০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

সাতকানিয়ায় স্কুলের শ্রেণিকক্ষের পাশে হাসপাতালের বর্জ্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ-শেফা হাসপাতালের বর্জ্য আশ-শেফা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষের পাশেই ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, আশ-শেফা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষের পাশে বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত বর্জ্য পড়ে রয়েছে। এসব বর্জ্যের কারণে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পাশে হাসপাতালের বর্জ্য ফেলা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ওই শ্রেণিকক্ষ ও আশপাশের এলাকায় চলাচল করে। ফলে এসব বর্জ্য থেকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে উৎপন্ন বর্জ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নির্ধারিত নিয়মে অপসারণ না করে বিদ্যালয়ের পাশে ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “ক্লাসরুমের পাশে বর্জ্য থাকায় দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। মশা-মাছিও দেখা যায়। এতে আমাদের পড়াশোনায়ও সমস্যা হচ্ছে।”

অভিভাবকরা বলেন, “শিশুদের স্কুলে পাঠানো হয় নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার জন্য। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের পাশে হাসপাতালের বর্জ্য থাকলে বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের। এই বর্জ্য গুলোর কারণে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দ্রুত এগুলো পরিস্কারের দাবি জানান তারা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আশ-শেফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রথমে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে হাসপাতালের পাশে থাকা বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের ডিএমডি আজিজুল হক বলেন, “শ্রেণিকক্ষের একেবারে পাশে এভাবে বর্জ্য পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় পরিবেশও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অমিত দে বলেন, “এভাবে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কোনো নিয়ম নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি এভাবে বর্জ্য ফেলে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা এখনই দেখব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্হা নির্ধারিত স্হানে ফেলতে হবে, যদি হাসপাতালের বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হবে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের সাথে কথা বলছি।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে কোনো ধরনের চিকিৎসা বর্জ্য ফেলা না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নীলফামারীতে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

সাতকানিয়ায় স্কুলের শ্রেণিকক্ষের পাশে হাসপাতালের বর্জ্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত : ০৪:৫৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আশ-শেফা হাসপাতালের বর্জ্য আশ-শেফা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষের পাশেই ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, আশ-শেফা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষের পাশে বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত বর্জ্য পড়ে রয়েছে। এসব বর্জ্যের কারণে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পাশে হাসপাতালের বর্জ্য ফেলা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ওই শ্রেণিকক্ষ ও আশপাশের এলাকায় চলাচল করে। ফলে এসব বর্জ্য থেকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে উৎপন্ন বর্জ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নির্ধারিত নিয়মে অপসারণ না করে বিদ্যালয়ের পাশে ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “ক্লাসরুমের পাশে বর্জ্য থাকায় দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। মশা-মাছিও দেখা যায়। এতে আমাদের পড়াশোনায়ও সমস্যা হচ্ছে।”

অভিভাবকরা বলেন, “শিশুদের স্কুলে পাঠানো হয় নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার জন্য। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের পাশে হাসপাতালের বর্জ্য থাকলে বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের। এই বর্জ্য গুলোর কারণে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দ্রুত এগুলো পরিস্কারের দাবি জানান তারা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে আশ-শেফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রথমে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে হাসপাতালের পাশে থাকা বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের ডিএমডি আজিজুল হক বলেন, “শ্রেণিকক্ষের একেবারে পাশে এভাবে বর্জ্য পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় পরিবেশও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অমিত দে বলেন, “এভাবে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কোনো নিয়ম নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি এভাবে বর্জ্য ফেলে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা এখনই দেখব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্হা নির্ধারিত স্হানে ফেলতে হবে, যদি হাসপাতালের বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হবে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের সাথে কথা বলছি।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে কোনো ধরনের চিকিৎসা বর্জ্য ফেলা না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

ডিএস./