০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চৌগাছায় ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে নিম্নবিত্তরা

যশোরের চৌগাছায় ব্লাক বেঙ্গল ছাগল পালন করে নিম্নবৃত্ত পরিবার স্বাবলম্বী হচ্ছে। দৈনন্দিন কৃষি এবং গৃহস্থলির কাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবত এসব পরিবারের পুরুষ-মহিলারা ছাগল পালন করে আসছেন। ফলে বছর শেষে প্রতিটি পরিবার ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বাড়তি আয় করছেন। এসব পরিবারের সাফল্য দেখে গ্রামের অনেকেই দেশি ব্লাক বেঙ্গল ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল পালনে ঝুঁকছেন।

যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বুন্দলিতা, চাঁদপাড়া, বাদেখানপুর, ভগবানপুর, ইলিশমারি গ্রামগুলি এখন ছাগল পালনকারী গ্রাম হিসেব বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। এক সময় চৌগাছার গ্রামে মানুষেরা সখের বসে দু একটা ছাগল পালন করতেন। বর্তমান এসব গ্রামে বাণিজ্যিকভাব ছাগল পালন শুরু করেছেন।

চৌগাছা মহেশপুর সড়কের পার্শ্ববর্তী ছোট্ট একটি গ্রাম বুন্দলিতলা। যেখানে অন্তত ১০টি পরিবার বাণিজ্যিকভাবে ছাগল পালন শুরু করেছেন। এ গ্রামের একটি মহল্লায় প্রায় তিন শতাধিক দেশি প্রজাতির নানা রঙের ছাগল রয়েছে। সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি পুরুষ-মহিলা মিলে তারা নিয়মিত ছাগলের পরিচর্যা করছেন। ফলে তাদের বছরে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বাড়তি টাকা আয় হচ্ছে।

সরেজমিন গ্রামটিতে গিয়ে কথা হয় ছাগল পালনকারী ওমর আলীর সাথে। তিনি জানান, তার মূল পেশা কৃষি কাজ। পাশাপাশি বাড়িতে দু একটা করে ছাগল পালন নতুন কিছু নয়। যুগযুগ ধরে চলে আসছে গ্রামের সমাজ তথা পরিবারে। বাড়িতে একটি ছাগল পালন করে বছর শেষে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এতে সংসারে বাড়তি খরচ হয় না। ফলে ছাগল পালন বেশ লাভজনক।

তিনি জানান, এই বিষয়টি অনুধাবন করেই গ্রামের মানুষ বেশি বেশি ছাগল পালনে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। বর্তমান ওমর আলীর ৩৫টি ছাগল রয়েছে। ওমর আলীর মতো বুন্দেলীতলা গ্রামের মোশারফ হোসেনের রয়েছে ৩৮টি ছাগল। মঈনুর রহমানের রয়েছে ৩২টি, রওনক আলীর রয়েছে ২২টি, শফিনুরের ৩০টিসহ দশটি পরিবারে প্রায় ৩শতাধিক ছাগল রয়েছে। প্রতিটি পরিবারই কৃষি কাজের পাশাপাশি ছাগল পালন করছেন।

পরিবারের ছোট-বড় সদস্যরা মিলে দল বেধে সকাল বিকাল দুইবার করে তাদের পোষা ছাগলগুলি মাঠে চরাতে নিয়ে যায়। মাঠে অনাবাদি জমিতে ছাগলের দল ছেড়ে দিয়ে তিন চার জন একসাথে পাহারা দেন। খাওয়া শেষে বাড়ি ফেরার সময় গ্রামে প্রবেশ করতেই ছাগলগুলি পৃথক হয়ে যার যার বড়িতে চলে যায়। একারণে রাখালিদের পালের থেকে পৃথক করতে তেমন কষ্ট হয় না।

বুন্দেলীতলা গ্রামের রওনক আলী জানান ছাগলের দলকে মাঠে চরাতে তেমন অসুবিধা হয়না। আর মাঠে চরানোর কারণে বাড়িতে তাদের বাড়তি খাবার দিতে হয়না। তিনি জানান একটি মা ছাগল বছরে দুবার করে বাচ্চা দেয়। ছাগল ভেদে অনেক সময় একটি ৩/৪ টি করে বাচ্চা দেয়। ৬ থেকে ৭ মাস বয়স হলে দাম হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।

বিশাল এই ছাগল দলে প্রজননক্ষম ৩টি ছাগল (পাঠা) রয়েছে। বর্তমান সময় বাজারে দেশি জাতের ছাগলের মাংশের চাহিদা বেশি থাকায় গ্রামের কৃষকরা দেশি ছাগল পালনে বেশি উত্সাহি বলেও জানান রওনাক আলী। বর্তামন চৌগাছা বাজারসহ আশেপাশে বাজার এবং গ্রামাঞ্চলে সুস্থসবল ছাগলের প্রতি কেজি মাংশ (যার ওজন ১২ থেকে ৪০/৪৫ কেজি) চর্বিসহ সাড়ে ৬শ’ এবং চর্বি বাদে ৭শ’টাকা বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপাড়া গ্রামের ভদু মন্ডল জানান তার বর্তমান ৪০টি দেশি জাতের ছাগল রয়েছে। অনুরুপভাবে বাদেখানপুর গ্রামের কিয়ামত আলীর ৪৪টি, আনিছারের ৫০টি, তোফাজ্জেল হোসেন তুফানের ২১টি ছাগল রয়েছে। ছাগল পালনকারিরা জানান ছাগলগুলি মাঝে মধ্যে মৌসুমী রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হয়। এ সময় কৃষকরা গ্রাম্য প্রশিক্ষন প্রাপ্ত পশু ডাক্তারের পরামর্শ নেন। বেশি আক্রান্ত হলে উপজেলার সরকারি পশু ডাক্তারের পরামর্শ নেন।

ছাগল পালন করে এসকল পরিবারে এখন অনেক স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। তাদের স্বাবলম্বী হওয়াকে অনুস্মরণ করে উপজেলার গ্রামে গ্রামে অনেক পরিবার এখন ছাগল পালনে ঝুকে পড়েছেন। তবে এলাকাবাসি জানেয়েছেন ছাগল পালনকারী পরিবারগুলোকে যদি সরকারিভাবে প্রশিক্ষন ও যথাযথভাবে সহযোগিতা প্রদান করা হলে ছাগল পালনে এলাকার কৃষকরা আরো উদ্বুদ্ধ হবে।

ট্যাগ :

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তপু রায়হানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি

চৌগাছায় ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে নিম্নবিত্তরা

প্রকাশিত : ১২:৫৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যশোরের চৌগাছায় ব্লাক বেঙ্গল ছাগল পালন করে নিম্নবৃত্ত পরিবার স্বাবলম্বী হচ্ছে। দৈনন্দিন কৃষি এবং গৃহস্থলির কাজের পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবত এসব পরিবারের পুরুষ-মহিলারা ছাগল পালন করে আসছেন। ফলে বছর শেষে প্রতিটি পরিবার ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বাড়তি আয় করছেন। এসব পরিবারের সাফল্য দেখে গ্রামের অনেকেই দেশি ব্লাক বেঙ্গল ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল পালনে ঝুঁকছেন।

যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বুন্দলিতা, চাঁদপাড়া, বাদেখানপুর, ভগবানপুর, ইলিশমারি গ্রামগুলি এখন ছাগল পালনকারী গ্রাম হিসেব বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। এক সময় চৌগাছার গ্রামে মানুষেরা সখের বসে দু একটা ছাগল পালন করতেন। বর্তমান এসব গ্রামে বাণিজ্যিকভাব ছাগল পালন শুরু করেছেন।

চৌগাছা মহেশপুর সড়কের পার্শ্ববর্তী ছোট্ট একটি গ্রাম বুন্দলিতলা। যেখানে অন্তত ১০টি পরিবার বাণিজ্যিকভাবে ছাগল পালন শুরু করেছেন। এ গ্রামের একটি মহল্লায় প্রায় তিন শতাধিক দেশি প্রজাতির নানা রঙের ছাগল রয়েছে। সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি পুরুষ-মহিলা মিলে তারা নিয়মিত ছাগলের পরিচর্যা করছেন। ফলে তাদের বছরে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বাড়তি টাকা আয় হচ্ছে।

সরেজমিন গ্রামটিতে গিয়ে কথা হয় ছাগল পালনকারী ওমর আলীর সাথে। তিনি জানান, তার মূল পেশা কৃষি কাজ। পাশাপাশি বাড়িতে দু একটা করে ছাগল পালন নতুন কিছু নয়। যুগযুগ ধরে চলে আসছে গ্রামের সমাজ তথা পরিবারে। বাড়িতে একটি ছাগল পালন করে বছর শেষে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এতে সংসারে বাড়তি খরচ হয় না। ফলে ছাগল পালন বেশ লাভজনক।

তিনি জানান, এই বিষয়টি অনুধাবন করেই গ্রামের মানুষ বেশি বেশি ছাগল পালনে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। বর্তমান ওমর আলীর ৩৫টি ছাগল রয়েছে। ওমর আলীর মতো বুন্দেলীতলা গ্রামের মোশারফ হোসেনের রয়েছে ৩৮টি ছাগল। মঈনুর রহমানের রয়েছে ৩২টি, রওনক আলীর রয়েছে ২২টি, শফিনুরের ৩০টিসহ দশটি পরিবারে প্রায় ৩শতাধিক ছাগল রয়েছে। প্রতিটি পরিবারই কৃষি কাজের পাশাপাশি ছাগল পালন করছেন।

পরিবারের ছোট-বড় সদস্যরা মিলে দল বেধে সকাল বিকাল দুইবার করে তাদের পোষা ছাগলগুলি মাঠে চরাতে নিয়ে যায়। মাঠে অনাবাদি জমিতে ছাগলের দল ছেড়ে দিয়ে তিন চার জন একসাথে পাহারা দেন। খাওয়া শেষে বাড়ি ফেরার সময় গ্রামে প্রবেশ করতেই ছাগলগুলি পৃথক হয়ে যার যার বড়িতে চলে যায়। একারণে রাখালিদের পালের থেকে পৃথক করতে তেমন কষ্ট হয় না।

বুন্দেলীতলা গ্রামের রওনক আলী জানান ছাগলের দলকে মাঠে চরাতে তেমন অসুবিধা হয়না। আর মাঠে চরানোর কারণে বাড়িতে তাদের বাড়তি খাবার দিতে হয়না। তিনি জানান একটি মা ছাগল বছরে দুবার করে বাচ্চা দেয়। ছাগল ভেদে অনেক সময় একটি ৩/৪ টি করে বাচ্চা দেয়। ৬ থেকে ৭ মাস বয়স হলে দাম হয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।

বিশাল এই ছাগল দলে প্রজননক্ষম ৩টি ছাগল (পাঠা) রয়েছে। বর্তমান সময় বাজারে দেশি জাতের ছাগলের মাংশের চাহিদা বেশি থাকায় গ্রামের কৃষকরা দেশি ছাগল পালনে বেশি উত্সাহি বলেও জানান রওনাক আলী। বর্তামন চৌগাছা বাজারসহ আশেপাশে বাজার এবং গ্রামাঞ্চলে সুস্থসবল ছাগলের প্রতি কেজি মাংশ (যার ওজন ১২ থেকে ৪০/৪৫ কেজি) চর্বিসহ সাড়ে ৬শ’ এবং চর্বি বাদে ৭শ’টাকা বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপাড়া গ্রামের ভদু মন্ডল জানান তার বর্তমান ৪০টি দেশি জাতের ছাগল রয়েছে। অনুরুপভাবে বাদেখানপুর গ্রামের কিয়ামত আলীর ৪৪টি, আনিছারের ৫০টি, তোফাজ্জেল হোসেন তুফানের ২১টি ছাগল রয়েছে। ছাগল পালনকারিরা জানান ছাগলগুলি মাঝে মধ্যে মৌসুমী রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হয়। এ সময় কৃষকরা গ্রাম্য প্রশিক্ষন প্রাপ্ত পশু ডাক্তারের পরামর্শ নেন। বেশি আক্রান্ত হলে উপজেলার সরকারি পশু ডাক্তারের পরামর্শ নেন।

ছাগল পালন করে এসকল পরিবারে এখন অনেক স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। তাদের স্বাবলম্বী হওয়াকে অনুস্মরণ করে উপজেলার গ্রামে গ্রামে অনেক পরিবার এখন ছাগল পালনে ঝুকে পড়েছেন। তবে এলাকাবাসি জানেয়েছেন ছাগল পালনকারী পরিবারগুলোকে যদি সরকারিভাবে প্রশিক্ষন ও যথাযথভাবে সহযোগিতা প্রদান করা হলে ছাগল পালনে এলাকার কৃষকরা আরো উদ্বুদ্ধ হবে।