সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কিসমতঘোনা গ্রামের ২৪ বছরের তরুণ মাসুম বেলাল একসময় প্রচলিত নিয়মে রুই, কাতলা, কার্প ও চিংড়ি চাষ করতেন। পরিশ্রম ছিল, ইচ্ছাশক্তিও ছিল, কিন্তু আধুনিক ধারণার অভাবে আয় বাড়ছিল না। ঘের ব্যবস্থাপনা, পানি – মাটির মান নিয়ন্ত্রণ ও রোগ প্রতিরোধে পিছিয়ে থাকায় উৎপাদনও সীমিত ছিল।
পরিবর্তনের সুযোগ আসে যখন তিনি যুক্ত হন সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) বাস্তবায়িত এবং পিকেএসএফ, ইফাদ ও ড্যানিডার সহায়তায় পরিচালিত আরএমটিপির ‘নিরাপদ মৎস্য ও মৎস্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ উপ – প্রকল্পে। এখান থেকে তিনি হাতে – কলমে শেখেন আধুনিক ঘের ব্যবস্থাপনা, প্রোবায়োটিক ব্যবহার, মাটি – পানি পরীক্ষা ও রোগ প্রতিরোধের কৌশল।
প্রশিক্ষণের পর মাসুম নিজের ৩৩ শতক ঘের নতুনভাবে সাজিয়ে কার্পের সঙ্গে গলদা – বাগদা চাষ শুরু করেন। নিয়মিত প্রোবায়োটিক, খাবার ও চুন ব্যবহারের ফলে মাছ দ্রুত বাড়তে থাকে, রোগও প্রায় দেখা যায় না। কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেন। সব খরচ বাদ দিয়ে হাতে থাকে প্রায় ৮৫ হাজার টাকার বেশি লাভ। এতে যেমন অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এসেছে, তেমনি বেড়েছে তার আত্মবিশ্বাস।
মাসুমের সাফল্য দেখে আশপাশের আরও কয়েকজন চাষি প্রোবায়োটিক ব্যবহার শুরু করেছেন এবং তারাও ভালো ফল পাচ্ছেন।
সাসের নির্বাহী পরিচালক শেখ ইমান আলী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন পদ্ধতি চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া, যা আয় বাড়াবে, ঝুঁকি কমাবে আর চাষকে করবে টেকসই। মাসুমের মতো তরুণেরা শেখার আগ্রহ দেখিয়ে কাজ করছে, তার সুফলও পাচ্ছে।
আরএমটিপি প্রকল্পের ভ্যালু চেইন ফ্যাসিলিটেটর অমিত খামারী বলেন, এই প্রকল্পের শক্তি মাঠের মানুষ। আমরা দিকনির্দেশনা দিই, আর তারা শ্রম দিয়ে সাফল্য তৈরি করে। প্রোবায়োটিক ব্যবহারে উৎপাদন বাড়ছে, রোগ কমছে, খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকছে – এটাই ভবিষ্যতের টেকসই মাছচাষ।
ডিএস./




















