০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুরে এনসিপির গায়েবানা জানাজা, পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেডে পন্ড

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের গায়েবানা জানাজায় পুলিশের ধাওয়া ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে পণ্ড হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) ও এর সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র উদ্যোগে এই জানাজার আয়োজন করা হয়েছিল। এসময় পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এনসিপি সূত্রে জানা যায়, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বহিরাগতদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ‘লায়লা স্টাইলস লিমিটেড’-এর কাটিং বিভাগের জুনিয়র লে-ম্যান তৌফিক শেখ (২২)। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকায়।

নিহত শ্রমিকের স্মরণে ও তার হত্যার বিচার দাবিতে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসির খানসহ অন্য নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। জানাজা শুরুর আগে এনসিপি ও শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্য শেষে আলী নাসির খানের পরিচালনায় মোনাজাত ও জানাজা শুরু করার ঠিক আগমুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা জানাজা পড়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা যৌথভাবে বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশের এই হঠাৎ হামলায় তাদের এবং শ্রমিক শক্তির ২০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহার ফকির, গাজীপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আবুল কাশের মাস্টার, জাতীয় শ্রমিক শক্তির যুগ্ম সদস্যসচিব শেখ রায়হান, গাজীপুর মহানগর যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক জিল্লুর রহমান, শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ সাহানা, যুবশক্তির কোনাবাড়ী থানার মুখ্য সংগঠক রকিবুল ইসলাম জয়, কালিয়াকৈর উপজেলা এনসিপির সদস্য আকরাম হোসেন এবং কোনাবাড়ী থানা যুবশক্তির সদস্যসচিব জামান ঢালি।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসির খান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে একটি ধর্মীয় ও মানবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার হত্যার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম। পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশ অত্যন্ত অন্যায়ভাবে আমাদের একটি গায়েবানা জানাজাও পড়তে দেয়নি, উল্টো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সাউন্ড গ্রেনেড ও হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে।”

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা শুরু ১ ডিসেম্বর, দুই বিষয়ে সুযোগ

গাজীপুরে এনসিপির গায়েবানা জানাজা, পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেডে পন্ড

প্রকাশিত : ০৪:৫২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের গায়েবানা জানাজায় পুলিশের ধাওয়া ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে পণ্ড হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) ও এর সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র উদ্যোগে এই জানাজার আয়োজন করা হয়েছিল। এসময় পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এনসিপি সূত্রে জানা যায়, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বহিরাগতদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ‘লায়লা স্টাইলস লিমিটেড’-এর কাটিং বিভাগের জুনিয়র লে-ম্যান তৌফিক শেখ (২২)। তার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকায়।

নিহত শ্রমিকের স্মরণে ও তার হত্যার বিচার দাবিতে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসির খানসহ অন্য নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। জানাজা শুরুর আগে এনসিপি ও শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্য শেষে আলী নাসির খানের পরিচালনায় মোনাজাত ও জানাজা শুরু করার ঠিক আগমুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা জানাজা পড়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা যৌথভাবে বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশের এই হঠাৎ হামলায় তাদের এবং শ্রমিক শক্তির ২০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহার ফকির, গাজীপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আবুল কাশের মাস্টার, জাতীয় শ্রমিক শক্তির যুগ্ম সদস্যসচিব শেখ রায়হান, গাজীপুর মহানগর যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক জিল্লুর রহমান, শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ সাহানা, যুবশক্তির কোনাবাড়ী থানার মুখ্য সংগঠক রকিবুল ইসলাম জয়, কালিয়াকৈর উপজেলা এনসিপির সদস্য আকরাম হোসেন এবং কোনাবাড়ী থানা যুবশক্তির সদস্যসচিব জামান ঢালি।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসির খান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে একটি ধর্মীয় ও মানবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার হত্যার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম। পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশ অত্যন্ত অন্যায়ভাবে আমাদের একটি গায়েবানা জানাজাও পড়তে দেয়নি, উল্টো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সাউন্ড গ্রেনেড ও হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে।”

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিএস./