০৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

একজন নারী কেন পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না, প্রশ্ন শ্রীলেখার

শারদীয় দুর্গাপূজা শেষে প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজা হয়। এই পূর্ণিমাকে বলা হয় কোজাগরী। এ জন্য এই পূজা কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা নামেও পরিচিত। অন্যদের মতো অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও পূজায় মেতেছিলেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সেই ঘরোয়া উদযাপনের মুহূর্ত তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।

লক্ষ্মীপূজায় নিজের হাতে আল্পনা আঁকা থেকে শুরু করে ফল কাটা, নৈবেদ্য সাজানো সবই করেন শ্রীলেখা। তবে লক্ষ্মীর পাঁচালিতে লেখা নারীদের বিধিনিষেধ নিয়ে আপত্তি শ্রীলেখা মিত্রর। আড়ম্বরপূর্ণ পূজা নয়, ঈশ্বরের সঙ্গে আন্তরিক আত্মিক সম্পর্ককেই প্রাধান্য দেন তিনি। অন্য একটি সাক্ষাৎকারে পূজা নিয়ে ছোটবেলার ভাবনা, লক্ষ্মীর পাঁচালির কিছু বিতর্কিত লাইন, নারী স্বাধীনতা নিয়ে স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেত্রী।

আম অর্পিতাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলেখা জানান, মাত্র ১১-১২ বছর বয়সে তার মা তাকে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়তে দিতেন। তখন পাঁচালির বেশ কিছু লাইন মেনে নিতে পারতেন না তিনি। পাঁচালিতে থাকা নির্দেশনাবলী যেমন: ‘পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলবে না’ কিংবা ‘স্বামীর আগে খাবে না’—এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতেন তিনি।

শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “নারীবাদ নিয়ে তখন স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও মনে প্রশ্ন জাগত— ‘একজন মেয়ে কেন নিজের ইচ্ছামতো খাবে না বা অন্য পুরুষের সঙ্গে হাসাহাসি ও কথা বলতে পারবে না?”

নারীদের দমিয়ে রাখতে এসব নিয়ম মানুষ তৈরি করেছেন বলে মত শ্রীলেখার। তার ভাষায়—“এগুলো দেবী লক্ষ্মীর নিজস্ব কোনো বার্তা নয়; বরং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নিজেদের সুবিধা ও নারীদের দমিয়ে রাখার জন্য এই নিয়মগুলো তৈরি করেছে।”

লোকদেখানো জাঁকজমক আয়োজন বাদ দিয়ে নিজের বাড়িতে খুব সাধারণভাবে লক্ষ্মীপূজা করেন শ্রীলেখা। তার কাছে অর্থ-সম্পদের অন্ধ অনুকরণ নয়, বিদ্যা ও সম্পদের দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতীর আশীর্বাদে জীবনকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

একজন নারী কেন পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না, প্রশ্ন শ্রীলেখার

প্রকাশিত : ০২:৫০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা শেষে প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজা হয়। এই পূর্ণিমাকে বলা হয় কোজাগরী। এ জন্য এই পূজা কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা নামেও পরিচিত। অন্যদের মতো অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রও পূজায় মেতেছিলেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সেই ঘরোয়া উদযাপনের মুহূর্ত তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।

লক্ষ্মীপূজায় নিজের হাতে আল্পনা আঁকা থেকে শুরু করে ফল কাটা, নৈবেদ্য সাজানো সবই করেন শ্রীলেখা। তবে লক্ষ্মীর পাঁচালিতে লেখা নারীদের বিধিনিষেধ নিয়ে আপত্তি শ্রীলেখা মিত্রর। আড়ম্বরপূর্ণ পূজা নয়, ঈশ্বরের সঙ্গে আন্তরিক আত্মিক সম্পর্ককেই প্রাধান্য দেন তিনি। অন্য একটি সাক্ষাৎকারে পূজা নিয়ে ছোটবেলার ভাবনা, লক্ষ্মীর পাঁচালির কিছু বিতর্কিত লাইন, নারী স্বাধীনতা নিয়ে স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেছেন এই অভিনেত্রী।

আম অর্পিতাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলেখা জানান, মাত্র ১১-১২ বছর বয়সে তার মা তাকে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়তে দিতেন। তখন পাঁচালির বেশ কিছু লাইন মেনে নিতে পারতেন না তিনি। পাঁচালিতে থাকা নির্দেশনাবলী যেমন: ‘পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলবে না’ কিংবা ‘স্বামীর আগে খাবে না’—এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতেন তিনি।

শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “নারীবাদ নিয়ে তখন স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও মনে প্রশ্ন জাগত— ‘একজন মেয়ে কেন নিজের ইচ্ছামতো খাবে না বা অন্য পুরুষের সঙ্গে হাসাহাসি ও কথা বলতে পারবে না?”

নারীদের দমিয়ে রাখতে এসব নিয়ম মানুষ তৈরি করেছেন বলে মত শ্রীলেখার। তার ভাষায়—“এগুলো দেবী লক্ষ্মীর নিজস্ব কোনো বার্তা নয়; বরং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নিজেদের সুবিধা ও নারীদের দমিয়ে রাখার জন্য এই নিয়মগুলো তৈরি করেছে।”

লোকদেখানো জাঁকজমক আয়োজন বাদ দিয়ে নিজের বাড়িতে খুব সাধারণভাবে লক্ষ্মীপূজা করেন শ্রীলেখা। তার কাছে অর্থ-সম্পদের অন্ধ অনুকরণ নয়, বিদ্যা ও সম্পদের দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতীর আশীর্বাদে জীবনকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য।