০২:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদসহ চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমনি্বত নীতিমালা পুনরায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট। গতকাল সোমবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বিএফএ’র নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএফএ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিটের সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৯১ সাল থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার বিতরণ কার্যক্রম সরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে ৬৫০ টাকার ইউরিয়া সার বাজারে ২২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কৃষকরা বিপাকে পড়ছেন এবং বাজারে সিন্ডিকেট বা কারসাজির সুযোগ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বিএফএ নেতারা আরও বলেন, নতুন নীতিমালায় অনুমোদিত ইউনিয়নে মাত্র তিনজন নতুন ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব থাকলেও অনেক স্থানে বিদ্যমান ডিলারদের বাদ দিয়ে নতুনদের অযৌক্তিকভাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এতে সার বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা কমে গিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া সার পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, ডিলার কমিশন পুনর্বিবেচনা এবং ব্যাংক সুদহার কমানোর দাবি জানানো হয়। তারা উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালের পর থেকে পরিবহন, গুদাম ভাড়া, ব্যাংক সুদসহ সব ধরনের ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় কমিশন বাড়েনি। এর ফলে সার ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে যে চার দফা দাবি উপস্থাপন করা হয় তা হল- ২০০৯ সালের নীতিমালা পুনর্বহাল, ডিলারদের কমিশন হার বৃদ্ধি, জেলার চাহিদা অনুযায়ী সার সরকারিভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা ও ডিলারদের দেনা পরিশোধে ব্যাংক সুদের চাপ কমানো।

সংবাদ সম্মেলনে বিএফএ’র নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা সংশোধন না হলে সার সংকট বৃদ্ধি পাবে। কৃষি উৎপাদন কমে যাবে। কৃষকদের ওপর চাপ বাড়বে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএফএ যুাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মো. শহীদ মিয়া, সহ-সভাপতি মো. জাফর হোসেন, সহ-সভাপতি মো. ইযুাহিম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মো. নজাংল ইসলাম বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম সিদ্দিকী, অর্থ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দিনসহ জেলার সার ব্যবসায়ী ও সংগঠনের অন্যান্য নেতৃধবৃন্দ।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের প্রতিবাদসহ চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত : ০৪:৫৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমনি্বত নীতিমালা পুনরায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট। গতকাল সোমবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বিএফএ’র নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএফএ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিটের সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৯১ সাল থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার বিতরণ কার্যক্রম সরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে ৬৫০ টাকার ইউরিয়া সার বাজারে ২২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কৃষকরা বিপাকে পড়ছেন এবং বাজারে সিন্ডিকেট বা কারসাজির সুযোগ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বিএফএ নেতারা আরও বলেন, নতুন নীতিমালায় অনুমোদিত ইউনিয়নে মাত্র তিনজন নতুন ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব থাকলেও অনেক স্থানে বিদ্যমান ডিলারদের বাদ দিয়ে নতুনদের অযৌক্তিকভাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এতে সার বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা কমে গিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া সার পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, ডিলার কমিশন পুনর্বিবেচনা এবং ব্যাংক সুদহার কমানোর দাবি জানানো হয়। তারা উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালের পর থেকে পরিবহন, গুদাম ভাড়া, ব্যাংক সুদসহ সব ধরনের ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় কমিশন বাড়েনি। এর ফলে সার ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে যে চার দফা দাবি উপস্থাপন করা হয় তা হল- ২০০৯ সালের নীতিমালা পুনর্বহাল, ডিলারদের কমিশন হার বৃদ্ধি, জেলার চাহিদা অনুযায়ী সার সরকারিভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করা ও ডিলারদের দেনা পরিশোধে ব্যাংক সুদের চাপ কমানো।

সংবাদ সম্মেলনে বিএফএ’র নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা সংশোধন না হলে সার সংকট বৃদ্ধি পাবে। কৃষি উৎপাদন কমে যাবে। কৃষকদের ওপর চাপ বাড়বে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএফএ যুাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মো. শহীদ মিয়া, সহ-সভাপতি মো. জাফর হোসেন, সহ-সভাপতি মো. ইযুাহিম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মো. নজাংল ইসলাম বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম সিদ্দিকী, অর্থ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দিনসহ জেলার সার ব্যবসায়ী ও সংগঠনের অন্যান্য নেতৃধবৃন্দ।

ডিএস./