০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পাটের ফলন ও দাম দুই-ই ভালো, স্বস্তিতে কৃষকেরা

গত কয়েক বছর ধরে পাটের ফলন ও বাজারদর নিয়ে হতাশ ছিলেন দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকেরা। এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সময়মত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজারেও মিলছে ভালো দাম।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আবাদও হয়েছে সমপরিমাণ জমিতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১১ মেট্রিক টন বা ৬০৮ বেল পাট। এ বছর সিভিএল-১ ও ৯৮৯৭ এই দুই জাতের পাট আবাদ করা হয়েছে উপজেলায়। এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ করে ফেলেছেন কৃষক। কৃষি বিভাগের হিসাবে কাটা জমি থেকেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পাট পাওয়া গেছে। এখনও অবশিষ্ট ১০ ভাগ জমির পাট কাটা বাকি রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজান ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের হিসাবে এক বিঘা জমিতে পাট চাষে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন হয় ৮ থেকে ১০ মণ পাট। বর্তমান বাজারদরে ওই পাট বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে। খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকছে ১৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। পাটের মান ও দামের ওপর লাভের পরিমাণ কমবেশি হয়।

উপজেলার আটপুকুরহাটসহ কয়েকটি হাটে গিয়ে দেখা যায়, রিকশাভ্যান ও ইজিবাইকে করে পাট নিয়ে আসছেন কৃষকেরা। পাটের মান অনুযায়ী দরদাম করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মোক্তারপুর গ্রামের কৃষক এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। ওই জমি থেকে ৮ মণ পাট পেয়েছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। ৩ হাজার ৯০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করেছেন ৩১ হাজার ২০০ টাকায়। এতে তার লাভ হয়েছে ১৮ হাজার ২০০ টাকা।

একই গ্রামের কৃষক মঈনুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর পাটের ফলন তেমন ভালো হয়নি। পাট চাষ করে লোকসান হচ্ছিল। তবে এ বছর ফলন ও দাম দুটিই ভালো পেয়েছেন। এক বিঘা জমিতে তোষা জাতের পাট চাষ করে ১৯ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।

আলু চাষের ক্ষতি পাট দিয়ে কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা। উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের হড়হড়িয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, আলু চাষে লোকসান গুনে ২০ শতক জমিতে পাট চাষ করেছেন। এবার পাটে আলুর কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

পাটের আড়তদার শান্ত কুমার কুন্ডু বলেন, পাটের বাজার ভালো রয়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আড়তে বেচাকেনা হচ্ছে। এতে এ বছর পাট চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। এ বছর লাভ হওয়ায় আগামী সৌমুমে উপজেলায় পাটের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন।

তিনি বলেন, এ বছর পাট চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কৃষকদের তেমন সমস্যা হয়নি। ভালো বাজারদরের কারণে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পাটের ফলন ও দাম দুই-ই ভালো, স্বস্তিতে কৃষকেরা

প্রকাশিত : ০৪:২০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত কয়েক বছর ধরে পাটের ফলন ও বাজারদর নিয়ে হতাশ ছিলেন দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকেরা। এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সময়মত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজারেও মিলছে ভালো দাম।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আবাদও হয়েছে সমপরিমাণ জমিতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১১ মেট্রিক টন বা ৬০৮ বেল পাট। এ বছর সিভিএল-১ ও ৯৮৯৭ এই দুই জাতের পাট আবাদ করা হয়েছে উপজেলায়। এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ করে ফেলেছেন কৃষক। কৃষি বিভাগের হিসাবে কাটা জমি থেকেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পাট পাওয়া গেছে। এখনও অবশিষ্ট ১০ ভাগ জমির পাট কাটা বাকি রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজান ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের হিসাবে এক বিঘা জমিতে পাট চাষে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন হয় ৮ থেকে ১০ মণ পাট। বর্তমান বাজারদরে ওই পাট বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে। খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকছে ১৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। পাটের মান ও দামের ওপর লাভের পরিমাণ কমবেশি হয়।

উপজেলার আটপুকুরহাটসহ কয়েকটি হাটে গিয়ে দেখা যায়, রিকশাভ্যান ও ইজিবাইকে করে পাট নিয়ে আসছেন কৃষকেরা। পাটের মান অনুযায়ী দরদাম করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মোক্তারপুর গ্রামের কৃষক এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। ওই জমি থেকে ৮ মণ পাট পেয়েছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। ৩ হাজার ৯০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করেছেন ৩১ হাজার ২০০ টাকায়। এতে তার লাভ হয়েছে ১৮ হাজার ২০০ টাকা।

একই গ্রামের কৃষক মঈনুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর পাটের ফলন তেমন ভালো হয়নি। পাট চাষ করে লোকসান হচ্ছিল। তবে এ বছর ফলন ও দাম দুটিই ভালো পেয়েছেন। এক বিঘা জমিতে তোষা জাতের পাট চাষ করে ১৯ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।

আলু চাষের ক্ষতি পাট দিয়ে কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা। উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের হড়হড়িয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, আলু চাষে লোকসান গুনে ২০ শতক জমিতে পাট চাষ করেছেন। এবার পাটে আলুর কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

পাটের আড়তদার শান্ত কুমার কুন্ডু বলেন, পাটের বাজার ভালো রয়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আড়তে বেচাকেনা হচ্ছে। এতে এ বছর পাট চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। এ বছর লাভ হওয়ায় আগামী সৌমুমে উপজেলায় পাটের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন।

তিনি বলেন, এ বছর পাট চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কৃষকদের তেমন সমস্যা হয়নি। ভালো বাজারদরের কারণে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

ডিএস./