০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

কুষ্টিয়ায় যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি বাড়িতে থেকেও ধরাছোঁয়ার বাইরে

৫ই আগস্টের পরে আওয়ামীলীগের সব অঙ্গসংগঠনের নেতাদের পতন হলেও ক্ষমতা হারায়নি যুবলীগ নেতা আনিচ। হামলা ভাঙচুর নাশকতা ছিল নিত্যদিনের যার সঙ্গী। জুলুম, অত্যাচার, দখলবাজি, চাঁদাবাজি টেন্ডার বাজি যার মূল পেশা। পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করে গড়ে তুলেছেন এক বিশাল ষড়যন্ত্রের রাজপ্রাসাদ। ৫ আগস্টে জুলাই আন্দলনের হত্যা মামলার আসামি হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন এই নেতা। কখনো ফেসবুকে, কখনো টিকটকে কখনো আওয়ামীলীগের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আনিচ নিজ এলাকাতেই থাকলেও এখনো অদৃশ্য শক্তি তাকে টিকিয়ে রেখেছে। চালিয়ে যাচ্ছেন কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা।

আনিচ কুমারখালী উপজেলার ১ নং কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকার মৃত মো: মহিউদ্দিনের ছেলে ও কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

এই নেতা এতটাই ক্ষমতাবান যে কয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতারাও তাকে দেখেও না দেখার ভান করেন। আপন ছোট ভাইয়ের ২৫ বিঘা ফসলি জমি দখল করে সেই জায়গা লিজ দিয়ে রেখেছেন। এবং সে সব অর্থ দিয়েই এলাকাতে আবারো আওয়ামী লীগের ঘাটি তৈরি করতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন এই নেতা।

এদিকে আনিসের ছোট ভাই আসাদের ২৫ বিঘা মাঠের ফসলি জমি জোরপূর্বক দখল নিয়ে তার দলের কর্মীদের লিজ দিয়েছে। আনিসের ছোট ভাই আসাদ জানান, আমার বড় ভাই আনিস ছোট কাল থেকেই অনেক চালাক, আমি একজন সাধারণ কৃষক হিসেবে নিজের পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি। নিজের নামে এত সম্পত্তি থাকতো আমি ভোগ দখল করতে পারছি না। আমি একটু দুর্বল প্রকৃতির মানুষ কম বুঝি। আমার বাবার মৃত্যুর পূর্বে আমাদের মায়ের নামে জায়গা বাদে সব জমি ভাগ করে দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমার জায়গা আমাকে ভোগ দখল করতে দিচ্ছে না আনিচ। একজন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি কিভাবে এত ক্ষমতা দেখায়। আমি নাই দুর্বল, এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। কোন জুলুমকারী আমার ভাই হতে পারে না। যে নিজের ভাইয়ের সাথে অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুম করতে পারে সে এই ১৫ বছর কি করেছে আপনারাই ভাবুন। আমার দাবি আমি আমার জায়গাগুলো ফেরত চাই, যাতে আমি আমার পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারি। আমি জায়গা জমি ফেরত চাইলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

এছাড়াও যুবলীগ নেতা আনিচ বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করার অভিযোগে জেল খেটেছেন এবং আদালতে পুলিশ রিমান্ড চাইলে সে সময় দলের প্রভাব খাটিয়ে রিমান্ড না মঞ্জুর করে আনেন।

এ বিষয়ে কুমারখালীর থানার ওসি খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, যুবলীগ নেতা আনিসের বিষয় আমার জানা ছিল না। আমাকে একটু তথ্য দিন আমি বিষয়টা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি বাড়িতে থেকেও ধরাছোঁয়ার বাইরে

প্রকাশিত : ০৫:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

৫ই আগস্টের পরে আওয়ামীলীগের সব অঙ্গসংগঠনের নেতাদের পতন হলেও ক্ষমতা হারায়নি যুবলীগ নেতা আনিচ। হামলা ভাঙচুর নাশকতা ছিল নিত্যদিনের যার সঙ্গী। জুলুম, অত্যাচার, দখলবাজি, চাঁদাবাজি টেন্ডার বাজি যার মূল পেশা। পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করে গড়ে তুলেছেন এক বিশাল ষড়যন্ত্রের রাজপ্রাসাদ। ৫ আগস্টে জুলাই আন্দলনের হত্যা মামলার আসামি হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন এই নেতা। কখনো ফেসবুকে, কখনো টিকটকে কখনো আওয়ামীলীগের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আনিচ নিজ এলাকাতেই থাকলেও এখনো অদৃশ্য শক্তি তাকে টিকিয়ে রেখেছে। চালিয়ে যাচ্ছেন কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা।

আনিচ কুমারখালী উপজেলার ১ নং কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকার মৃত মো: মহিউদ্দিনের ছেলে ও কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

এই নেতা এতটাই ক্ষমতাবান যে কয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতারাও তাকে দেখেও না দেখার ভান করেন। আপন ছোট ভাইয়ের ২৫ বিঘা ফসলি জমি দখল করে সেই জায়গা লিজ দিয়ে রেখেছেন। এবং সে সব অর্থ দিয়েই এলাকাতে আবারো আওয়ামী লীগের ঘাটি তৈরি করতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন এই নেতা।

এদিকে আনিসের ছোট ভাই আসাদের ২৫ বিঘা মাঠের ফসলি জমি জোরপূর্বক দখল নিয়ে তার দলের কর্মীদের লিজ দিয়েছে। আনিসের ছোট ভাই আসাদ জানান, আমার বড় ভাই আনিস ছোট কাল থেকেই অনেক চালাক, আমি একজন সাধারণ কৃষক হিসেবে নিজের পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি। নিজের নামে এত সম্পত্তি থাকতো আমি ভোগ দখল করতে পারছি না। আমি একটু দুর্বল প্রকৃতির মানুষ কম বুঝি। আমার বাবার মৃত্যুর পূর্বে আমাদের মায়ের নামে জায়গা বাদে সব জমি ভাগ করে দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমার জায়গা আমাকে ভোগ দখল করতে দিচ্ছে না আনিচ। একজন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি কিভাবে এত ক্ষমতা দেখায়। আমি নাই দুর্বল, এখন দেখছি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। কোন জুলুমকারী আমার ভাই হতে পারে না। যে নিজের ভাইয়ের সাথে অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুম করতে পারে সে এই ১৫ বছর কি করেছে আপনারাই ভাবুন। আমার দাবি আমি আমার জায়গাগুলো ফেরত চাই, যাতে আমি আমার পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারি। আমি জায়গা জমি ফেরত চাইলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

এছাড়াও যুবলীগ নেতা আনিচ বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করার অভিযোগে জেল খেটেছেন এবং আদালতে পুলিশ রিমান্ড চাইলে সে সময় দলের প্রভাব খাটিয়ে রিমান্ড না মঞ্জুর করে আনেন।

এ বিষয়ে কুমারখালীর থানার ওসি খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, যুবলীগ নেতা আনিসের বিষয় আমার জানা ছিল না। আমাকে একটু তথ্য দিন আমি বিষয়টা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ডিএস./