০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রার ও দূর্ণীতিবাজ অফিস সহায়ক মহাসিনের বদলির দাবীতে রেজিস্ট্রী কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দলিল লেখক সমিতির

সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রার ও তার আশির্বাদ পুষ্ট দূর্ণীতিবাজ অফিস সহায়ক মহাসিন খানকে অন্যত্র বদলির দাবীতে সকল প্রকার রেজিস্ট্রী কার্যক্রম বিরত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর দলিল লেখক সমিতির সদস্যগণ। এঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রার ও অফিস সহায়ক মহাসিন খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে ইতমধ্যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহায়ক দুর্নীতিবাজ (অনেক আগেই বদলীর মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ হয়েছে) মহাসিন খান প্রকাশ্যে রেজিস্ট্রী অফিসে দূর্ণীতির আখড়া খুলে বসেছেন। তার দূর্ণীতির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সদর দলিল লেখক সমিতি ও উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত রেজিষ্ট্রি সেবা নিতে আসা সাধারন জনগন ও ভূক্তভোগীরা। সাধারন জনগন এবং সদর থানা এলাকার সেবা গ্রহনকারী জনগন দূর্ণীতিবাজ মহাসিনের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরা দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে গত ইংরেজী ২৮/১০/২০২৫ তারিখে অফিস সহায়ক মহাসিন খানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেই মোতাবেক গত ১৭ নভেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের মৌখিক আশ্বাস দিলে দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ মৌখিক আশ্বাস পেয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু কোন অদৃশ্য শক্তির বলে জেলা রেজিস্ট্রার মহোদয় দূর্নীতিবাজ অফিস সহায়ক মহাসিন খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং তিনি আই,আর,ও স্যারের সুপারিশের কারনে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারছেন না বলে দলিল লেখকগনতে অবাগত করেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মহাসিন জেলা রেজিস্ট্রারের একজন আদায়কারী। তার মাধ্যমে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা জেলা রেজিস্ট্রার গ্রহন করে থাকে।
এরপর ১৮ নভেম্বর দলিল লেখক সমিতি এক সভা আহ্বান করেন। সভায় ১০০ জন দলিল লেখকদের মধ্যে ৮৬ জন দলিল লেখকরা উপস্থিত থেকে পুনরায় জেলা রেজিস্ট্রার হাফিজা হাকিম রুমার স্বরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মোতাবেক নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত হয়ে অফিস সহায়ক মহাসিন খানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুনরায় অনুরোধ করলে জেলা রেজিস্ট্রার হাফিজা হাকিম (রুমা) এবার আই,জি,আর স্যারের রেফারেন্স দিয়ে অফিস সহায়ক মহাসিন খানকে অন্যত্র বদলি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে সাফ জানিয়ে দেন এবং দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দকে অপমান অপদস্ত করে সেখান থেকে বের করে দেন।
এরপর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ গত ১৮ নভেম্বর বেলা বারোটায় পূণরায় একটি সভা আহবান করে।
সভায় উপস্থিত লেখকদের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহন হয় যে, দুর্নীতিবাজ মহসিন খান ও তার প্রশয়দাতা জেলা রেজিস্টার হাফিজা হাকিম রুমাকে অন্যত্র বদলি না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সকল কার্যত্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, দূর্ণীতিবাজ মহাসিন খান ফ্যাসিষ্ট সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ভাইপো পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন রাজত্ব চালিয়েছেন। তার বাড়ি ফ্যাসিষ্ট সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একই এলাকায়। তার তদবিরেই মহাসিনের চাকরি হয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এবিষয়ে জেলা রেজিস্টারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেননি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রার ও দূর্ণীতিবাজ অফিস সহায়ক মহাসিনের বদলির দাবীতে রেজিস্ট্রী কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দলিল লেখক সমিতির

প্রকাশিত : ০৯:২৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রার ও তার আশির্বাদ পুষ্ট দূর্ণীতিবাজ অফিস সহায়ক মহাসিন খানকে অন্যত্র বদলির দাবীতে সকল প্রকার রেজিস্ট্রী কার্যক্রম বিরত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর দলিল লেখক সমিতির সদস্যগণ। এঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রার ও অফিস সহায়ক মহাসিন খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে ইতমধ্যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহায়ক দুর্নীতিবাজ (অনেক আগেই বদলীর মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ হয়েছে) মহাসিন খান প্রকাশ্যে রেজিস্ট্রী অফিসে দূর্ণীতির আখড়া খুলে বসেছেন। তার দূর্ণীতির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সদর দলিল লেখক সমিতি ও উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত রেজিষ্ট্রি সেবা নিতে আসা সাধারন জনগন ও ভূক্তভোগীরা। সাধারন জনগন এবং সদর থানা এলাকার সেবা গ্রহনকারী জনগন দূর্ণীতিবাজ মহাসিনের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরা দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে গত ইংরেজী ২৮/১০/২০২৫ তারিখে অফিস সহায়ক মহাসিন খানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্টার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেই মোতাবেক গত ১৭ নভেম্বর জেলা রেজিস্ট্রার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের মৌখিক আশ্বাস দিলে দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ মৌখিক আশ্বাস পেয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু কোন অদৃশ্য শক্তির বলে জেলা রেজিস্ট্রার মহোদয় দূর্নীতিবাজ অফিস সহায়ক মহাসিন খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং তিনি আই,আর,ও স্যারের সুপারিশের কারনে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারছেন না বলে দলিল লেখকগনতে অবাগত করেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মহাসিন জেলা রেজিস্ট্রারের একজন আদায়কারী। তার মাধ্যমে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা জেলা রেজিস্ট্রার গ্রহন করে থাকে।
এরপর ১৮ নভেম্বর দলিল লেখক সমিতি এক সভা আহ্বান করেন। সভায় ১০০ জন দলিল লেখকদের মধ্যে ৮৬ জন দলিল লেখকরা উপস্থিত থেকে পুনরায় জেলা রেজিস্ট্রার হাফিজা হাকিম রুমার স্বরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মোতাবেক নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত হয়ে অফিস সহায়ক মহাসিন খানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুনরায় অনুরোধ করলে জেলা রেজিস্ট্রার হাফিজা হাকিম (রুমা) এবার আই,জি,আর স্যারের রেফারেন্স দিয়ে অফিস সহায়ক মহাসিন খানকে অন্যত্র বদলি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে সাফ জানিয়ে দেন এবং দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দকে অপমান অপদস্ত করে সেখান থেকে বের করে দেন।
এরপর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ গত ১৮ নভেম্বর বেলা বারোটায় পূণরায় একটি সভা আহবান করে।
সভায় উপস্থিত লেখকদের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহন হয় যে, দুর্নীতিবাজ মহসিন খান ও তার প্রশয়দাতা জেলা রেজিস্টার হাফিজা হাকিম রুমাকে অন্যত্র বদলি না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সকল কার্যত্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, দূর্ণীতিবাজ মহাসিন খান ফ্যাসিষ্ট সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ভাইপো পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন রাজত্ব চালিয়েছেন। তার বাড়ি ফ্যাসিষ্ট সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একই এলাকায়। তার তদবিরেই মহাসিনের চাকরি হয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এবিষয়ে জেলা রেজিস্টারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেননি।