টানা কয়েকবার আলু চাষে লোকসান ও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এবার ঝুঁকেছেন আগাম ভুট্টা চাষের দিকে। বাজারে ভুট্টার বাড়তি চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় পুশিয়ে নেওয়ার আশায় আগাম জাতের এই ফসল চাষ করছেন তারা। ঐতিহ্যগতভাবে কিছু এলাকায় এই সময়ে আলুর চাষ করা হলেও, এবার লাভের মুখ দেখতে আলু চাষ কমিয়ে ভুট্টার আবাদ বাড়িয়েছেন চাষীরা।
তবে সার সংকট, বেপরোয়া কীটনাশকের চড়া দাম এবং কৃষি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।
জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন আগাম জাতের ভুট্টা চাষে। অনেক কৃষক আগাম আলুর জমি থেকে আলু বাদ দিয়ে ভুট্টা রোপণ করছেন।
সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “গত দুইবার আলু চাষ করে পুঁজি হারিয়েছি। ব্যাংক ও দাদন ব্যবসায়ীর ঋণ শোধ করতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা হয়েছে। এবার বাধ্য হয়েই লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম ভুট্টা লাগাচ্ছি। বাজারে ভুট্টার চাহিদা ভালো থাকায় কিছুটা লাভের আশা করছি।
একই এলাকার আরেক কৃষক মো. আলতাফ হোসেন জানান, ভুট্টার বাজারদর ভালো থাকায় তারা আশাবাদী হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তাদের পিছু টানছে। তিনি বলেন, বাজারে একদিকে সারের সংকট, অন্যদিকে কীটনাশকের দাম আগুন। এছাড়া শ্রমিকদের মজুরিও অনেক বেশি। এভাবে খরচ বাড়তে থাকলে লাভের চেয়ে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি থাকে।
জলঢাকা উপজেলার কৃষক রহিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সময়মতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারদের কাছে গেলে নানা বাহানা দেখায়, বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। কীটনাশক ও সেচ খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভুট্টা চাষে খরচ উঠবে কি না সন্দেহ আছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীলফামারী অঞ্চলে মাটি ও আবহাওয়া ভুট্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিক সময়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কৃষক যথাযথ পরিচর্যা করতে পারলে আগাম ভুট্টার ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী এবং কৃষকদের সঠিক সময়ে সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ডিএস./



















