১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আজ থেকে সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট

সংসদে পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’-এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে রবিবার সকাল ৬টা থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

সংগঠনটির সভাপতি সংসদ সদস্য ওয়াজিউদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।

পরিবহন শ্রমিকদের ঘোষিত আট দফ দাবি হল- সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে, শ্রমিকদের অর্থদণ্ড পাঁচ লাখ টাকা করা যাবে না, সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে, ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণী করতে হবে, ওয়েস্কেলে (ট্রাক ওজন স্কেল) জরিমানা কমানোসহ শাস্তি বাতিল করতে হবে, সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপক হারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

এদিকে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পরিবহন খাতে চলে আসা দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য বন্ধে আইনে রাখা শাস্তির বিধান পর্যাপ্ত নয়। মন্দের ভালো সেই আইনও মানতে রাজি নন পরিবহনমালিক ও শ্রমিকেরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন যুগোপযোগী আধুনিক ও উন্নত সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের দাবি করে আসছে।

এতে আরো বলা হয়, সেই দাবিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার আইন পাস করলেও বেশকিছু ধারা শ্রমিকস্বার্থের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। যে কারণে পরিবহন শ্রমিকদের চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আইনে সড়ক দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে গণ্য না করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। আমরা জানি দুর্ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটে না কিন্তু অপরাধ পরিকল্পিতভাবেই ঘটে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেছেন, দাবি মানতে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারকে সময় দেয়া হয়েছিল। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বাধ্য হয়ে রবিবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত টানা ৪৮ ঘণ্টা সারা দেশে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি (ধর্মঘট) পালন করবেন।

তিনি বলেন, এই সময় বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি এবং কিছু ক্ষেত্রে অটোরিকশার চলাচলও বন্ধ থাকবে। তবে রাস্তায় কেউ যানবাহন চালালে সাধারণ শ্রমিকেরা বাধা দেবেন না।

এর আগে একই দাবিতে গত ৭ আগস্ট থেকে ঢাকা বিভাগে সব ধরনের পণ্য পরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন শ্রমিক-মালিক ঐক্য পরিষদ। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে পরিষদ।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আজ থেকে সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট

প্রকাশিত : ০৯:২৫:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৮

সংসদে পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’-এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে রবিবার সকাল ৬টা থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

সংগঠনটির সভাপতি সংসদ সদস্য ওয়াজিউদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়।

পরিবহন শ্রমিকদের ঘোষিত আট দফ দাবি হল- সড়ক দুর্ঘটনায় মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে, শ্রমিকদের অর্থদণ্ড পাঁচ লাখ টাকা করা যাবে না, সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে, ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণী করতে হবে, ওয়েস্কেলে (ট্রাক ওজন স্কেল) জরিমানা কমানোসহ শাস্তি বাতিল করতে হবে, সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপক হারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

এদিকে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পরিবহন খাতে চলে আসা দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য বন্ধে আইনে রাখা শাস্তির বিধান পর্যাপ্ত নয়। মন্দের ভালো সেই আইনও মানতে রাজি নন পরিবহনমালিক ও শ্রমিকেরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন যুগোপযোগী আধুনিক ও উন্নত সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের দাবি করে আসছে।

এতে আরো বলা হয়, সেই দাবিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার আইন পাস করলেও বেশকিছু ধারা শ্রমিকস্বার্থের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। যে কারণে পরিবহন শ্রমিকদের চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আইনে সড়ক দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে গণ্য না করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। আমরা জানি দুর্ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটে না কিন্তু অপরাধ পরিকল্পিতভাবেই ঘটে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেছেন, দাবি মানতে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারকে সময় দেয়া হয়েছিল। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীকে স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বাধ্য হয়ে রবিবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত টানা ৪৮ ঘণ্টা সারা দেশে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি (ধর্মঘট) পালন করবেন।

তিনি বলেন, এই সময় বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি এবং কিছু ক্ষেত্রে অটোরিকশার চলাচলও বন্ধ থাকবে। তবে রাস্তায় কেউ যানবাহন চালালে সাধারণ শ্রমিকেরা বাধা দেবেন না।

এর আগে একই দাবিতে গত ৭ আগস্ট থেকে ঢাকা বিভাগে সব ধরনের পণ্য পরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন শ্রমিক-মালিক ঐক্য পরিষদ। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে পরিষদ।

বিবি/জেজে