মাদকের ভয়াল ছোবলে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ছিল পর্যটন নগরী কক্সবাজার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। কঠোর অবস্থান, দ্রুত অভিযান এবং দৃঢ় নেতৃত্বে আলোচনায় উঠে এসেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ছমিউদ্দিন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় কক্সবাজার পুলিশ লাইন্স মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পুলিশের কর্ণধার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন), (ক্রাইম), (ডিএসবি), (ট্রাফিক), জেলার বিভিন্ন সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, সহকারী পুলিশ সুপার, সকল থানার অফিসার ইনচার্জ এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
সভা শেষে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ওয়ারেন্ট তামিলসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বিভিন্ন স্তরের পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন পুলিশ সুপার। এর মধ্যে বিশেষভাবে পুরস্কৃত হন ওসি মোঃ ছমিউদ্দিন।
এদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ওসি ছমিউদ্দিন মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষণা করেন কঠোর অবস্থান। তার নেতৃত্বে কক্সবাজার সদর মডেল থানা এলাকায় একের পর এক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
মাত্র অল্প সময়ের ব্যবধানে ওসি মোঃ ছমিউদ্দিনের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও কৌশলী নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে জব্দ করা হয় ইয়াবার দুটি বড় চালান। এর মধ্যে একটি অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৯৩ হাজার ৬০০ পিচ ইয়াবা, আর অপর অভিযানে উদ্ধার করা হয় আরও ৫০ হাজার পিচ ইয়াবা। একদিনে এককভাবে এত বড় পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা সদর মডেল থানার ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্যমতে, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে এ ধরনের বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার কক্সবাজার সদর মডেল থানার জন্য এক নজিরবিহীন সাফল্য। এসব অভিযান শুধু মাদক কারবারিদের বড় আর্থিক ক্ষতিই করেনি, বরং এলাকায় সক্রিয় চক্রগুলোর নেটওয়ার্কেও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এমন সাহসী ও দৃঢ় অবস্থান মাদক কারবারিদের জন্য স্পষ্ট বার্তা কোনো প্রকার ছাড় নেই।
সভায় পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান তার বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযানে সফল কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে বলেন, পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠা দিয়ে দায়িত্ব পালন করলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ওসি ছমিউদ্দিনকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে জেলা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানে তার সাহসিকতা ও নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
পুরস্কার গ্রহণের পর কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ছমিউদ্দিন বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়; এটি আমার টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। পুলিশ সুপার মহোদয়ের অনুপ্রেরণা আমাদের কাজকে আরও গতিশীল করবে। কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত রাখতে আমরা সর্বোচ্চ কঠোরতা বজায় রাখব।
তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলমান থাকবে এবং কোনো প্রভাবশালী মহল বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।
স্থানীয়রা মনে করছেন, কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ওসি ছমিউদ্দিনের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এমন কঠোর পদক্ষেপ সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওসি ছমিউদ্দিন যে দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন, তা জেলা পুলিশের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও নেতৃত্বের ফলে ভবিষ্যতে কক্সবাজারে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল ও মাদকমুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে এমন প্রত্যাশাই এখন সর্বমহলে।
ডিএস






















