০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বহুল আলোচিত সাত খুনের বিচার দ্রুত কার্যকর করতে স্বজনদের মানববন্ধন

নারায়ণগঞ্জে বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

‎মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিহতদের পরিবাররের স্বজনরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট হত্যাকারীদের বিচারের দাবি করেন।

‎মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ২০১৪ সালে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তা দেশবাসী সবাই জানেন এবং দেখেছেন। নূর হোসেন নামের এক মাফিয়া কিভাবে টাকার প্রভাবে র‍্যাব সদস্যদের ব্যবহার করে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছিল। সেই দৃশ্য দেখে সারা দেশের মানুষ কেঁদেছিল। পুরো জাতি তখন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

আমরা জানতে চাই, কেন র‍্যাব সদস্যরা নূর হোসেনের কথায় এত ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘটালো? কেন সাতটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিল? যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেই মানুষ নিরাপত্তা না পায়, তাহলে মানুষ কার কাছে যাবে? র‍্যাবের ওপর যে কলঙ্কের দাগ লেগেছে, তা মুছতে হলে এই মামলার বিচার দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ‎সাংবাদিক ভাইয়েরা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের পাশে ছিলেন, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সেই সময় দেশের মানুষও আমাদের পাশে ছিল। বেগম খালেদা জিয়া এসেছিলেন এবং বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই হত্যার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে। এখন আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমান সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন এবং সাতটি পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন।

তিনি আরও বলেন, ‎আজ হয়তো ভয়-ভীতি, মামলা ও আতঙ্কের কারণে অনেকেই সামনে আসতে সাহস পান না। কিন্তু আমরা তো আমাদের আপনজন হারিয়েছি। আমরা পরিবারগুলো ১২ বছর ধরে বুকভরা কান্না আর অসহনীয় কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। আমাদের একটাই দাবি নিহত নজরুল ইসলামসহ সাত পরিবারের সদস্যরা এই নির্মম হত্যার বিচার যেন আমরা জীবিত অবস্থায় দেখে যেতে পারি।

‎আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন এই মামলার রায়ের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা করেন। আমরা আশা করি, ২০২৬ সালের মধ্যেই এই রায় কার্যকর হবে।

‎‎উল্লেখ্য, গত ‎২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়ক থেকে তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ মোট সাতজনকে গুম করা হয়। তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নিখোঁজদের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে দুটি হত্যা মামলা করেন। এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে আপিল বিভাগে চলমান রয়েছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বৃষ্টি নামলেই দুর্ভোগ:রংপুর স্টেশনে ছাউনির ফুটো,পিচ্ছিল প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকি

নারায়ণগঞ্জে বহুল আলোচিত সাত খুনের বিচার দ্রুত কার্যকর করতে স্বজনদের মানববন্ধন

প্রকাশিত : ০৫:০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

‎মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিহতদের পরিবাররের স্বজনরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট হত্যাকারীদের বিচারের দাবি করেন।

‎মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ২০১৪ সালে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তা দেশবাসী সবাই জানেন এবং দেখেছেন। নূর হোসেন নামের এক মাফিয়া কিভাবে টাকার প্রভাবে র‍্যাব সদস্যদের ব্যবহার করে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছিল। সেই দৃশ্য দেখে সারা দেশের মানুষ কেঁদেছিল। পুরো জাতি তখন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

আমরা জানতে চাই, কেন র‍্যাব সদস্যরা নূর হোসেনের কথায় এত ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘটালো? কেন সাতটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিল? যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেই মানুষ নিরাপত্তা না পায়, তাহলে মানুষ কার কাছে যাবে? র‍্যাবের ওপর যে কলঙ্কের দাগ লেগেছে, তা মুছতে হলে এই মামলার বিচার দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ‎সাংবাদিক ভাইয়েরা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের পাশে ছিলেন, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সেই সময় দেশের মানুষও আমাদের পাশে ছিল। বেগম খালেদা জিয়া এসেছিলেন এবং বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই হত্যার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে। এখন আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমান সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন এবং সাতটি পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন।

তিনি আরও বলেন, ‎আজ হয়তো ভয়-ভীতি, মামলা ও আতঙ্কের কারণে অনেকেই সামনে আসতে সাহস পান না। কিন্তু আমরা তো আমাদের আপনজন হারিয়েছি। আমরা পরিবারগুলো ১২ বছর ধরে বুকভরা কান্না আর অসহনীয় কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। আমাদের একটাই দাবি নিহত নজরুল ইসলামসহ সাত পরিবারের সদস্যরা এই নির্মম হত্যার বিচার যেন আমরা জীবিত অবস্থায় দেখে যেতে পারি।

‎আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন এই মামলার রায়ের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা করেন। আমরা আশা করি, ২০২৬ সালের মধ্যেই এই রায় কার্যকর হবে।

‎‎উল্লেখ্য, গত ‎২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়ক থেকে তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ মোট সাতজনকে গুম করা হয়। তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নিখোঁজদের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে দুটি হত্যা মামলা করেন। এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে আপিল বিভাগে চলমান রয়েছে।

ডিএস./