০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরগুনায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকায় ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি মাঝারি আকারের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিও সরকার দৃষ্টি দিয়েছে। কিন্তু দেশে জ্বালনি সংকট থাকায় অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্রই এখন আমদানি করা কয়লা দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বরগুনায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০৭ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২২ সালে শুরুতেই এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য কেন্দ্রটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান আইসোটেক ইলেকট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড-এর সঙ্গে গত ১২ এপ্রিলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চীনের পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড ও বাংলাদেশের আইসোটেক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসোটেক ইলেট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত সার্টিফিকেট পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ, জমি ক্রয়, বাঁধ নির্মাণ, মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এসব কাজ শেষে পাওয়া যাবে স্থাপনা নির্মাণের ছাড়পত্র।

বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোট নিশানবাড়ীয়া গ্রামটিই এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কেন্দ্রস্থল। অবশ্য প্রকল্পটি ‘বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ নামে পরিচালিত হবে। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বা ৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ২৫ বছর এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ টাকা প্রতিটন কয়লার দর ১২০ ডলার হিসেবে। তবে কয়লার দাম কম থাকলে বিদ্যুতের দামও কমে যাবে।

আইসোটেক সূত্র জানায়, তাদের পার্টনার ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। তারা ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়াসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে দক্ষতার সঙ্গে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তারা বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট।

সূত্র মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮১৯ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৮৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১ হাজার ৬৫৯ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ১১৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বর্তমানে মোট ১৩ হাজার ৭৭১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৪৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন। আর এ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে উৎপাদনে যাবে।

আইসোটেক গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার ফিরোজ চৌধুরী আমাদের অর্থনীতি ও আমাদের নতুন সময়কে বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের জনগণের কথা চিন্তা করে প্রকল্প এলাকায় স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।

ট্যাগ :

৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির

বরগুনায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকায় ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

প্রকাশিত : ১১:৪৬:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৮

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি মাঝারি আকারের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিও সরকার দৃষ্টি দিয়েছে। কিন্তু দেশে জ্বালনি সংকট থাকায় অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্রই এখন আমদানি করা কয়লা দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বরগুনায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০৭ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২২ সালে শুরুতেই এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদনে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য কেন্দ্রটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান আইসোটেক ইলেকট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড-এর সঙ্গে গত ১২ এপ্রিলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চীনের পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড ও বাংলাদেশের আইসোটেক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসোটেক ইলেট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত সার্টিফিকেট পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ, জমি ক্রয়, বাঁধ নির্মাণ, মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এসব কাজ শেষে পাওয়া যাবে স্থাপনা নির্মাণের ছাড়পত্র।

বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোট নিশানবাড়ীয়া গ্রামটিই এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কেন্দ্রস্থল। অবশ্য প্রকল্পটি ‘বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ নামে পরিচালিত হবে। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বা ৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ২৫ বছর এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ টাকা প্রতিটন কয়লার দর ১২০ ডলার হিসেবে। তবে কয়লার দাম কম থাকলে বিদ্যুতের দামও কমে যাবে।

আইসোটেক সূত্র জানায়, তাদের পার্টনার ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। তারা ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়াসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে দক্ষতার সঙ্গে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তারা বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট।

সূত্র মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮১৯ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৮৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১ হাজার ৬৫৯ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ১১৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বর্তমানে মোট ১৩ হাজার ৭৭১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৪৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন। আর এ কেন্দ্রগুলো ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে উৎপাদনে যাবে।

আইসোটেক গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার ফিরোজ চৌধুরী আমাদের অর্থনীতি ও আমাদের নতুন সময়কে বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের জনগণের কথা চিন্তা করে প্রকল্প এলাকায় স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।