১১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কালিগঙ্গা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে জালিয়াতি করে দুই শিক্ষক নিয়োগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর একটি স্কুলের সব ধাপ জালিয়াতি করে দুই শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন পর চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। জালিয়াতি করে নিয়োগপ্রাপ্ত ওই দুই শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়ে বেতন ভাতাও নিচ্ছেন নিয়মিত। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসতে শুরু করে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই তথ্য তদন্ত করছেন কুমারখালী উপজেলা শিক্ষা অফিস। অভিযোগ সত্য হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে কর্মকর্তারা।ঘটনাটি ঘটেছে কুমারখালী উপজেলার কালিগঙ্গা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ সামছুজ্জামান মুকুল (কৃষিশিা) ও মোছাঃ মুসলিমা খাতুনের (সমাজবিজ্ঞান) বিরুদ্ধে এমন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোঃ ওহিদ উজ জামান এ বিষয়ে গত ২০ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দেন। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

জানা যায়, নিয়োগ পেতে প্রথমে জাতীয় পরে স্থানীয় পত্রিকা জালিয়াতি করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করেন অভিযুক্তরা। এরপর নিয়োগ পরীার ফলাফল তৈরি, নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের সই-সিল জালিয়াতি করে নিয়োগ সম্পন্ন করে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন তারা। বর্তমানে বিএড সনদের ভিত্তিতে বেতন স্কেল প্রাপ্তির জন্য রেজুলেশন বিকৃতি ও প্রধান শিক্ষককের সই-সিল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে দুই স্কুল শিক্ষক বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের নগর সাঁওতা, পাহাড়পুর এলাকায় ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কালিগঙ্গা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ২০২২ সালের জুলাই মাসে বিদ্যালয়টিকে এমপিওভুক্ত করে সরকার। সেসময় তৎকালীন শিা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণের জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক সহ অন্যরা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কালিগঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কাটিংয়ে ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর তারিখের দৈনিক সমকাল পত্রিকার অংশকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিজ্ঞপ্তিটি সমকালে প্রকাশিত হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। তবে কাটিংয়ে থাকা বিজ্ঞপ্তির অরের সঙ্গে সমকালে প্রকাশিত অরের মিল নেই। আবার ওই তারিখে প্রকাশিত সমকালের ই-পেপারেও কালিগঙ্গা বিদ্যালয়ের কোনো বিজ্ঞপ্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। একইভাবে স্থানীয় দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা পত্রিকা জালিয়াতি করে নিয়োগ দেখানো হয়েছে মোঃ সামছুজ্জামান মুকুলকে। এই ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সহকারী শিক্ষক পদে মুসলিমা খাতুনের নিয়োগে প্রধান শিক্ষকদেখানো হয়েছে মোঃ সাইফ উদ্দিন ফরিদকে। যিনি ২০১৫ সালের আগেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া কিয়েটে ভারপ্রাপ্ত অধ্য হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখানো প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফ উদ্দিন ফরিদ বলেন, আমার সময়ে বিদ্যালয়ে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মুকুল ও মুসলিমাকে আমি চিনি না। কোনো কিছু ঘটে থাকলে তা জালিয়াতি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষকমোঃ সামছুজ্জামান মুকুল ও মোছাঃ মুসলিমা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও প্রক্রিয়া বৈধ না অবৈধ তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এগুলো বুঝবে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। শিা কর্মকর্তারা কয়েক দফা যাচাইবাছাই করে এমপিওভুক্ত করেছেন। এভাবেই বেতন তুলছি নিয়মিত।

উপজেলা শিা কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হক জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জালিয়াতি হলে ওই শিক্ষককের সব প্রক্রিয়া জালিয়াতি ও অবৈধ। অভিযুক্ত শিকদের এমপিও তার যোগদানের আগে করা বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ নেওয়া একটি বড় অপরাধ। প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ করেছেন। শিা কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

জেলা শিা কর্মকর্তা আবু তৈয়ব মোঃ ইউনুস আলী বলেন, যাচাইবাছাই করে ভুয়া প্রমাণিত হলে বিধিমতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।

ডিএস./

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কালিগঙ্গা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে জালিয়াতি করে দুই শিক্ষক নিয়োগ

প্রকাশিত : ০৪:১৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর একটি স্কুলের সব ধাপ জালিয়াতি করে দুই শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন পর চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। জালিয়াতি করে নিয়োগপ্রাপ্ত ওই দুই শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়ে বেতন ভাতাও নিচ্ছেন নিয়মিত। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসতে শুরু করে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই তথ্য তদন্ত করছেন কুমারখালী উপজেলা শিক্ষা অফিস। অভিযোগ সত্য হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে কর্মকর্তারা।ঘটনাটি ঘটেছে কুমারখালী উপজেলার কালিগঙ্গা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ সামছুজ্জামান মুকুল (কৃষিশিা) ও মোছাঃ মুসলিমা খাতুনের (সমাজবিজ্ঞান) বিরুদ্ধে এমন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোঃ ওহিদ উজ জামান এ বিষয়ে গত ২০ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দেন। তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

জানা যায়, নিয়োগ পেতে প্রথমে জাতীয় পরে স্থানীয় পত্রিকা জালিয়াতি করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করেন অভিযুক্তরা। এরপর নিয়োগ পরীার ফলাফল তৈরি, নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের সই-সিল জালিয়াতি করে নিয়োগ সম্পন্ন করে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন তারা। বর্তমানে বিএড সনদের ভিত্তিতে বেতন স্কেল প্রাপ্তির জন্য রেজুলেশন বিকৃতি ও প্রধান শিক্ষককের সই-সিল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে দুই স্কুল শিক্ষক বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের নগর সাঁওতা, পাহাড়পুর এলাকায় ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কালিগঙ্গা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ২০২২ সালের জুলাই মাসে বিদ্যালয়টিকে এমপিওভুক্ত করে সরকার। সেসময় তৎকালীন শিা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অভিযুক্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণের জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক সহ অন্যরা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কালিগঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কাটিংয়ে ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর তারিখের দৈনিক সমকাল পত্রিকার অংশকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিজ্ঞপ্তিটি সমকালে প্রকাশিত হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। তবে কাটিংয়ে থাকা বিজ্ঞপ্তির অরের সঙ্গে সমকালে প্রকাশিত অরের মিল নেই। আবার ওই তারিখে প্রকাশিত সমকালের ই-পেপারেও কালিগঙ্গা বিদ্যালয়ের কোনো বিজ্ঞপ্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। একইভাবে স্থানীয় দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা পত্রিকা জালিয়াতি করে নিয়োগ দেখানো হয়েছে মোঃ সামছুজ্জামান মুকুলকে। এই ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সহকারী শিক্ষক পদে মুসলিমা খাতুনের নিয়োগে প্রধান শিক্ষকদেখানো হয়েছে মোঃ সাইফ উদ্দিন ফরিদকে। যিনি ২০১৫ সালের আগেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া কিয়েটে ভারপ্রাপ্ত অধ্য হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখানো প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইফ উদ্দিন ফরিদ বলেন, আমার সময়ে বিদ্যালয়ে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মুকুল ও মুসলিমাকে আমি চিনি না। কোনো কিছু ঘটে থাকলে তা জালিয়াতি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষকমোঃ সামছুজ্জামান মুকুল ও মোছাঃ মুসলিমা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও প্রক্রিয়া বৈধ না অবৈধ তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এগুলো বুঝবে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। শিা কর্মকর্তারা কয়েক দফা যাচাইবাছাই করে এমপিওভুক্ত করেছেন। এভাবেই বেতন তুলছি নিয়মিত।

উপজেলা শিা কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হক জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জালিয়াতি হলে ওই শিক্ষককের সব প্রক্রিয়া জালিয়াতি ও অবৈধ। অভিযুক্ত শিকদের এমপিও তার যোগদানের আগে করা বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ নেওয়া একটি বড় অপরাধ। প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ করেছেন। শিা কর্মকর্তাকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

জেলা শিা কর্মকর্তা আবু তৈয়ব মোঃ ইউনুস আলী বলেন, যাচাইবাছাই করে ভুয়া প্রমাণিত হলে বিধিমতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।

ডিএস./