০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজে নৌ চলাচলের করিডর গঠনে ওমানের সঙ্গে চুক্তি করল ইরান

কৌশলগত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য নিরাপদ চলাচলের পথ বা করিডর গঠন করতে প্রণালির অপর তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই গত কাল ৭ অক্টোবর বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বাঘায়েই বলেছেন, করিডর রুটগুলো গঠনের পর সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোকে এসব রুট সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার (৭ অক্টোবর, ২০২৬) জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ ও সেখান থেকে বেরিয়ে আসা জাহাজগুলোর জন্য নির্ধারিত ‘নিরাপদ’ নৌ-চলাচলের পথ গঠন এবং এ বিষয়ক সমন্বয়কে এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে ইরান ও ওমান।

এই সমঝোতাটি কৌশলগত এই জলপথে নৌ-চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে গৃহীত একটি পর্যায়ক্রমিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে বলেছেন বাঘায়েই।

এর আগে আগস্ট মাসে ইরান ও ওমান হরমুজে একটি অস্থায়ী নৌ-চলাচলের পথ তৈরি, মাইন অপসারণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাসহ একটি স্থায়ী পথ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করতে সম্মত হয়েছিল।

তবে, এই সমঝোতার অর্থ এই নয় যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে বা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের কোনো শর্তহীন নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। কারণ ইরান গত কয়েক মাস ধরে বলে আসছে যে এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারটি সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।

গত ২৫ আগস্ট ওমান জানিয়েছিল যে, হরমুজে যৌথ অস্থায়ী নৌ-চলাচলের পথের ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ নিয়ে তেহরানের সঙ্গে একমত হয়েছে আম্মান ; এই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় স্থায়ী পথ তৈরি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে কারিগরি আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২৬ আগস্ট ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানান যে, অস্থায়ী পথটি সাত মাইল প্রশস্ত হবে এবং এর প্রবেশপথ ও বহির্গমন পথের একটি অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হচ্ছে না।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেন যে, চলাচলের পথ নিয়ে ওমানের সাথে ইরান একমত হয়েছে; তবে তিনি প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পূরণের শর্তের সাথে যুক্ত করেন।

৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সর্বাধিনায়কের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি ঘোষণা দেন, তেহরানের দৃষ্টিতে ‘অবৈধ’ বলে বিবেচিত হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচলের পথগুলো শিগগিরই বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ঘোষণায় তিনি স্পষ্টভাবে ওমানের উপকূল ঘেঁষে থাকা বিকল্প দক্ষিণ নৌ-পথটির ব্যাপারে উল্লেখ করেন। এর আগে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাগদি বলেছিলেন যে, কৌশলগত এই জলপথের পাথুরে অংশগুলো বিস্ফোরণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করে প্রণালিতে ‘কয়েকটি নৌপথ’ তৈরি করা হয়েছে। তার দাবি, ‘ছোট নৌকায় করে তেল পাচার এবং তা ট্যাংকারে স্থানান্তরের কাজে’ এসব পথ ব্যবহার করা হচ্ছিল।

ইরানের নানা বিধিনিষেধ আরোপের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি সফলভাবে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে আসছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা যে দাবি করেছিলেন, নাকদির এই বক্তব্য ছিল সেই দাবির সরাসরি পাল্টা জবাব।

নাকদি তেহরানের সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানের ভূ-রাজনৈতিক দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী আইআরজিসি’র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং ‘বন্ধ’ অবস্থায় থাকবে।

সূত্র : এএফপি, গালফ নিউজ

 

জনপ্রিয়

বাংলাদেশ স্কাউটস চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-কমিশনার হলেন লায়ন সালাউদ্দীন আলী

হরমুজে নৌ চলাচলের করিডর গঠনে ওমানের সঙ্গে চুক্তি করল ইরান

প্রকাশিত : ০২:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

কৌশলগত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য নিরাপদ চলাচলের পথ বা করিডর গঠন করতে প্রণালির অপর তীরের দেশ ওমানের সঙ্গে চুক্তি করেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই গত কাল ৭ অক্টোবর বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বাঘায়েই বলেছেন, করিডর রুটগুলো গঠনের পর সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোকে এসব রুট সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার (৭ অক্টোবর, ২০২৬) জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ ও সেখান থেকে বেরিয়ে আসা জাহাজগুলোর জন্য নির্ধারিত ‘নিরাপদ’ নৌ-চলাচলের পথ গঠন এবং এ বিষয়ক সমন্বয়কে এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে ইরান ও ওমান।

এই সমঝোতাটি কৌশলগত এই জলপথে নৌ-চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে গৃহীত একটি পর্যায়ক্রমিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে বলেছেন বাঘায়েই।

এর আগে আগস্ট মাসে ইরান ও ওমান হরমুজে একটি অস্থায়ী নৌ-চলাচলের পথ তৈরি, মাইন অপসারণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাসহ একটি স্থায়ী পথ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করতে সম্মত হয়েছিল।

তবে, এই সমঝোতার অর্থ এই নয় যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে বা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের কোনো শর্তহীন নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। কারণ ইরান গত কয়েক মাস ধরে বলে আসছে যে এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারটি সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।

গত ২৫ আগস্ট ওমান জানিয়েছিল যে, হরমুজে যৌথ অস্থায়ী নৌ-চলাচলের পথের ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ নিয়ে তেহরানের সঙ্গে একমত হয়েছে আম্মান ; এই ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় স্থায়ী পথ তৈরি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে কারিগরি আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২৬ আগস্ট ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানান যে, অস্থায়ী পথটি সাত মাইল প্রশস্ত হবে এবং এর প্রবেশপথ ও বহির্গমন পথের একটি অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হচ্ছে না।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেন যে, চলাচলের পথ নিয়ে ওমানের সাথে ইরান একমত হয়েছে; তবে তিনি প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পূরণের শর্তের সাথে যুক্ত করেন।

৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সর্বাধিনায়কের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি ঘোষণা দেন, তেহরানের দৃষ্টিতে ‘অবৈধ’ বলে বিবেচিত হরমুজ প্রণালীর নৌ-চলাচলের পথগুলো শিগগিরই বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ঘোষণায় তিনি স্পষ্টভাবে ওমানের উপকূল ঘেঁষে থাকা বিকল্প দক্ষিণ নৌ-পথটির ব্যাপারে উল্লেখ করেন। এর আগে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাগদি বলেছিলেন যে, কৌশলগত এই জলপথের পাথুরে অংশগুলো বিস্ফোরণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করে প্রণালিতে ‘কয়েকটি নৌপথ’ তৈরি করা হয়েছে। তার দাবি, ‘ছোট নৌকায় করে তেল পাচার এবং তা ট্যাংকারে স্থানান্তরের কাজে’ এসব পথ ব্যবহার করা হচ্ছিল।

ইরানের নানা বিধিনিষেধ আরোপের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি সফলভাবে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে আসছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা যে দাবি করেছিলেন, নাকদির এই বক্তব্য ছিল সেই দাবির সরাসরি পাল্টা জবাব।

নাকদি তেহরানের সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানের ভূ-রাজনৈতিক দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী আইআরজিসি’র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং ‘বন্ধ’ অবস্থায় থাকবে।

সূত্র : এএফপি, গালফ নিউজ