০৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ক্যান্টন ফেয়ার ঘিরে বিদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটকের বাড়তি উপস্থিতি; চীনে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশিদের, আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা

চীনের বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, গুয়াংজুতে তৈরি হচ্ছে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র চীনের গুয়াংজুতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ও আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে বলে মনে করছেন দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা। ক্যান্টন ফেয়ারকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের সমাগমের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও নতুন ও পুরোনো ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ভিসা জটিলতার প্রেক্ষাপটে চীন এখন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের কাছে বিকল্প ও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে বলে তাঁদের অভিমত।

গুয়াংজুতে অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু পণ্য আমদানি নয়, চীনের উৎপাদনব্যবস্থা, কাঁচামালের সহজলভ্যতা, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে দেশটির প্রতি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে ক্যান্টন ফেয়ারের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীতে সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের মান যাচাই এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তাঁদের আকৃষ্ট করছে।

ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী আবদুল মোমেন জানান, গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তিনি নিয়মিত চীনের গুয়াংজুতে আসছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এত বছর গুয়াংজুতে আসা-যাওয়ার অভিজ্ঞতায় এবারকার মতো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের এত ব্যাপক উপস্থিতি তিনি আগে দেখেননি। তাঁর পর্যবেক্ষণে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ-ভারতের ভিসা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে অনেক ব্যবসায়ী ও পর্যটক এখন চীনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আবদুল মোমেন বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চীন সরকার বাংলাদেশকে ৯৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পর থেকে অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি করে বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত করছেন। আবার বাংলাদেশের কিছু উদ্যোক্তা পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, কাঁকড়া ও কুঁচে চীনে রপ্তানি করছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চীনের স্থানীয় প্রশাসন বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া এবং বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি আগের তুলনায় সহজ ও গতিশীল করেছে। ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থায় উইচ্যাট পে ও আলিপের ব্যবহার ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে অনেক সহজ করেছে। তবে বিদেশি ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব খোলা, আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং এলসি ও টিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন অনুসরণ করতে হয়।

গুয়াংজুতে ব্যবসার আরেকটি বড় সুবিধা হিসেবে উঠে এসেছে পণ্য সংগ্রহ ও পরিবহনব্যবস্থার সহজলভ্যতা। ঢাকার ব্যবসায়ী শরাফত বাদলের মতে, গুয়াংজুতে একই এলাকায় কাঁচামাল থেকে শুরু করে প্রস্তুত পণ্য পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের একাধিক জায়গায় ঘুরে পণ্য সংগ্রহ করতে হয় না। পণ্যের ধরন ও ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহকারী নির্বাচন, দরদাম নির্ধারণ এবং সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, গুয়াংজুতে নতুন ও পুরোনো বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য শক্তিশালী লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। পণ্য কেনার পর গুদামজাতকরণ, পরিবহন, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং কার্গো সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এসব সেবা সমন্বিতভাবে পাওয়া যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের সময় ও পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এ ব্যবস্থা চীনের বাজারে প্রবেশকে তুলনামূলক সহজ করছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী নজরুল বলেন, গুয়াংজুতে বর্তমানে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি বাণিজ্যিক কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ থেকে নতুন কোনো ব্যবসায়ী এলে থাকার ব্যবস্থা, পণ্য সংগ্রহ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও ভাষাগত সমস্যা সমাধানে দেশীয় উদ্যোক্তা এবং অভিজ্ঞ এজেন্টরা সহযোগিতা করছেন। সানইউয়ানলি এলাকায় বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় সেখানে এক ধরনের বাংলাদেশি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু খাবার বা সেবার জায়গা নয়, ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরির কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।

ব্যবসায়ীদের এসব অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, গুয়াংজু এখন বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের কাছে কেবল পণ্য আমদানির শহর নয়; বরং আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে ক্যান্টন ফেয়ার বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য চীনের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, নির্মাণসামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা।

তবে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বাণিজ্যঘাটতি। বাংলাদেশ চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করলেও সে তুলনায় রপ্তানি অনেক কম। ফলে কেবল আমদানি বাড়ানোর পরিবর্তে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজার সম্প্রসারণ, যৌথ বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশে উৎপাদনমুখী শিল্প স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ বলছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ক্যান্টন ফেয়ারের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজন, গুয়াংজুতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক এবং দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ বিনিয়োগ, পণ্যের মান উন্নয়ন এবং বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ডিএস.,/

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পরশুরামে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

ক্যান্টন ফেয়ার ঘিরে বিদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটকের বাড়তি উপস্থিতি; চীনে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশিদের, আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা

চীনের বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, গুয়াংজুতে তৈরি হচ্ছে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

প্রকাশিত : ০২:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র চীনের গুয়াংজুতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ও আগ্রহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে বলে মনে করছেন দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা। ক্যান্টন ফেয়ারকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের সমাগমের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও নতুন ও পুরোনো ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ভিসা জটিলতার প্রেক্ষাপটে চীন এখন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের কাছে বিকল্প ও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে বলে তাঁদের অভিমত।

গুয়াংজুতে অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু পণ্য আমদানি নয়, চীনের উৎপাদনব্যবস্থা, কাঁচামালের সহজলভ্যতা, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে দেশটির প্রতি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে ক্যান্টন ফেয়ারের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীতে সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, পণ্যের মান যাচাই এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তাঁদের আকৃষ্ট করছে।

ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী আবদুল মোমেন জানান, গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তিনি নিয়মিত চীনের গুয়াংজুতে আসছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এত বছর গুয়াংজুতে আসা-যাওয়ার অভিজ্ঞতায় এবারকার মতো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের এত ব্যাপক উপস্থিতি তিনি আগে দেখেননি। তাঁর পর্যবেক্ষণে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ-ভারতের ভিসা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে অনেক ব্যবসায়ী ও পর্যটক এখন চীনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আবদুল মোমেন বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চীন সরকার বাংলাদেশকে ৯৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পর থেকে অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি করে বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত করছেন। আবার বাংলাদেশের কিছু উদ্যোক্তা পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, কাঁকড়া ও কুঁচে চীনে রপ্তানি করছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চীনের স্থানীয় প্রশাসন বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া এবং বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি আগের তুলনায় সহজ ও গতিশীল করেছে। ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থায় উইচ্যাট পে ও আলিপের ব্যবহার ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে অনেক সহজ করেছে। তবে বিদেশি ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব খোলা, আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং এলসি ও টিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন অনুসরণ করতে হয়।

গুয়াংজুতে ব্যবসার আরেকটি বড় সুবিধা হিসেবে উঠে এসেছে পণ্য সংগ্রহ ও পরিবহনব্যবস্থার সহজলভ্যতা। ঢাকার ব্যবসায়ী শরাফত বাদলের মতে, গুয়াংজুতে একই এলাকায় কাঁচামাল থেকে শুরু করে প্রস্তুত পণ্য পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের একাধিক জায়গায় ঘুরে পণ্য সংগ্রহ করতে হয় না। পণ্যের ধরন ও ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহকারী নির্বাচন, দরদাম নির্ধারণ এবং সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, গুয়াংজুতে নতুন ও পুরোনো বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য শক্তিশালী লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। পণ্য কেনার পর গুদামজাতকরণ, পরিবহন, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং কার্গো সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এসব সেবা সমন্বিতভাবে পাওয়া যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের সময় ও পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এ ব্যবস্থা চীনের বাজারে প্রবেশকে তুলনামূলক সহজ করছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী নজরুল বলেন, গুয়াংজুতে বর্তমানে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি বাণিজ্যিক কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ থেকে নতুন কোনো ব্যবসায়ী এলে থাকার ব্যবস্থা, পণ্য সংগ্রহ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও ভাষাগত সমস্যা সমাধানে দেশীয় উদ্যোক্তা এবং অভিজ্ঞ এজেন্টরা সহযোগিতা করছেন। সানইউয়ানলি এলাকায় বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় সেখানে এক ধরনের বাংলাদেশি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু খাবার বা সেবার জায়গা নয়, ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরির কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।

ব্যবসায়ীদের এসব অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, গুয়াংজু এখন বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের কাছে কেবল পণ্য আমদানির শহর নয়; বরং আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে ক্যান্টন ফেয়ার বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য চীনের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, নির্মাণসামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা।

তবে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বাণিজ্যঘাটতি। বাংলাদেশ চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করলেও সে তুলনায় রপ্তানি অনেক কম। ফলে কেবল আমদানি বাড়ানোর পরিবর্তে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজার সম্প্রসারণ, যৌথ বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশে উৎপাদনমুখী শিল্প স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ বলছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ক্যান্টন ফেয়ারের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজন, গুয়াংজুতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক এবং দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ বিনিয়োগ, পণ্যের মান উন্নয়ন এবং বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ডিএস.,/