মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন থেকেই যাত্রা শুরু। প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে হয়রানি ও সাইবার অপরাধের শিকার মানুষের সহায়তায় গড়ে তোলেন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘কাকতাড়ুয়া’। ছোট পরিসরে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ এবার পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল ইমরান।
পটুয়াখালীতে জন্ম নেওয়া ইমরানের বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম, ঢাকা ও গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্টে। সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাবার চাকরির সুবাদে বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে ওঠেন তিনি। রাজেন্দ্রপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে নিজের প্রতিষ্ঠান প্রোবফ্লাই আইটির মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অনলাইন ব্র্যান্ড সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছেন।
ইমরানের সামাজিক উদ্যোগ কাকতাড়ুয়ার যাত্রা শুরু হয় শিক্ষার্থীদের সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট, ‘এক্সপোজ’ পোস্ট এবং ‘ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশন’ পেজের মাধ্যমে হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ শুরু করেন তারা। পরে ব্ল্যাকমেইল, অনলাইন প্রতারণা ও অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকেও সহায়তা দিতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
ইমরানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাকতাড়ুয়ার বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্সে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ২০০ নারী। পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছে দুই থেকে তিন হাজার শিক্ষার্থীর কাছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে থাকা ডিজিটাল নিরাপত্তাবিষয়ক বিভিন্ন টুল ব্যবহার করেছেন আনুমানিক চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ। এসব টুলের মাধ্যমে সন্দেহজনক লিংক, তথ্য ফাঁস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কনটেন্ট যাচাই করা যায়।
কাকতাড়ুয়ার কার্যক্রমে সহায়তা পাওয়া মানুষের অভিজ্ঞতাও ইমরানের কাছে বিশেষ প্রাপ্তি। তিনি জানান, ফিশিং নিয়ে তাদের তৈরি ভিডিও দেখে অনেকেই সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থেকেছেন। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার শিকার এক নারীকে অনলাইন থেকে সেই কনটেন্ট অপসারণে সহায়তা করেছেন তারা। পরে ওই নারীর পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া ধন্যবাদবার্তা তার কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।
ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড অর্জনকে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন ইমরান। তার ভাষায়, ‘পুরস্কারে আমার নাম থাকলেও এটি পুরো কাকতাড়ুয়া টিমের অর্জন। যারা আমাদের ওপর ভরসা করে সাহায্য চেয়েছেন, তারাও এই অর্জনের অংশ।’
ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানুষের কাছে ডিজিটাল নিরাপত্তাসেবা পৌঁছে দিতে চান ইমরান। এ লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর টুল ও অটোমেশন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তার। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাকতাড়ুয়ার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চান তিনি।























