মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যারা বিচরণ করেন তাদের কোন জায়গা নেই। মওলানা ভাসানী বাংলাদেশের একজন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। কাজেই তার স্মৃতি বিজড়িত ভাসানী হলকে রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব আমাদের।
শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের জরাজীর্ণ ভাসানী হল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যেহেতু এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উদ্বোধন করেছিলেন। টাঙ্গাইলকে এক সময় সাংস্কৃতিক নগরী বলা হতো। সেই নগরীতে এভাবে একটি মিলনায়তন পড়ে থাকবে তা হতে পারে না। ইতিমধ্যেই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে করা সম্ভব সেটিই আমরা পদক্ষেপ নিবো। মডেল টাঙ্গাইল গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ভাসানী হলের পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য প্রয়োাজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। হলটির ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে দ্রুত সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলকে একটি সাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ইতি মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংস্কৃতি চর্চার বিকাশ, নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ভাসানী হল ছিল টাঙ্গাইলের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম কেন্দ্র। এই হলকে ঘিরে নাটক, সংগীত, আলোচনা সভাসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অনুষ্ঠিত হতো। ফলে টাঙ্গাইল সারাদেশে একটি সাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ভবনটি তার জৌলুস হারিয়েছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঐতিহাসিক এই ভবনটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। ফলে ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকন্ড বন্ধ হয়ে যায়। ঐতিহ্যবাহী এ স্থাপনাটিকে পুনরুজ্জীবিত করে টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ভাসানী হলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাওলানা ভাসানী। তার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য জরাজীর্ণ ভবনটি সংস্কার করা হবে। এই টাঙ্গাইলকে আধুনিক মডেল টাউন গড়ে তোলা হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন মিয়া, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।
ডিএস./



















