০৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

মহাদেবপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁর মহাদেবপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মার্কেটের একটি দোকানঘর বরাদ্দকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েও দোকান বরাদ্দ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দরদাতা সৈয়দ আরাফাত আলী। এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তা ও সদস্য প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সময়ে মসজিদ মার্কেটের ৫ নম্বর দোকানঘরের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সৈয়দ আরাফাত আলী ২০ হাজার ১০০ টাকা প্রস্তাব দেন। তবে তাকে দোকান বরাদ্দ না দিয়ে তার চেয়ে কম দরদাতা, মহাদেবপুর উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও যুবলীগের সক্রিয় নেতা আদম আলী রিপন (বিশ্বাস)-কে ডেকে এনে পরে ২০ হাজার ২০০ টাকার চুক্তিতে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

সৈয়দ আরাফাত আলী বলেন, “মসজিদ কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও একাধিক সদস্যের উপস্থিতিতেই আমি দরপত্র দেই। সর্বোচ্চ দর দেওয়ার পরও আমাকে কোনো ফলাফল না জানিয়েই আমার চেয়ে কম দরদাতাকে ডেকে বেশি দর লিখিয়ে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি আমার সঙ্গে চরম অন্যায়।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানতে পেরে কমিটির অধিকাংশ সদস্য ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং তাদের স্বাক্ষর সংযুক্ত করে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

মসজিদ কমিটির সহ-সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম বাবু বলেন, “এটি প্রকাশ্য অনিয়ম। সর্বোচ্চ দরদাতাকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে একজনকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এ বরাদ্দ বাতিল করা উচিত।”

দাতা সদস্যসহ কমিটির আরও কয়েকজন সদস্য জানান, অনিয়ম, পক্ষপাত ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কমিটির অধিকাংশ সদস্যই ক্ষুব্ধ ও বিব্রত।

এদিকে আদম আলী রিপন বিশ্বাস এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, যেদিন মৌখিকভাবে দর আহবান করেছিলেন মসজিদে সেদিন আমি ১৯ হাজার টাকা লিখে দিয়েছিলাম কিন্তু পরে ইউএনও স্যার ডেকে ২০ হাজার দুই শত টাকায় আমাকে দোকানঘরটি বরাদ্দ দিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের একসময়ের সভাপতি ছিলাম, যুবলীগের কর্মীও ছিলাম তবে এখন কোন দল করি না।

সর্বোচ্চ দরদাতা সৈয়দ আরাফাত আলী তার অভিযোগপত্রে বরাদ্দ বাতিল করে যথাযথ নিয়মে পুনরায় দোকান বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মহাদেবপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি আরিফুজ্জামান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মসজিদ তো কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, যে যিনি বেশি দর দিতে চাইবেন তাকেই দোকানঘর দিতে হবে, মসজিদের একটা কমিটি রয়েছে আমি সেখানকার সভাপতি পুরো ম্যানেজিং কমিটি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই করা হয়েছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মহাদেবপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দোকান বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৫:০২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

নওগাঁর মহাদেবপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মার্কেটের একটি দোকানঘর বরাদ্দকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েও দোকান বরাদ্দ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দরদাতা সৈয়দ আরাফাত আলী। এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তা ও সদস্য প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সময়ে মসজিদ মার্কেটের ৫ নম্বর দোকানঘরের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সৈয়দ আরাফাত আলী ২০ হাজার ১০০ টাকা প্রস্তাব দেন। তবে তাকে দোকান বরাদ্দ না দিয়ে তার চেয়ে কম দরদাতা, মহাদেবপুর উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও যুবলীগের সক্রিয় নেতা আদম আলী রিপন (বিশ্বাস)-কে ডেকে এনে পরে ২০ হাজার ২০০ টাকার চুক্তিতে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

সৈয়দ আরাফাত আলী বলেন, “মসজিদ কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও একাধিক সদস্যের উপস্থিতিতেই আমি দরপত্র দেই। সর্বোচ্চ দর দেওয়ার পরও আমাকে কোনো ফলাফল না জানিয়েই আমার চেয়ে কম দরদাতাকে ডেকে বেশি দর লিখিয়ে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটি আমার সঙ্গে চরম অন্যায়।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানতে পেরে কমিটির অধিকাংশ সদস্য ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং তাদের স্বাক্ষর সংযুক্ত করে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

মসজিদ কমিটির সহ-সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলাম বাবু বলেন, “এটি প্রকাশ্য অনিয়ম। সর্বোচ্চ দরদাতাকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে একজনকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এ বরাদ্দ বাতিল করা উচিত।”

দাতা সদস্যসহ কমিটির আরও কয়েকজন সদস্য জানান, অনিয়ম, পক্ষপাত ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কমিটির অধিকাংশ সদস্যই ক্ষুব্ধ ও বিব্রত।

এদিকে আদম আলী রিপন বিশ্বাস এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, যেদিন মৌখিকভাবে দর আহবান করেছিলেন মসজিদে সেদিন আমি ১৯ হাজার টাকা লিখে দিয়েছিলাম কিন্তু পরে ইউএনও স্যার ডেকে ২০ হাজার দুই শত টাকায় আমাকে দোকানঘরটি বরাদ্দ দিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের একসময়ের সভাপতি ছিলাম, যুবলীগের কর্মীও ছিলাম তবে এখন কোন দল করি না।

সর্বোচ্চ দরদাতা সৈয়দ আরাফাত আলী তার অভিযোগপত্রে বরাদ্দ বাতিল করে যথাযথ নিয়মে পুনরায় দোকান বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মহাদেবপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি আরিফুজ্জামান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মসজিদ তো কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, যে যিনি বেশি দর দিতে চাইবেন তাকেই দোকানঘর দিতে হবে, মসজিদের একটা কমিটি রয়েছে আমি সেখানকার সভাপতি পুরো ম্যানেজিং কমিটি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই করা হয়েছে।

ডিএস./