রাজধানী ঢাকার শান্তিনগরে অবস্থিত হাবীবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে নবনির্মিত ১২ তলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ভবনের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য এস.এম. বাহালুল মজনুন চুন্নু, ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া এবং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু বকর চৌধুরীসহ কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনী ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র সাইদ খোকন বলেন, দেশে খুব কম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যারা নিজস্ব অর্থায়নে এমন বহুতল ভবন নির্মাণ করতে পারে। তাই কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে এই ভবন নির্মাণের জন্য গভর্নিং বডির সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। নবীনদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, আজ তোমাদের শুভদিন। এমনই একটি দিনে এ কলেজে আমাদেরকে বরণ করা হয়েছিল। নবীনদের একাডেমিক পড়াশুনার উপর নজর দিতে হবে, তোমরাই এমপি, মন্ত্রী বা মেয়র হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ঢাকা অনেক সমস্যার একটি শহর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এ শহেরের জন্য একটি কঠিন কাজ। আমরা সচেতন হলেই এই কঠিন কাজটি সহজ হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় আমাদের সচেতনতাই গিনিস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে আজ আমাদের এ শহর। আমরা সকলে সচেতন হয়ে ক্লিন সিটি নিশ্চিত করতে হবে। সাইদ খোকন বলেন, রোড সেফটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, আমরা এখনো নিরাপদ সড়ক দিতে পরিনি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, আশা করি আগামী দুই বছরের মধ্যে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পারবো। কলেজের ট্যাক্সের ব্যপারে সর্বোচ্চ ছাড় ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাসও দেন মেয়র সাইদ খোকন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া বলেন, গভর্নিং বডির সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে ১২ তলা ভবন নির্মিত হয়েছে। এই ভবনের মাধ্যমে নবিনদের শিক্ষার মান বজায় থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে এস এম বাহালুল মজনুন চুন্নু নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও অসাম্প্রদায়িক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করার পাশাপাশি সকল প্রকার অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু বকর চৌধুরী বলেন, স্বদেশপ্রেমের সাথে সাথে সমগ্র বিশ্বকে রাহুর গ্রাস থেকে মুক্ত করে শুদ্ধতা, শুভ্রতা ও মহত্বের দিকে নিয়ে যেতে বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কিত জ্ঞান অতীব জরুরী। এজন্য তিনি অভিভাবক মহল, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ছাত্রসংগঠনের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানের আমন্ত্রীত অতিথিবৃন্দ নবীন ছাত্রদের উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া বিকেলে কলেজে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এত সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও জলের গানের শিল্পীবৃন্দ। উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র কাকরাইল-মালিবাগ মহাসড়কের পাশে সবুজ ছায়া বেষ্টিত মনোরম পরিবেশে কলেজটি অবস্থিত। মাঝখানে সুপরিসর মসৃণ চত্ত্বর, সুবিশাল দিঘি ও একটি ৫ তলা, ৭ তলা ও ৮ তলা এবং ১২ তলা একাডেমিক বহুতল ভবন নিয়ে এই বিদ্যাপীঠ যা সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরার আওতাভূক্ত। বর্তমানে অত্র কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি ও ২৭টি বিষয়ে অনার্স কোর্স এবং ৯টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্সসহ সহশিক্ষাকার্যক্রম- রোভার স্কাউট, ডিবেটিং ক্লাব ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড চালু রয়েছে। পূর্ণ প্রতিভার বিকাশ, সর্বাধুনিক পাঠ্যসূচী প্রণয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে যুগপযোগী শিক্ষা, কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা ও নিয়ম মাফিক পড়াশুনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে সুযোগ্য মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার নিরন্তন কর্মযজ্ঞ হয়ে আসছে ক্যাম্পাসটিতে। ধূমপান, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত থাকায় ইতিমধ্যে কলেজটি সর্বমহলে সুনাম কুড়িয়েছে।
বিবি/ ইএম


























