১১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তিস্তার পানি বৃদ্ধি হাজারো পরিবার পানি বন্দি!

উজানের ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে হুহু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত এক হাজার পরিবার।

নদী পাড়ের বাসিন্দারা জানান, পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে তিস্তা নদীর বাম তীরে লালমনিরহাট জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের আবাদকৃত ফসলের ক্ষেতে পানি উঠেছে। নিম্নাঞ্চলের পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। যার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ইতোমধ্যেই চরাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

চর গোবর্দ্ধন এলাকার আজিজুল ইসলাম জানান, রাত থেকে পানি বাড়ছে তিস্তায়। নদীপাড়ের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে ফসলের ক্ষেত রাস্তাঘাট ও পুকুর। চরাঞ্চলে হেঁটে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যেতে নৌকা ব্যবহার করতে হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

হলদিবাড়ি চরের আব্দুল মতিন বলেন, নদীতে পানি বাড়লেই চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে বন্যা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। রাত থেকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। ক্রমেই বাড়ছে পানি। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। পরিবার-পরিজন নিয়ে মাচাংয়ের ওপর বসে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষদের। এসব এলাকার বাসিন্দারা শিশু-বৃদ্ধ আর গবাদি পশুপাখি নিয়ে চরম বিপদে রয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির বর্তমান সমতল ৫২.২০ মিটার, যেখানে বিপদসীমা নির্ধারিত ৫২.১৫ মিটার। সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পানি বেড়ে ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

হাতীবান্ধা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উত্তম কুমার নন্দী বলেন, বিকাল থেকে পানির উচ্চতা হঠাৎ বাড়তে শুরু করে। এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা জানান, আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সিংগীমারী ইউনিয়নের একটি বাঁধ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পাউবো লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, উজান থেকে পানি আসা ও স্থানে স্থানে বৃষ্টিপাতের ফলে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গেছে। আমরা সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত আছি।

ডিএস./

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

তিস্তার পানি বৃদ্ধি হাজারো পরিবার পানি বন্দি!

প্রকাশিত : ০৪:০৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

উজানের ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে হুহু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত এক হাজার পরিবার।

নদী পাড়ের বাসিন্দারা জানান, পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে তিস্তা নদীর বাম তীরে লালমনিরহাট জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের আবাদকৃত ফসলের ক্ষেতে পানি উঠেছে। নিম্নাঞ্চলের পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। যার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ইতোমধ্যেই চরাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

চর গোবর্দ্ধন এলাকার আজিজুল ইসলাম জানান, রাত থেকে পানি বাড়ছে তিস্তায়। নদীপাড়ের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে ফসলের ক্ষেত রাস্তাঘাট ও পুকুর। চরাঞ্চলে হেঁটে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যেতে নৌকা ব্যবহার করতে হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

হলদিবাড়ি চরের আব্দুল মতিন বলেন, নদীতে পানি বাড়লেই চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে বন্যা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। রাত থেকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। ক্রমেই বাড়ছে পানি। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। পরিবার-পরিজন নিয়ে মাচাংয়ের ওপর বসে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষদের। এসব এলাকার বাসিন্দারা শিশু-বৃদ্ধ আর গবাদি পশুপাখি নিয়ে চরম বিপদে রয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির বর্তমান সমতল ৫২.২০ মিটার, যেখানে বিপদসীমা নির্ধারিত ৫২.১৫ মিটার। সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পানি বেড়ে ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

হাতীবান্ধা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উত্তম কুমার নন্দী বলেন, বিকাল থেকে পানির উচ্চতা হঠাৎ বাড়তে শুরু করে। এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা জানান, আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সিংগীমারী ইউনিয়নের একটি বাঁধ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পাউবো লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, উজান থেকে পানি আসা ও স্থানে স্থানে বৃষ্টিপাতের ফলে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গেছে। আমরা সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত আছি।

ডিএস./