১২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে ‘ভোট চুরির’ প্রমাণ দেবে ‘ইন্ডিয়া’ জোট: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা ‘ভোট চুরির’ অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে অকাট্য তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরবে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)। এমনটাই জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার জোটের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়।

তারপর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত প্রমাণ চেয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের মধ্যে মমতা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা (‘ইন্ডিয়া’ জোট) ঐক্যবদ্ধ আছি। তদন্ত করার মতো কোনো প্রমাণ হাতে নেই বলে রাষ্ট্রপতি জানালে আমরা বলেছি, খুব শীঘ্রই আমরা সব প্রমাণ তাঁর সামনে পেশ করব।

এদিকে দিল্লিতে আটক ও পুলিশের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, যন্তর মন্তরে যাওয়ার অনুমতি না পেয়ে বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার সময় পুলিশ তাকে ও তৃণমূলের নেতাদের প্রিজন ভ্যানে তুলে জোরপূর্বক নিয়ে যায়।

মমতা জানান, তিনি মূলত সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপকের আমন্ত্রণে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বাইরে বেরোনোর আগেই পুলিশ জানায় তাদের রাস্তায় আটকে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা যখন দেখলাম এগোতে দেওয়া হবে না, তখন সংহতি জানাতে বাসার সামনের বাস স্টপে গিয়ে বসি। পুলিশ এসে বলল, তিন জনও একসঙ্গে বসা যাবে না। আমরা তিন জনের দল করে দূরত্ব রেখে বসেছিলাম। কিন্তু চোখের পলকে আমাদের সঙ্গে দাগি অপরাধীদের মতো আচরণ করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হলো। পুরো জীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আমি কখনো হইনি।

অভিযোগ করে মমতা আরও বলেন, তাদের ভ্যানে তুলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন থানায় ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রতিটি থানা থেকেই বলা হচ্ছিল জায়গা খালি নেই। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যেন তাঁদের ‘অপহরণ’ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ওপর এমন বিধিনিষেধের তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মানুষের হাঁটার, বসার বা গণমাধ্যমের প্রচারের অধিকার না থাকলে এই গণতন্ত্র আসলে কার জন্য?

অন্যদিকে, মমতার এই দিল্লি সফর ও বিরোধীদের সঙ্গে সংহতি জানানো নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি ও সংসদ সদস্য শমিক ভট্টাচার্য। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, নিজেকে বাঘিনী দাবি করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দিল্লি গিয়ে তেলাপোকা, কাঁকড়া, খরগোশ আর হরিণদের সঙ্গে জোট বাঁধছেন কেন? এতে কোনো লাভ হবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আগামী ২০ বছরে কেন্দ্রে বা পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনাই নেই।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইতিহাস গড়ে হাসানের হ্যাটট্রিক

রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে ‘ভোট চুরির’ প্রমাণ দেবে ‘ইন্ডিয়া’ জোট: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রকাশিত : ১২:৩২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা ‘ভোট চুরির’ অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে অকাট্য তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরবে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)। এমনটাই জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে শুক্রবার জোটের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়।

তারপর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি ‘ভোট চুরি’ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত প্রমাণ চেয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের মধ্যে মমতা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা (‘ইন্ডিয়া’ জোট) ঐক্যবদ্ধ আছি। তদন্ত করার মতো কোনো প্রমাণ হাতে নেই বলে রাষ্ট্রপতি জানালে আমরা বলেছি, খুব শীঘ্রই আমরা সব প্রমাণ তাঁর সামনে পেশ করব।

এদিকে দিল্লিতে আটক ও পুলিশের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, যন্তর মন্তরে যাওয়ার অনুমতি না পেয়ে বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার সময় পুলিশ তাকে ও তৃণমূলের নেতাদের প্রিজন ভ্যানে তুলে জোরপূর্বক নিয়ে যায়।

মমতা জানান, তিনি মূলত সিজেপির নেতা অভিজিৎ দীপকের আমন্ত্রণে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বাইরে বেরোনোর আগেই পুলিশ জানায় তাদের রাস্তায় আটকে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা যখন দেখলাম এগোতে দেওয়া হবে না, তখন সংহতি জানাতে বাসার সামনের বাস স্টপে গিয়ে বসি। পুলিশ এসে বলল, তিন জনও একসঙ্গে বসা যাবে না। আমরা তিন জনের দল করে দূরত্ব রেখে বসেছিলাম। কিন্তু চোখের পলকে আমাদের সঙ্গে দাগি অপরাধীদের মতো আচরণ করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হলো। পুরো জীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আমি কখনো হইনি।

অভিযোগ করে মমতা আরও বলেন, তাদের ভ্যানে তুলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন থানায় ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রতিটি থানা থেকেই বলা হচ্ছিল জায়গা খালি নেই। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যেন তাঁদের ‘অপহরণ’ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ওপর এমন বিধিনিষেধের তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মানুষের হাঁটার, বসার বা গণমাধ্যমের প্রচারের অধিকার না থাকলে এই গণতন্ত্র আসলে কার জন্য?

অন্যদিকে, মমতার এই দিল্লি সফর ও বিরোধীদের সঙ্গে সংহতি জানানো নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি ও সংসদ সদস্য শমিক ভট্টাচার্য। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, নিজেকে বাঘিনী দাবি করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দিল্লি গিয়ে তেলাপোকা, কাঁকড়া, খরগোশ আর হরিণদের সঙ্গে জোট বাঁধছেন কেন? এতে কোনো লাভ হবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আগামী ২০ বছরে কেন্দ্রে বা পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনাই নেই।

ডিএস./