১১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ জরুরি

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে রংপুরে অনুষ্ঠিত হলো বিভাগীয় পর্যায়ের গবেষণা ফলাফল বিনিময় সভা। রংপুরের আরডিআরএস হলরুমে আয়োজিত এ সভাটি বাস্তবায়ন করে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) এবং হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন —

“উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্ত করে টেকসই ও অভিযোজনযোগ্য জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি ও চর্চা বিষয়ক একটি সমন্বিত গবেষণা”।
এই গবেষণায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজনযোগ্য কৃষি কৌশল ও নীতিমালা গ্রহণ করা যেতে পারে, যা সরাসরি সুবিধা এনে দেবে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মি. মিল্টন কুমার সাহা, বিশেষজ্ঞ, পানি, খাদ্য ও জলবায়ু বিভাগ, হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন।
তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রান্তিক জনগণ ও প্রতিবন্ধীরা। তাই তাদের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে বিজ্ঞানভিত্তিক এবং বাস্তবভিত্তিক কৃষি প্রযুক্তি দরকার।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইএসডিও’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শাহিদ উজ জামান। তিনি বলেন, “অ্যাকসেস প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি—যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়, তাহলে জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষকদের রক্ষা করা সম্ভব।”
হেলভেটাস-এর পক্ষ থেকে মাওলানা আতাউল্লাহ আল মামুন, ব্যবস্থাপক, পানি, খাদ্য ও জলবায়ু খাত—তিনি বলেন, “জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি এখন আর বিকল্প নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য পথ।

গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে,জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী আবহাওয়ার ঘটনা বেড়েছে।

এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রান্তিক কৃষক ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী।

গবেষণায় ১০টি জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং ৩৫০ জন কৃষকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তির মধ্যে জল-সাশ্রয়ী চাষাবাদ, জৈব সার ব্যবহার, লবণসহিষ্ণু ধান ও সবজি জাত, উন্নত বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি প্রভৃতি উপায় চিহ্নিত করা হয়।

আলোচনায় অংশ নেন দেশের কৃষি ও পরিবেশবিষয়ক খ্যাতনামা গবেষক ও শিক্ষকরা। উপস্থিত ছিলেন—ড. মোহাম্মদ আলী, সহকারী অধ্যাপক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

ইঞ্জিনিয়ার আজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর

প্রফেসর ড. মো. শোয়াইবুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রফেসর ড. এম. এ. ওয়াদুদ, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

ড. মঞ্জুরুল হাসান, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট

তাঁরা বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ‘জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি’ প্রযুক্তি শুধু উপকারী নয়, বরং এখন তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

সভায় অংশগ্রহণকারী সবাই একমত হন যে—কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।

স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় গবেষণানির্ভর সমাধান তৈরি করতে হবে।

জলবায়ু অভিযোজনকে জাতীয় উন্নয়ন নীতির কেন্দ্রে আনতে হবে।

এই মিটিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকসেস প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলোতে জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত উদ্যোগের সম্ভাবনা আরও জোরালোভাবে উন্মোচিত হয়েছে।

 

ডিএস./

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ জরুরি

প্রকাশিত : ০৩:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে রংপুরে অনুষ্ঠিত হলো বিভাগীয় পর্যায়ের গবেষণা ফলাফল বিনিময় সভা। রংপুরের আরডিআরএস হলরুমে আয়োজিত এ সভাটি বাস্তবায়ন করে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) এবং হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন —

“উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্ত করে টেকসই ও অভিযোজনযোগ্য জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি ও চর্চা বিষয়ক একটি সমন্বিত গবেষণা”।
এই গবেষণায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজনযোগ্য কৃষি কৌশল ও নীতিমালা গ্রহণ করা যেতে পারে, যা সরাসরি সুবিধা এনে দেবে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মি. মিল্টন কুমার সাহা, বিশেষজ্ঞ, পানি, খাদ্য ও জলবায়ু বিভাগ, হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন।
তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রান্তিক জনগণ ও প্রতিবন্ধীরা। তাই তাদের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে বিজ্ঞানভিত্তিক এবং বাস্তবভিত্তিক কৃষি প্রযুক্তি দরকার।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইএসডিও’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শাহিদ উজ জামান। তিনি বলেন, “অ্যাকসেস প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি—যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়, তাহলে জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষকদের রক্ষা করা সম্ভব।”
হেলভেটাস-এর পক্ষ থেকে মাওলানা আতাউল্লাহ আল মামুন, ব্যবস্থাপক, পানি, খাদ্য ও জলবায়ু খাত—তিনি বলেন, “জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি এখন আর বিকল্প নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য পথ।

গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে,জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী আবহাওয়ার ঘটনা বেড়েছে।

এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রান্তিক কৃষক ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী।

গবেষণায় ১০টি জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং ৩৫০ জন কৃষকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তির মধ্যে জল-সাশ্রয়ী চাষাবাদ, জৈব সার ব্যবহার, লবণসহিষ্ণু ধান ও সবজি জাত, উন্নত বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি প্রভৃতি উপায় চিহ্নিত করা হয়।

আলোচনায় অংশ নেন দেশের কৃষি ও পরিবেশবিষয়ক খ্যাতনামা গবেষক ও শিক্ষকরা। উপস্থিত ছিলেন—ড. মোহাম্মদ আলী, সহকারী অধ্যাপক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

ইঞ্জিনিয়ার আজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর

প্রফেসর ড. মো. শোয়াইবুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রফেসর ড. এম. এ. ওয়াদুদ, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

ড. মঞ্জুরুল হাসান, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট

তাঁরা বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ‘জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি’ প্রযুক্তি শুধু উপকারী নয়, বরং এখন তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

সভায় অংশগ্রহণকারী সবাই একমত হন যে—কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।

স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় গবেষণানির্ভর সমাধান তৈরি করতে হবে।

জলবায়ু অভিযোজনকে জাতীয় উন্নয়ন নীতির কেন্দ্রে আনতে হবে।

এই মিটিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকসেস প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলোতে জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত উদ্যোগের সম্ভাবনা আরও জোরালোভাবে উন্মোচিত হয়েছে।

 

ডিএস./