চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বায় রাতের আঁধারে খননযন্ত্র (স্কেভেটার) দিয়ে টিলা কেটে স্কুলের মাঠ ভরাটের অভিযোগ উঠেছে (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ছৈয়দ হোসেনের বিরুদ্ধে। এসব টিলা ও টিলাই রোপণকৃত গাছগাছালি কাটায় প্রাকৃতিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। এতে পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে ভূমিধ্বসের ঝুঁকি।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে চরম্বা ইউনিয়নের ৫ নাম্বার ওয়ার্ডস্থ কালোয়ার পাড়া সংলগ্ন হিন্দু পাড়ার পর জোড়া ব্রীজের উত্তর পাশে সরজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায় একটি সুবিশাল টিলার প্রায় অর্ধেক মাটি কেটে পাচার করা হয়েছে। টিলার বুকে ক্ষতবিক্ষত স্কেভেটারের তাজা দাগ লেগে আছে। টিলার উপর রোপণকৃত বিভিন্ন প্রজাতির গাছগুলোও মাটির সাথে কেটে ফেলা হয়েছে। এসব মাটি দিয়ে চরম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের দৃশ্যও চোখে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, বিগত এক সপ্তাহ ধরে রাতের আঁধারে টিলা কেটে এসব মাটি পার্শ্ববর্তী চরম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জায়গার মালিক মোঃ শফির সাথে কথা বললে তিনি জানান, পাহাড় অথবা টিলা কাটা আইনানুগ অপরাধ তাই তিনি এটি কাটতে চাইনি। ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ছৈয়দ হোসেন যখন স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য নিয়ে যাবে বলেছে তাই তিনি আর নিষেধ করতে পারেনাই। তিনি আরো বলেন, তিনি কাউকে মাটি বিক্রি করেনাই। (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান অথবা স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে মাটি বাবদ কোন টাকা পয়সা দেয়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে চরম্বা ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মিয়া জানান, স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য টিলাটি কাটা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছে এবং (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ছৈয়দ হোসেন এসব মাটি স্কুলের মাঠে দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
চরম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসাইন জানান, স্কুলের মাঠ ভরাটের জন্য মাটি গুলো (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ছৈয়দ হোসেন দিয়েছেন। মাটি বাবদ কোন টাকা দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ছৈয়দ হোসেন বলেন টিলা কাটার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেননা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন পাহাড়, টিলা, টপসযেল কাটা সম্পূর্ণ নিষেধ। কোনভাবেই পাহাড় অথবা টপসয়েল কাটা যাবেনা । এ ব্যাপারে সরজমিন পরিদর্শন করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিএস./




















