বিশ্বের বেশ কিছু দেশে নেকাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্কও রয়েছে। জনসম্মুখে নেকাব ও বোরকা নিষিদ্ধ করেছে দেশটি।
এদিকে, এ আইনের প্রশংসা করে বৃটেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, নেকাব পরিহিত মুসলিম নারীরা দেখতে চিঠির বাক্সের মতো। একইসঙ্গে তাদেরকে তিনি ব্যাংক ডাকাতদের সঙ্গেও তুলনা করেছেন।
টেলিগ্রাফ পত্রিকায় লেখা এক প্রবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার এ ইসলাম ভীতি সম্পন্ন মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র মুখপাত্র সোমবার বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা জনসম্মুখে নেকাব নিষিদ্ধকে সমর্থন করি না। আমরা ধর্মীয় ও লিঙ্গ সমতায় বিশ্বাসী। তাই এ ধরনের পদক্ষেপ হবে আমাদের জন্য স্ববিরোধী।
এছাড়াও ইউরোপের বেশ কিছু দেশে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিছু কিছু দেশে আবার পুরো মুখ ঢাকা বোরকা নিষিদ্ধ করা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা না থাকায় এসব অঞ্চলে কি জঙ্গি তৎপরতা বাড়ছে?
চলুন জেনে নেয়া যাক, ইউরোপের যেসব দেশে বোরকা নিষিদ্ধ-
ফ্রান্স: ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ, যেখানে বোরকা আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়। ফ্রান্সে ৫০ লাখ
মুসলমান বাস করে। ২০১১ সালের ১১ এপ্রিল এই আইন কার্যকর হয় দেশটিতে। বোরকা বা নেকাব পড়লে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে ওই আইনে।
স্পেন: পুরো স্পেনে অবশ্য বোরকা নিষিদ্ধ নয়, শুধুমাত্র বার্সেলোনা শহর কর্তৃপক্ষ সেখানে বোরকা নিষিদ্ধ করেছে।
ব্রিটেন: ব্রিটেনে প্রচুর মুসলমান বাস করে, তাই সেখানে কোনো ইসলামি পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে স্কুলগুলোতে নির্দিষ্ট পোশাক পরতে হয়। ২০০৭ সালে বেশ কয়েকটি মামলার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ঠিক করে, স্কুলে কেউ বোরকা বা নেকাব পরতে পারবে না।
ইটালি: ইটালির বেশ কয়েকটি শহরে নেকাব নিষিদ্ধ। উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নোভারা কর্তৃপক্ষ সেখানে আইন করে বোরকা নিষিদ্ধ করেছে। ৭০-এর দশকেই মুখ ঢেকে রাখা সব ধরনের ইসলামিক পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইটালি।
জার্মানি: জার্মানির রক্ষণশীল রাজনীতিকদের মধ্যে বোরকা নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। সিডিইউ দলের একাধিক রাজনীতিক স্কুল, সরকারি অফিস, আদালতকক্ষ ও গাড়ি চালানোর সময় বোরকা ও গোটা মুখ ঢাকা নিকাব পরা নিষিদ্ধ করতে চান। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জার্মানও প্রকাশ্যে বোরকাধারী নারীদের দেখতে নারাজ।
সুইজারল্যান্ড: ২০১৩ সালে সুইজারল্যান্ডের ইটালীয় ভাষাভাষীদের এলাকা টিসিনোতে বোরকা নিষিদ্ধের ওপর ভোট হয়। নিষিদ্ধ করার পক্ষে পড়ে ৬৫ শতাংশ ভোট৷ এরপর ২৬টি শহরে বোরকা নিষিদ্ধ হয়। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে লুগানো, লোকারনো, মাগাদিনোসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বোরকা নিষিদ্ধ হয়। কেউ জনসমক্ষে বোরকা পড়লে ৯ হাজার ২০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে তার।
বেলজিয়াম: ২০১১ সালের জুলাইয়ে বেলজিয়ামেও নেকাব নিষিদ্ধ হয়। অর্থাৎ কোনো নারী তার পুরো মুখ কাপড়ে ঢেকে রাখতে পারবে না দেশটিতে।
নেদারল্যান্ডস: ২০১৫ সালে আইন করে নেদারল্যান্ডসে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে জনসমক্ষে, অর্থাৎ স্কুল, হাসপাতাল ইত্যাদির মতো জায়গায বোরকা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে নেদারল্যান্ডসে।
অস্ট্রিয়া: দেশটির ক্ষমতাসীন জোট সরকার প্রকাশ্য স্থানে পুরো মুখ ঢাকা নিকাব নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। স্কুল, কলেজ, অফিস ও আদালতে নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে একমত হয়েছে সরকারের শরিক দলগুলোও। এছাড়া যারা সরকারি চাকরি করেন, তাদের মাথায় স্কার্ফ, হিজাব কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও বিবেচনা করছে দেশটির ক্ষমতাসীন জোট সরকার।


























