০৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

খামারের পাশাপাশি সাইলেজ উৎপাদনে সফল তরুণ উদ্যোক্তা সৈকত, কর্মসংস্থান ৩০ জনের

খামারের পাশাপাশি গরুর পুষ্টিকর খাদ্য সাইলেজ উৎপাদন করে সফলতার দৃষ্টান্ত গড়েছেন নীলফামারীর তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল আজম সৈকত। নিজের খামারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠানের নাম “আম্মার লাইভস্টক এন্ড এগ্রো”। এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ৩০ জন মানুষের।

জানা যায়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুট্টা, নেপিয়ার ঘাসসহ বিভিন্ন সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করে সাইলেজ তৈরি করছেন সৈকত। এতে সারা বছর গরুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন ঘাসের সংকট দেখা দেয়, তখন সাইলেজ খামারিদের জন্য হয়ে ওঠে নির্ভরযোগ্য খাদ্য।
প্রথমদিকে ছোট পরিসরে নিজের খামারের জন্য সাইলেজ উৎপাদন শুরু করলেও বর্তমানে তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছেন তিনি। নীলফামারী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারিরা তার তৈরি সাইলেজ সংগ্রহ করছেন।

প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আমাদের সাইলেজ সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত। বর্ষা মৌসুমে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই আগে থেকেই পর্যাপ্ত মজুদ রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক ওমর ফারুক জানান, “আমি প্রায় ৯ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করে আয় করছি। মাঠ থেকে ভুট্টাগাছ এনে কাটিং করার পর ২১ দিন সংরক্ষণ করে সাইলেজ প্রস্তুত করা হয়। এটি বাজারের অন্যান্য খাদ্যের তুলনায় সাশ্রয়ী।”

উদ্যোক্তা সৈকত বলেন, “বর্ষা মৌসুমে গরুর খাবারের সংকট দেখা দেয়। তাই ঘাস ও ভুট্টা সংরক্ষণ করে সাইলেজ তৈরি করছি। এতে গরুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে, দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়ে। বর্তমানে আমাদের খামারে ৭০টি গরু রয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রায় ৫০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি।”

তিনি আরও জানান, তার প্রতিষ্ঠানের সাইলেজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় খামারি মমিনুর ইসলাম বলেন, “সৈকতের তৈরি সাইলেজ ব্যবহার করে আমরা উপকৃত হচ্ছি। এতে গরুর খাদ্য খরচ কমছে, আবার সহজেই পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যাচ্ছে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম বলেন, “বাজারে প্রচলিত গরুর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় খামারিরা সমস্যায় পড়েন। এ কারণে উদ্যোক্তাদের সাইলেজ উৎপাদনে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। সাইলেজ পশুর জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর ও লাভজনক খাদ্য।”

তিনি আরও বলেন, তরুণদের এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসা উচিত। এতে যেমন আত্মকর্মসংস্থান তৈরি হবে, তেমনি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতও আরও শক্তিশালী হবে।

সৈকতের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়িয়ে জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

ডিএস.

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ফকির বাজার স্কুল এন্ড কলেজের সাধারন সভা অনুষ্ঠিত

খামারের পাশাপাশি সাইলেজ উৎপাদনে সফল তরুণ উদ্যোক্তা সৈকত, কর্মসংস্থান ৩০ জনের

প্রকাশিত : ০৪:৩২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

খামারের পাশাপাশি গরুর পুষ্টিকর খাদ্য সাইলেজ উৎপাদন করে সফলতার দৃষ্টান্ত গড়েছেন নীলফামারীর তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল আজম সৈকত। নিজের খামারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠানের নাম “আম্মার লাইভস্টক এন্ড এগ্রো”। এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ৩০ জন মানুষের।

জানা যায়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুট্টা, নেপিয়ার ঘাসসহ বিভিন্ন সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করে সাইলেজ তৈরি করছেন সৈকত। এতে সারা বছর গরুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন ঘাসের সংকট দেখা দেয়, তখন সাইলেজ খামারিদের জন্য হয়ে ওঠে নির্ভরযোগ্য খাদ্য।
প্রথমদিকে ছোট পরিসরে নিজের খামারের জন্য সাইলেজ উৎপাদন শুরু করলেও বর্তমানে তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছেন তিনি। নীলফামারী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারিরা তার তৈরি সাইলেজ সংগ্রহ করছেন।

প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আমাদের সাইলেজ সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত। বর্ষা মৌসুমে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই আগে থেকেই পর্যাপ্ত মজুদ রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক ওমর ফারুক জানান, “আমি প্রায় ৯ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করে আয় করছি। মাঠ থেকে ভুট্টাগাছ এনে কাটিং করার পর ২১ দিন সংরক্ষণ করে সাইলেজ প্রস্তুত করা হয়। এটি বাজারের অন্যান্য খাদ্যের তুলনায় সাশ্রয়ী।”

উদ্যোক্তা সৈকত বলেন, “বর্ষা মৌসুমে গরুর খাবারের সংকট দেখা দেয়। তাই ঘাস ও ভুট্টা সংরক্ষণ করে সাইলেজ তৈরি করছি। এতে গরুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে, দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়ে। বর্তমানে আমাদের খামারে ৭০টি গরু রয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রায় ৫০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি।”

তিনি আরও জানান, তার প্রতিষ্ঠানের সাইলেজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় খামারি মমিনুর ইসলাম বলেন, “সৈকতের তৈরি সাইলেজ ব্যবহার করে আমরা উপকৃত হচ্ছি। এতে গরুর খাদ্য খরচ কমছে, আবার সহজেই পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যাচ্ছে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম বলেন, “বাজারে প্রচলিত গরুর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় খামারিরা সমস্যায় পড়েন। এ কারণে উদ্যোক্তাদের সাইলেজ উৎপাদনে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। সাইলেজ পশুর জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর ও লাভজনক খাদ্য।”

তিনি আরও বলেন, তরুণদের এমন উদ্যোগে এগিয়ে আসা উচিত। এতে যেমন আত্মকর্মসংস্থান তৈরি হবে, তেমনি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতও আরও শক্তিশালী হবে।

সৈকতের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকায় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়িয়ে জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

ডিএস.