০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
কুষ্টিয়া সদর আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা

ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার দৌড়ে সাধারণ ভোটাররা রয়েছে ফুরফুরে আমেজে

আসছে আগামী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। জনমনে দেখা দিয়েছে আনন্দের জোয়ার। এবারে সংসদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা। এই নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট মার্কেট শপিং মল সহ বিপনি বিতান গুলোতে চলছে ভোটের হাওয়া । এই আসনে ভোটের পোষ্টারে বিল বোর্ড ছেয়ে গেছে। চলছে মিছিল সভা। এ যেন অন্যরকম পরিবেশ। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সাধারণ ভোটাররা এবার ভোট দিতে পারবে বলে ভোটারদের মনেও চলছে আনন্দ উল্লাস। কুষ্টিয়া জেলার প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত এ আসনে মোট ১৪২টি ভোট কেন্দ্রের ৮৮৭টি ভোট কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন অফিস।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, কুষ্টিয়া সদর আসনে মোট ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৩ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯ শত ৪৬ জন পুরুষ, ২. লাখ ১১ হাজার ১ শত ৩৩ জন মহিলা এবং ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাচনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‍্যাব পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

এই আসনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দল প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে হেবি ওয়েট প্রার্থী সরকার স্টিলস মিলের স্বত্বাধিকারী সরকার ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী গ্রীন কুষ্টিয়া ক্লিন কুষ্টিয়ার রূপকার শিক্ষানুরাগী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মুফতী আমির হামজা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আহমদ আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন হাতপাখা প্রতীকে। গণ অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকেও আব্দুল খালেককে ট্রাক প্রতীকে মনোনয়ন তুলেছেন। ভোটারদের মতে, এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতী আমির হামজার মধ্যে। একদিকে হামজার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে বিএনপির বিশাল সাংগঠনিক শক্তি। এই দুই পক্ষের মধ্যে ভোটযুদ্ধ হবে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী আব্দুল খালেক বলেন, বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ডের অভাবের কারণে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখলের আশঙ্কাও অস্বীকার করা যায় না। তারপরও আমরা আশাবাদী যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মুফতী আমির হামজার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন নির্বাচনের মাঠে ব্যস্ত আছি পরে আপনাকে ফোন দিব। বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, বিএনপি দেশের বড় রাজনৈতিক দল। দলের বাইরে গিয়ে কেউ কখনো ভালো করতে পারেনি। কুষ্টিয়াতেও তা হবে না।

ইসলামী দলগুলোর সমঝোতা ভোটের সমীকরণ বদলাতে পারবে না। তিনি বলেন, কুষ্টিয়ায় দলের মধ্যে কোন প্রকার বিভেদ নেই দলের সকল নেতা কর্মী এককাতারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে আশা করি বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রার্থী আমি নির্বাচিত হবো।নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে ততই উত্তেজনা বাড়ছে। ইসলামী দলগুলোর সমঝোতা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবং বিএনপি-জামায়াতের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই আসনকে দেশের অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত করেছে। ভোটের মাঠে শেষ মুহূর্তে দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রার্থী সমঝোতা এই আসনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুষ্টিয়া সদর আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা

ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার দৌড়ে সাধারণ ভোটাররা রয়েছে ফুরফুরে আমেজে

প্রকাশিত : ০১:১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

আসছে আগামী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। জনমনে দেখা দিয়েছে আনন্দের জোয়ার। এবারে সংসদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা। এই নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট মার্কেট শপিং মল সহ বিপনি বিতান গুলোতে চলছে ভোটের হাওয়া । এই আসনে ভোটের পোষ্টারে বিল বোর্ড ছেয়ে গেছে। চলছে মিছিল সভা। এ যেন অন্যরকম পরিবেশ। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সাধারণ ভোটাররা এবার ভোট দিতে পারবে বলে ভোটারদের মনেও চলছে আনন্দ উল্লাস। কুষ্টিয়া জেলার প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত এ আসনে মোট ১৪২টি ভোট কেন্দ্রের ৮৮৭টি ভোট কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন অফিস।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, কুষ্টিয়া সদর আসনে মোট ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৩ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯ শত ৪৬ জন পুরুষ, ২. লাখ ১১ হাজার ১ শত ৩৩ জন মহিলা এবং ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাচনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র‍্যাব পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

এই আসনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দল প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে হেবি ওয়েট প্রার্থী সরকার স্টিলস মিলের স্বত্বাধিকারী সরকার ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী গ্রীন কুষ্টিয়া ক্লিন কুষ্টিয়ার রূপকার শিক্ষানুরাগী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মুফতী আমির হামজা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আহমদ আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন হাতপাখা প্রতীকে। গণ অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকেও আব্দুল খালেককে ট্রাক প্রতীকে মনোনয়ন তুলেছেন। ভোটারদের মতে, এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতী আমির হামজার মধ্যে। একদিকে হামজার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে বিএনপির বিশাল সাংগঠনিক শক্তি। এই দুই পক্ষের মধ্যে ভোটযুদ্ধ হবে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী আব্দুল খালেক বলেন, বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি ও লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ডের অভাবের কারণে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখলের আশঙ্কাও অস্বীকার করা যায় না। তারপরও আমরা আশাবাদী যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মুফতী আমির হামজার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন নির্বাচনের মাঠে ব্যস্ত আছি পরে আপনাকে ফোন দিব। বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, বিএনপি দেশের বড় রাজনৈতিক দল। দলের বাইরে গিয়ে কেউ কখনো ভালো করতে পারেনি। কুষ্টিয়াতেও তা হবে না।

ইসলামী দলগুলোর সমঝোতা ভোটের সমীকরণ বদলাতে পারবে না। তিনি বলেন, কুষ্টিয়ায় দলের মধ্যে কোন প্রকার বিভেদ নেই দলের সকল নেতা কর্মী এককাতারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে আশা করি বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রার্থী আমি নির্বাচিত হবো।নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে ততই উত্তেজনা বাড়ছে। ইসলামী দলগুলোর সমঝোতা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ এবং বিএনপি-জামায়াতের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই আসনকে দেশের অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত করেছে। ভোটের মাঠে শেষ মুহূর্তে দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রার্থী সমঝোতা এই আসনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ডিএস./