০৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বৃষ্টি নামলেই দুর্ভোগ:রংপুর স্টেশনে ছাউনির ফুটো,পিচ্ছিল প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকি

টানা ভারী বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন রেলযাত্রীরা। বৃষ্টি নামলেই রংপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিণত হয় দুর্ভোগের কেন্দ্রে। যাত্রীদের আশ্রয়ের জন্য নির্মিত প্ল্যাটফর্মের ছাউনিই এখন তাদের ভোগান্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার(২৭ এপ্রিল)সকাল থেকে চলা টানা বর্ষণে সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মজুড়ে পানি জমে ছোট ছোট জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ছাউনির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ছিদ্র দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। ফলে ছাউনির নিচেও শুকনো থাকার কোনো সুযোগ নেই। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে থাকছেন, তবুও ভিজে যাচ্ছেন।

প্ল্যাটফর্মের মেঝে ভিজে পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক যাত্রী পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় বলে জানান নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা।

ঢাকাগামী যাত্রী আল-মামুন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্ষা এলেই এই স্টেশনের চিত্র পাল্টে যায়। ছাউনির নিচে দাঁড়িয়েও ভিজতে হয়। শুনেছিলাম সংস্কার হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রভাব দেখি না।”

আরেক যাত্রী এমদাদুল হক বলেন, “ছাউনির ফাঁক দিয়ে পানি ঝরছে। বসার জায়গা নেই, দাঁড়ানোর জায়গাও ভেজা। এমন পরিস্থিতিতে অপেক্ষা করা খুব কষ্টকর।”

প্ল্যাটফর্মে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাও যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলেছে। বৃষ্টি হলে অনেককে ভেজা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। একই সঙ্গে ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া ভাসমান মানুষেরাও চরম দুর্ভোগে পড়েন। ভবঘুরে মনসুর আলী জানান, “রাতে বৃষ্টি হলে পুরো প্ল্যাটফর্ম ভিজে যায়। ছাউনি ফুটো থাকায় কোথাও শুকনো জায়গা পাওয়া যায় না।”

স্থানীয় বাসিন্দা স্বাধীন সরকার বলেন,“এটি বিভাগীয় শহরের স্টেশন হলেও অবস্থা দেখে তা বোঝার উপায় নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব তো আছেই, তার ওপর বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।”

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই স্টেশনটির উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোনাব্বর হোসেন মনা বলেন, “১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেশনটি সর্বশেষ ১৯৪৪ সালে বড় ধরনের সংস্কার হয়েছে। এরপর প্রায় ৮০ বছরেও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। এখনও এটি ‘বি’ গ্রেডের স্টেশন হিসেবে রয়ে গেছে।”

এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে,রংপুরে ২৪ ঘণ্টায় ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা মৌসুমের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।এর ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্টেশন এলাকাও এর বাইরে নয়।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, “ছাউনির কিছু টিন সরে যাওয়ায় পানি পড়ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

যাত্রীদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়-দ্রুত কার্যকর সংস্কারই পারে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে। বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই রেলস্টেশনকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করতে এখনই জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ডিএস,.

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বৃষ্টি নামলেই দুর্ভোগ:রংপুর স্টেশনে ছাউনির ফুটো,পিচ্ছিল প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকি

বৃষ্টি নামলেই দুর্ভোগ:রংপুর স্টেশনে ছাউনির ফুটো,পিচ্ছিল প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকি

প্রকাশিত : ০৫:১৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

টানা ভারী বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন রেলযাত্রীরা। বৃষ্টি নামলেই রংপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিণত হয় দুর্ভোগের কেন্দ্রে। যাত্রীদের আশ্রয়ের জন্য নির্মিত প্ল্যাটফর্মের ছাউনিই এখন তাদের ভোগান্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার(২৭ এপ্রিল)সকাল থেকে চলা টানা বর্ষণে সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মজুড়ে পানি জমে ছোট ছোট জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ছাউনির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ছিদ্র দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। ফলে ছাউনির নিচেও শুকনো থাকার কোনো সুযোগ নেই। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে থাকছেন, তবুও ভিজে যাচ্ছেন।

প্ল্যাটফর্মের মেঝে ভিজে পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক যাত্রী পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় বলে জানান নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা।

ঢাকাগামী যাত্রী আল-মামুন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্ষা এলেই এই স্টেশনের চিত্র পাল্টে যায়। ছাউনির নিচে দাঁড়িয়েও ভিজতে হয়। শুনেছিলাম সংস্কার হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রভাব দেখি না।”

আরেক যাত্রী এমদাদুল হক বলেন, “ছাউনির ফাঁক দিয়ে পানি ঝরছে। বসার জায়গা নেই, দাঁড়ানোর জায়গাও ভেজা। এমন পরিস্থিতিতে অপেক্ষা করা খুব কষ্টকর।”

প্ল্যাটফর্মে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাও যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলেছে। বৃষ্টি হলে অনেককে ভেজা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। একই সঙ্গে ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া ভাসমান মানুষেরাও চরম দুর্ভোগে পড়েন। ভবঘুরে মনসুর আলী জানান, “রাতে বৃষ্টি হলে পুরো প্ল্যাটফর্ম ভিজে যায়। ছাউনি ফুটো থাকায় কোথাও শুকনো জায়গা পাওয়া যায় না।”

স্থানীয় বাসিন্দা স্বাধীন সরকার বলেন,“এটি বিভাগীয় শহরের স্টেশন হলেও অবস্থা দেখে তা বোঝার উপায় নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব তো আছেই, তার ওপর বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।”

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই স্টেশনটির উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোনাব্বর হোসেন মনা বলেন, “১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেশনটি সর্বশেষ ১৯৪৪ সালে বড় ধরনের সংস্কার হয়েছে। এরপর প্রায় ৮০ বছরেও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। এখনও এটি ‘বি’ গ্রেডের স্টেশন হিসেবে রয়ে গেছে।”

এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে,রংপুরে ২৪ ঘণ্টায় ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা মৌসুমের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।এর ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্টেশন এলাকাও এর বাইরে নয়।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, “ছাউনির কিছু টিন সরে যাওয়ায় পানি পড়ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

যাত্রীদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়-দ্রুত কার্যকর সংস্কারই পারে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে। বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই রেলস্টেশনকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করতে এখনই জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ডিএস,.