০৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতার লাল সূর্যটাকে ছিনিয়ে আনতে জাতির যে কয়েক জন শ্রেষ্ঠ সন্তান অসীম বীরত্ব আর সাহসিকতায় বুকের তাঁজা রক্তে স্বদেশের মাটি রঞ্জিত করেন, জন্মভূমির জন্য হাসিমুখে জীবন উৎসর্গ করে স্থাপন করেন দেশ প্রেমের অনন্য নজির, অর্জন করেন জাতীয় শ্রেষ্ট বীরের সম্মান, তাঁদেরই একজন নড়াইলের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। আজ বুধবার মহান এই বীরের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে জীবন দান করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ৫ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ শেখ যশোরের ঝিকরগাছার গোয়ালহাটি গ্রামে একটি টহলের নেতৃত্ব দিয়ে পার্শ্ববর্তী ছুটিপুরে পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির ওপর নজর রাখছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের বিপদজনক অবস্থায় ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা বুঝতে পেরে নূর মোহম্মদ সঙ্গীদের নিয়ে হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির ওপর আক্রমণ করেন। যুদ্ধ চলাকালে গুরুতর আহত সঙ্গী নান্নু মিয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হানাদারদের মর্টার শেলের আঘাতে গুরুতর আহত হন নূর মোহম্মদ। মৃত্যু অনিবার্য জেনেও তিনি সিপাহী মোস্তফা কামালের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে আহত নান্নু মিয়াকে নিয়ে সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে নির্দেশ দেন। মৃত্যু পথযাত্রী নূর মোহম্মদ এস এল আর নিয়ে শেষ বারের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েন পাক হানাদার বাহিনীর ওপর। হানাদারদের শেষ করে নিজেও শহীদ হন তিনি। পরবর্তীতে নিকটবর্তী একটি ঝোপের পাশে এই বীরের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরে যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে এমন বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

এই বীরশ্রেষ্ঠের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে কাল নুর মোহাম্মদ শেখের বাড়ি নড়াইল সদরের নূর মোহাম্মদ নগরে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। সকালে নূর মোহাম্মদ এর বাড়ি অভিমুখে শোক র‍্যালি বের করা, স্মৃতি স্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পন এবং বীরের সম্মানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও দুপুরে নূর মোহাম্মদ স্মৃতি সংগ্রহশালায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, শেখ নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন (বর্তমানে নূর মোহাম্মদ নগর)। পিতা মোঃ আমানত শেখ ও মাতা মোসাঃ জেন্নাতুন্নেছা। স্থানীয় পাইকমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। শিক্ষা জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২৩ বছর বয়সে ১৯৫৯ সালের ২৪ মার্চ নূর মোহাম্মদ তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল্সে (ইপিআর) যোগ দেন। এরপরে ১৯৭১ এর মার্চ মাসে ছুটি কাটাতে এসে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়ে ৮ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা, পুত্র গোলাম মোস্তফা ও তিন কন্যা রয়েছেন।

ট্যাগ :

৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত : ১২:০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতার লাল সূর্যটাকে ছিনিয়ে আনতে জাতির যে কয়েক জন শ্রেষ্ঠ সন্তান অসীম বীরত্ব আর সাহসিকতায় বুকের তাঁজা রক্তে স্বদেশের মাটি রঞ্জিত করেন, জন্মভূমির জন্য হাসিমুখে জীবন উৎসর্গ করে স্থাপন করেন দেশ প্রেমের অনন্য নজির, অর্জন করেন জাতীয় শ্রেষ্ট বীরের সম্মান, তাঁদেরই একজন নড়াইলের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। আজ বুধবার মহান এই বীরের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে জীবন দান করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ৫ সেপ্টেম্বর নূর মোহাম্মদ শেখ যশোরের ঝিকরগাছার গোয়ালহাটি গ্রামে একটি টহলের নেতৃত্ব দিয়ে পার্শ্ববর্তী ছুটিপুরে পাক হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির ওপর নজর রাখছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের বিপদজনক অবস্থায় ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা বুঝতে পেরে নূর মোহম্মদ সঙ্গীদের নিয়ে হানাদার বাহিনীর ঘাঁটির ওপর আক্রমণ করেন। যুদ্ধ চলাকালে গুরুতর আহত সঙ্গী নান্নু মিয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হানাদারদের মর্টার শেলের আঘাতে গুরুতর আহত হন নূর মোহম্মদ। মৃত্যু অনিবার্য জেনেও তিনি সিপাহী মোস্তফা কামালের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে আহত নান্নু মিয়াকে নিয়ে সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে নির্দেশ দেন। মৃত্যু পথযাত্রী নূর মোহম্মদ এস এল আর নিয়ে শেষ বারের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েন পাক হানাদার বাহিনীর ওপর। হানাদারদের শেষ করে নিজেও শহীদ হন তিনি। পরবর্তীতে নিকটবর্তী একটি ঝোপের পাশে এই বীরের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরে যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে এমন বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

এই বীরশ্রেষ্ঠের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে কাল নুর মোহাম্মদ শেখের বাড়ি নড়াইল সদরের নূর মোহাম্মদ নগরে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। সকালে নূর মোহাম্মদ এর বাড়ি অভিমুখে শোক র‍্যালি বের করা, স্মৃতি স্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পন এবং বীরের সম্মানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও দুপুরে নূর মোহাম্মদ স্মৃতি সংগ্রহশালায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, শেখ নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন (বর্তমানে নূর মোহাম্মদ নগর)। পিতা মোঃ আমানত শেখ ও মাতা মোসাঃ জেন্নাতুন্নেছা। স্থানীয় পাইকমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। শিক্ষা জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২৩ বছর বয়সে ১৯৫৯ সালের ২৪ মার্চ নূর মোহাম্মদ তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল্সে (ইপিআর) যোগ দেন। এরপরে ১৯৭১ এর মার্চ মাসে ছুটি কাটাতে এসে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়ে ৮ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা, পুত্র গোলাম মোস্তফা ও তিন কন্যা রয়েছেন।