০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

সবজির দাম চড়া কমেছে পেঁয়াজের

শীতের আগাম কয়েকটি সবজি বেশ আগেই বাজারে এসেছে, এর পরও রাজধানীতে কমেনি সবজির দাম, বরং চড়া। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব সবজিরই দাম বেড়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম প্রকারভেদে কেজিপ্রতি ৩-৫ টাকা কমেছে। পাশপাশি বাজারে কিছু কিছু চালের দামও কমেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা এবং শান্তিনগরসহ বিভিন্ন বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে শিমের। গত সপ্তাহে ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শিম গতকাল বিক্রি হয়েছে ১০০-১৪০ টাকায়। সে হিসেবে সপ্তাহের ব্যবধানে শিমের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। শিমের পাশাপাশি নতুন করে দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে টমোটো, ফুলকপি, শসা ও গাজর।

বাজারভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা কেজি। টমেটোর মতো গাজরের দামও কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। বাজার ও মানভেদে গাজর বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে। এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে শীতের আগাম সবজি ফুলকপি। তবে এ সবজিটির দাম শুরু থেকেই অনেকটাই নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। গত সপ্তাহে ৫০-৬০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া ফুলকপি এখন ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে নতুন আসা শীতের আগাম আরেক সবজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। শসার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা বেগুন, উস্তা, বরবটি, কাঁকরোল, করলা, পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, ঢেঁড়স, লাউয়ের দামও বেড়েছে।

বাজারভেদে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৫০ টাকা। গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া উস্তার দাম বেড়ে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটির দাম বেড়ে ৬০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, পটল, ঢেঁড়স, ধুন্দল ও ঝিঙার দাম গত সপ্তাহে ছিল কেজি ৩০-৪০ টাকা। তবে এখন সব সবজির কেজি ৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। তবে বয়লার মুরগি ও কাঁচা মরিচের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা পোয়া (২৫০ গ্রাম)। আর বয়লার মুরগির কেজি ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ক্রস পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৩ টাকা কমেছে। কারওয়ান বাজারের ক্রস পেঁয়াজের পাল্লা (পাঁচ কেজি) ১৭০ টাকা, দেশি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দিকে ১৫ দিনের ব্যবধানে বাজারে কিছু কিছু চালের দামও কমেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী নাজমুল জানান, গত ১৫ দিনে মিনিকেট চালের দাম বস্তায় (৫০ কেজি) অন্তত ১৫০ টাকা করে কমেছে। অন্যান্য চালের দামও কিছুটা কমেছে। ভালো মানের মিনিকেটের বস্তা ২ হাজার ৪৫০ টাকা, পাইজম ১ হাজার ৯৫০ টাকা, বিআর আটাশ ১ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর-১ নম্বর বাজারে নিউ বিল্লাল রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে সব ধরনের চালের দাম কমতে শুরু করেছে। সরকার ভারত থেকে চাল আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছে। এ কারণেই দেশি সিন্ডিকেটরা দাম কমাতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভালো মানের মিনিকেট চালের বস্তা ছিল ২ হাজার ৬০০ টাকা, বর্তমানে এই চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। একইভাবে বিআর আটাশ চাল বস্তাপ্রতি ২ হাজার টাকা থেকে কমে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, গুটি ও পাইরির দাম বস্তায় ৫০ টাকা কমে ১ হাজার ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহেই চালের দাম কমেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

সবজির দাম চড়া কমেছে পেঁয়াজের

প্রকাশিত : ০৩:৪০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৮

শীতের আগাম কয়েকটি সবজি বেশ আগেই বাজারে এসেছে, এর পরও রাজধানীতে কমেনি সবজির দাম, বরং চড়া। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব সবজিরই দাম বেড়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম প্রকারভেদে কেজিপ্রতি ৩-৫ টাকা কমেছে। পাশপাশি বাজারে কিছু কিছু চালের দামও কমেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা এবং শান্তিনগরসহ বিভিন্ন বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে শিমের। গত সপ্তাহে ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শিম গতকাল বিক্রি হয়েছে ১০০-১৪০ টাকায়। সে হিসেবে সপ্তাহের ব্যবধানে শিমের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। শিমের পাশাপাশি নতুন করে দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে টমোটো, ফুলকপি, শসা ও গাজর।

বাজারভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০-১০০ টাকা কেজি। টমেটোর মতো গাজরের দামও কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। বাজার ও মানভেদে গাজর বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে। এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে শীতের আগাম সবজি ফুলকপি। তবে এ সবজিটির দাম শুরু থেকেই অনেকটাই নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। গত সপ্তাহে ৫০-৬০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া ফুলকপি এখন ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে নতুন আসা শীতের আগাম আরেক সবজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৪০ টাকা। শসার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়। দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকা বেগুন, উস্তা, বরবটি, কাঁকরোল, করলা, পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, ঢেঁড়স, লাউয়ের দামও বেড়েছে।

বাজারভেদে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৫০ টাকা। গত সপ্তাহে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া উস্তার দাম বেড়ে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটির দাম বেড়ে ৬০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, পটল, ঢেঁড়স, ধুন্দল ও ঝিঙার দাম গত সপ্তাহে ছিল কেজি ৩০-৪০ টাকা। তবে এখন সব সবজির কেজি ৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। তবে বয়লার মুরগি ও কাঁচা মরিচের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা পোয়া (২৫০ গ্রাম)। আর বয়লার মুরগির কেজি ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ক্রস পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৩ টাকা কমেছে। কারওয়ান বাজারের ক্রস পেঁয়াজের পাল্লা (পাঁচ কেজি) ১৭০ টাকা, দেশি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দিকে ১৫ দিনের ব্যবধানে বাজারে কিছু কিছু চালের দামও কমেছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী নাজমুল জানান, গত ১৫ দিনে মিনিকেট চালের দাম বস্তায় (৫০ কেজি) অন্তত ১৫০ টাকা করে কমেছে। অন্যান্য চালের দামও কিছুটা কমেছে। ভালো মানের মিনিকেটের বস্তা ২ হাজার ৪৫০ টাকা, পাইজম ১ হাজার ৯৫০ টাকা, বিআর আটাশ ১ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর-১ নম্বর বাজারে নিউ বিল্লাল রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে সব ধরনের চালের দাম কমতে শুরু করেছে। সরকার ভারত থেকে চাল আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছে। এ কারণেই দেশি সিন্ডিকেটরা দাম কমাতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভালো মানের মিনিকেট চালের বস্তা ছিল ২ হাজার ৬০০ টাকা, বর্তমানে এই চাল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। একইভাবে বিআর আটাশ চাল বস্তাপ্রতি ২ হাজার টাকা থেকে কমে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, গুটি ও পাইরির দাম বস্তায় ৫০ টাকা কমে ১ হাজার ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহেই চালের দাম কমেছে।