এজাহারে উল্লিখিত সন্দিগ্ধ আসামী মো: আহম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে; পরবর্তীতে মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী মো: আসাদুল প্রামানিক @ কালুকে গ্রেপ্তার করেন; ধৃত আসামী মো: আসাদুল প্রামানিক @ কালু এজাহার বর্ণিত ডিসিজড সাহাবুল ইসলাম মন্ডলকে হত্যা করেছেন মর্মে স্বীকার করায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মো: আসাদুল প্রামানিক @ কালু এর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী মো: আবু তাহের, মো: হাবিল হোসেন ও মো: মিলন-কে গ্রেপ্তার করেন। তদন্ত শেষে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, আসামী আসাদুল প্রামানিক @ কালু, মো: আবু তাহের, মো: হাবিল হোসেন ও মো: মিলন গ্রাম্য দলাদলির কারণে প্রতিপক্ষকে ফাসানোর জন্য ডিসিজড সাহাবুল ইসলামকে হত্যা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী (১) মো: আসাদুল প্রামানিক @ কালু, (২) মো: আবু তাহের, (৩) মো: হাবিল হোসেন ও (৪) মো: মিলন এর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রাপ্ত হয়ে মিরপুর থানার অভিযোগপত্র নং-৩২৩, তারিখ-৩১.১.২০১৯ আদালতে দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালতে ১৭ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য প্রমানে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ৪জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড রায় প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনা করেন বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার সিরাজুল ইসলাম, আসামী পক্ষে ছিলেন বিজ্ঞ আইনজীবী মো: এনামুল হক ।

 

ডিএস./